৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী
স্ট্রিম ডেস্ক

‘কিছুটা তো চাই--হোক ভুল হোক মিথ্যে প্রবোধ,
অভিলাষী মন চন্দ্রে না পাক, জ্যোৎস্নায় পাক সামান্য ঠাঁই
কিছুটা তো চাই, কিছুটা তো চাই।’
এই কবিতার কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ শেষ পর্যন্ত জ্যোৎস্নায় ঠাঁই পেয়েছিলেন কি-না, তা জানতে চিঠি লিখতে হবে আকাশের ঠিকানায়। কারণ ১৯৯১ সালের ২১ জুন ৩৫ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমান এই ‘প্রেম ও দ্রোহের কবি’।
কবির পারিবারিক নাম ছিল মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ছোটবেলায় এই নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। লেখালেখির জগতে এসে নাম বদলে নেন। নামের আগে যোগ করেন ‘রুদ্র’, ‘মোহাম্মদ’-কে করেন ‘মুহম্মদ’আর ‘শহীদুল্লাহ’-কে ‘শহিদুল্লাহ’। কে জানে অমলকান্তির মতো ‘রোদ্দুর’ হতে চেয়েছিলো বলেই কি তিনি নামের পাশে ‘রুদ্র’ যোগ করেছিলেন কি-না!
স্বাধীনতার পর যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক দেশের সাহিত্যজগতে পরিবর্তন এনেছেন তাঁদের মধ্যে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ অন্যতম। কবির জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা সবই ছিল দেশের অস্থির সময়ে। ফলে রাজপথ থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কিংবা ক্ষমতা বদলের লড়াই থেকে কবিতার ভাষা নির্মাণে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর অবস্থান ছিল সুদৃঢ।
আশির দশকে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় গীতিকার। তাঁর লেখা গান শুধু বাংলাদেশে নয়, ওপার বাংলাতেও বেশ জনপ্রিয়।
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশাল রেডক্রস হাসপাতালে। স্থায়ী নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার সাহেবের মেঠ গ্রামে। তবে তাঁর লেখাপড়ায় হাতেখড়ি বা সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ, দুটোই তৈরি হয় এই নানাবাড়িতে। এসএসসির পর পিতামাতার ইচ্ছা ছিল ছেলে ডাক্তার হোক। কিন্তু রুদ্র সেই পথে আর হাঁটলেন না। ভর্তি হলেন ঢাকা কলেজে। দুই বছরে কলেজে ক্লাস করেছিলেন মাত্র ১৮টি! এর ফল দেখা গেল রেজাল্টে। এসএসসিতে চার বিষয়ে লেটার নিয়ে পাশ করা রুদ্র উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন দ্বিতীয় বিভাগে। বাকি সময়টা কেটেছিল সাহিত্য আর আড্ডার মিছিলে।
সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলেন কামাল চৌধুরী, আলী রিয়াজ, জাফর ওয়াজেদ, ইসহাক খানসহ একঝাঁক তরুণ সাহিত্যকর্মীকে।
উচ্চ মাধ্যমিকের পর রুদ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। তিনি ছিলেন সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র। কিন্তু নিজের হলের চেয়ে বেশি থাকতেন ফজলুল হক হলে বন্ধু কামাল চৌধুরী অথবা রেজা সেলিমের কক্ষে। ১৯৭৮ সালে রুদ্র ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মনোনয়নে তিনি সাহিত্য সম্পাদক পদে দাঁড়িয়েছিলেন। সেসময় রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তাঁরই বন্ধু ছাত্রলীগের কামাল চৌধুরী এবং জাসদ ছাত্রলীগের আলী রিয়াজ। সেই নির্বাচনে সাহিত্য সম্পাদক পদে জয়ী হন আলী রিয়াজ। রুদ্র সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে না এলেও ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস সবার সামনে স্পষ্ট করেন। ১৯৭৯ সালে অনার্স পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও অনুপস্থিতির জন্য তাঁকে পরীক্ষায় বসতে হয় ১৯৮০ সালে। ১৯৮৩ সালে লাভ করেন এমএ ডিগ্রী।
১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশের অস্থির রাজনৈতিক সময়ে প্রায় সকল আন্দোলনে কবি রুদ্র’র সশরীর অংশগ্রহণ ছিল। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন রুদ্র। এ কারণেই কেউ কেউ তাঁকে বলেন, ‘প্রতিবাদী রোমান্টিক কবি’।
১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয় রুদ্রর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘উপদ্রুত উপকূলে’। এই গ্রন্থেই স্থান পায় তাঁর বহুল আলোচিত কবিতা ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’। বইটি প্রকাশের দায়িত্বে ছিলেন আহমদ ছফা। এরপর ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’। পরে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় মানুষের মানচিত্র (১৯৮৪), ছোবল (১৯৮৬), গল্প (১৯৮৭), দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮) এবং মৌলিক মুখোশ (১৯৯০)।
কবির জীবদ্দশায় মোট সাতটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় নাট্যকাব্য বিষ বিরিক্ষের বীজ। শুধু কবি হিসেবেই নয়, একজন দক্ষ আবৃত্তিকার, গীতিকার ও সুরকার হিসেবেও তিনি সমানভাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি গান লিখেছেন এবং সেগুলোতে সুরারোপ করেছেন। তাঁর কালজয়ী কবিতা ‘আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে’ বাংলা জনপ্রিয় বাংলা গান হিসেবে পরিচিতি পায়।

‘অন্তর বাজাও’ নামে একটি গানের দলও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। এই দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ভ্রমণ ও সংগীত পরিবেশন করেছেন। জীবনের শেষদিকে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনাও করেছিলেন, কিন্তু মৃত্যু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়নি।
১৯৮১ সালের ২৯ জানুয়ারি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বিয়ে করেন লীমা নাসরিনকে। এই লীমা নাসরিনই পরবর্তী সময়ে ‘তসলিমা নাসরিন’নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। পাঁচ বছর সংসার করার পর ১৯৮৬ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
রুদ্র ব্যক্তিগত জীবনে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করতেন না। অনিয়ন্ত্রিত জীবনের কারণে খুব অল্প বয়সেই রোগ দানা বাঁধে তাঁর পাকস্থলীতে। পায়ের আঙুলে দেখা দিয়েছিল ‘বার্জার্স ডিজিজ’। কিন্তু অসুস্থতা নিয়েই তিনি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন দূর-দূরান্তের অনুষ্ঠানে কবিতা পড়তে ছুটে যেতেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে রুদ্র বেশ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। সেই একাকীত্বের সময়ে নিয়মিত আসতেন নীলক্ষেত-বাবুপুরায় কবি অসীম সাহার ‘ইত্যাদি’নামের প্রেসে। সেই নিঃসঙ্গ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে পরবর্তীতে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন—
‘কেউ তাকে সামান্য আশ্রয় দেয়নি। কেবল অসীম সাহা দিয়েছিল, নীলক্ষেতে তার টেবিলের বাঁ-পাশে রুদ্রকে একটা চেয়ার দিয়েছিল বসবার জন্য। রুদ্র সকাল, দুপুর, বিকেল ঐ একটি চেয়ারে নিমগ্ন বসে জীবন পার করতো।’
কবি লিখেছিলেন, ‘আমি একা, এই ব্রহ্মান্ডের ভেতর একটি বিন্দুর মতো আমি একা’। এই একাকীত্বের পেছনে হয়ত কবি নিজেই দায়ী কিংবা তাঁর পাখির ডানার মতো মুক্ত জীবন। ‘ বার্জার্স ডিজিজের’ কারণে ডাক্তার বলেছিলো পা বাঁচাতে হলে সিগারেট ছাড়তে হবে। কিন্তু রুদ্র পা ছেড়ে দিয়ে সিগারেট নিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার ফলে তাঁর নতুন ঠিকানা হয় হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের ২৩১ নম্বর কেবিন।
তবে ১৯৯১ সালের ২০ জুন ভালো হয়ে পশ্চিম রাজাবাজারের বাড়িতে ফিরে যান রুদ্র। কিন্তু পরদিন সেই নিঃসঙ্গ একাকী জীবনকে মুক্তি দিয়ে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চলে যান আকাশের ঠিকানায়। মৃত্যুর ৩৩ বছর পর ২০২৪ সালে সাহিত্যে অবদানের জন্য একুশে পদক ভূষিত হন তিনি।

‘কিছুটা তো চাই--হোক ভুল হোক মিথ্যে প্রবোধ,
অভিলাষী মন চন্দ্রে না পাক, জ্যোৎস্নায় পাক সামান্য ঠাঁই
কিছুটা তো চাই, কিছুটা তো চাই।’
এই কবিতার কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ শেষ পর্যন্ত জ্যোৎস্নায় ঠাঁই পেয়েছিলেন কি-না, তা জানতে চিঠি লিখতে হবে আকাশের ঠিকানায়। কারণ ১৯৯১ সালের ২১ জুন ৩৫ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমান এই ‘প্রেম ও দ্রোহের কবি’।
কবির পারিবারিক নাম ছিল মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ছোটবেলায় এই নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। লেখালেখির জগতে এসে নাম বদলে নেন। নামের আগে যোগ করেন ‘রুদ্র’, ‘মোহাম্মদ’-কে করেন ‘মুহম্মদ’আর ‘শহীদুল্লাহ’-কে ‘শহিদুল্লাহ’। কে জানে অমলকান্তির মতো ‘রোদ্দুর’ হতে চেয়েছিলো বলেই কি তিনি নামের পাশে ‘রুদ্র’ যোগ করেছিলেন কি-না!
স্বাধীনতার পর যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক দেশের সাহিত্যজগতে পরিবর্তন এনেছেন তাঁদের মধ্যে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ অন্যতম। কবির জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা সবই ছিল দেশের অস্থির সময়ে। ফলে রাজপথ থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কিংবা ক্ষমতা বদলের লড়াই থেকে কবিতার ভাষা নির্মাণে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর অবস্থান ছিল সুদৃঢ।
আশির দশকে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় গীতিকার। তাঁর লেখা গান শুধু বাংলাদেশে নয়, ওপার বাংলাতেও বেশ জনপ্রিয়।
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশাল রেডক্রস হাসপাতালে। স্থায়ী নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার সাহেবের মেঠ গ্রামে। তবে তাঁর লেখাপড়ায় হাতেখড়ি বা সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ, দুটোই তৈরি হয় এই নানাবাড়িতে। এসএসসির পর পিতামাতার ইচ্ছা ছিল ছেলে ডাক্তার হোক। কিন্তু রুদ্র সেই পথে আর হাঁটলেন না। ভর্তি হলেন ঢাকা কলেজে। দুই বছরে কলেজে ক্লাস করেছিলেন মাত্র ১৮টি! এর ফল দেখা গেল রেজাল্টে। এসএসসিতে চার বিষয়ে লেটার নিয়ে পাশ করা রুদ্র উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন দ্বিতীয় বিভাগে। বাকি সময়টা কেটেছিল সাহিত্য আর আড্ডার মিছিলে।
সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলেন কামাল চৌধুরী, আলী রিয়াজ, জাফর ওয়াজেদ, ইসহাক খানসহ একঝাঁক তরুণ সাহিত্যকর্মীকে।
উচ্চ মাধ্যমিকের পর রুদ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। তিনি ছিলেন সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র। কিন্তু নিজের হলের চেয়ে বেশি থাকতেন ফজলুল হক হলে বন্ধু কামাল চৌধুরী অথবা রেজা সেলিমের কক্ষে। ১৯৭৮ সালে রুদ্র ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মনোনয়নে তিনি সাহিত্য সম্পাদক পদে দাঁড়িয়েছিলেন। সেসময় রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তাঁরই বন্ধু ছাত্রলীগের কামাল চৌধুরী এবং জাসদ ছাত্রলীগের আলী রিয়াজ। সেই নির্বাচনে সাহিত্য সম্পাদক পদে জয়ী হন আলী রিয়াজ। রুদ্র সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে না এলেও ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস সবার সামনে স্পষ্ট করেন। ১৯৭৯ সালে অনার্স পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও অনুপস্থিতির জন্য তাঁকে পরীক্ষায় বসতে হয় ১৯৮০ সালে। ১৯৮৩ সালে লাভ করেন এমএ ডিগ্রী।
১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশের অস্থির রাজনৈতিক সময়ে প্রায় সকল আন্দোলনে কবি রুদ্র’র সশরীর অংশগ্রহণ ছিল। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন রুদ্র। এ কারণেই কেউ কেউ তাঁকে বলেন, ‘প্রতিবাদী রোমান্টিক কবি’।
১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয় রুদ্রর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘উপদ্রুত উপকূলে’। এই গ্রন্থেই স্থান পায় তাঁর বহুল আলোচিত কবিতা ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’। বইটি প্রকাশের দায়িত্বে ছিলেন আহমদ ছফা। এরপর ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’। পরে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় মানুষের মানচিত্র (১৯৮৪), ছোবল (১৯৮৬), গল্প (১৯৮৭), দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮) এবং মৌলিক মুখোশ (১৯৯০)।
কবির জীবদ্দশায় মোট সাতটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় নাট্যকাব্য বিষ বিরিক্ষের বীজ। শুধু কবি হিসেবেই নয়, একজন দক্ষ আবৃত্তিকার, গীতিকার ও সুরকার হিসেবেও তিনি সমানভাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি গান লিখেছেন এবং সেগুলোতে সুরারোপ করেছেন। তাঁর কালজয়ী কবিতা ‘আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে’ বাংলা জনপ্রিয় বাংলা গান হিসেবে পরিচিতি পায়।

‘অন্তর বাজাও’ নামে একটি গানের দলও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। এই দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ভ্রমণ ও সংগীত পরিবেশন করেছেন। জীবনের শেষদিকে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনাও করেছিলেন, কিন্তু মৃত্যু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়নি।
১৯৮১ সালের ২৯ জানুয়ারি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বিয়ে করেন লীমা নাসরিনকে। এই লীমা নাসরিনই পরবর্তী সময়ে ‘তসলিমা নাসরিন’নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। পাঁচ বছর সংসার করার পর ১৯৮৬ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
রুদ্র ব্যক্তিগত জীবনে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করতেন না। অনিয়ন্ত্রিত জীবনের কারণে খুব অল্প বয়সেই রোগ দানা বাঁধে তাঁর পাকস্থলীতে। পায়ের আঙুলে দেখা দিয়েছিল ‘বার্জার্স ডিজিজ’। কিন্তু অসুস্থতা নিয়েই তিনি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন দূর-দূরান্তের অনুষ্ঠানে কবিতা পড়তে ছুটে যেতেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে রুদ্র বেশ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। সেই একাকীত্বের সময়ে নিয়মিত আসতেন নীলক্ষেত-বাবুপুরায় কবি অসীম সাহার ‘ইত্যাদি’নামের প্রেসে। সেই নিঃসঙ্গ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে পরবর্তীতে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন—
‘কেউ তাকে সামান্য আশ্রয় দেয়নি। কেবল অসীম সাহা দিয়েছিল, নীলক্ষেতে তার টেবিলের বাঁ-পাশে রুদ্রকে একটা চেয়ার দিয়েছিল বসবার জন্য। রুদ্র সকাল, দুপুর, বিকেল ঐ একটি চেয়ারে নিমগ্ন বসে জীবন পার করতো।’
কবি লিখেছিলেন, ‘আমি একা, এই ব্রহ্মান্ডের ভেতর একটি বিন্দুর মতো আমি একা’। এই একাকীত্বের পেছনে হয়ত কবি নিজেই দায়ী কিংবা তাঁর পাখির ডানার মতো মুক্ত জীবন। ‘ বার্জার্স ডিজিজের’ কারণে ডাক্তার বলেছিলো পা বাঁচাতে হলে সিগারেট ছাড়তে হবে। কিন্তু রুদ্র পা ছেড়ে দিয়ে সিগারেট নিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার ফলে তাঁর নতুন ঠিকানা হয় হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের ২৩১ নম্বর কেবিন।
তবে ১৯৯১ সালের ২০ জুন ভালো হয়ে পশ্চিম রাজাবাজারের বাড়িতে ফিরে যান রুদ্র। কিন্তু পরদিন সেই নিঃসঙ্গ একাকী জীবনকে মুক্তি দিয়ে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চলে যান আকাশের ঠিকানায়। মৃত্যুর ৩৩ বছর পর ২০২৪ সালে সাহিত্যে অবদানের জন্য একুশে পদক ভূষিত হন তিনি।
.png)

আমাদের সমাজে বাবারা সাধারণত কম কথা বলেন। তারা মায়ের মতো বারবার জিজ্ঞেস করেন না খেয়েছ কি না, রাতে ফিরতে দেরি হলে বারবার ফোনও করেন না। তবে সংসারের সবচেয়ে বড় দায়িত্বটি প্রায়শই তাদের কাঁধেই থাকে। ফলে অনেক সন্তানের কাছে বাবা হয়ে ওঠেন নীরব উপস্থিতি—যার গুরুত্ব বোঝা যায় বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে।
১২ মিনিট আগে
বাবা দিবস এলে আমরা স্বাভাবিকভাবেই আবেগীয় আবহে ডুবে যাই। ফেসবুকের ওয়ালজুড়ে বাবার সঙ্গে তোলা ছবি কিংবা পুরোনো স্মৃতির রোমন্থন চোখে পড়ে। কিন্তু যাদের বাবা নেই? তাঁদের জন্য দিনটি তীব্র হাহাকারের। বাবা মানে বটগাছ, যার ছায়া মাথার ওপর থাকলে যেকোনো ঝড়ের বিরুদ্ধে বুক টান করে দাঁড়িয়ে থাকা যায়। এই নির্ভরতার জা
২ ঘণ্টা আগে
ভাতকাপড়ের দুশ্চিন্তা করেই সমস্ত জীবনটা কাটলো আপনার। কোনো শিল্প, কোনো সম্ভোগ, কোনো উদাসীনতা আপনাকে স্পর্শ করলো না।
৭ ঘণ্টা আগে
দেশের প্রথম আইএসএ স্বীকৃত সার্ফিং কোচ ও আন্তর্জাতিক লাইফসেভিং রেফারি সাইফুল্লাহ সিফাত। গত এক যুগে তাঁর হাত ধরে সার্ফিং শিখেছেন দেশ-বিদেশের ২০০-এর বেশি তরুণ-তরুণী।
১ দিন আগে