জন্মদিনে স্মরণ
তামান্না আনজুম

কোভিডের সময় সোশ্যাল মিডিয়া ছিল আমাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। সেসময় প্রায়ই দেখতাম ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে, একটি সিনেমার ভিডিওক্লিপ। দু’জন মানুষ মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছে, হাতে সুন্দর ফুল গাছ।
কমেন্টে পেলাম, ক্লিপটি ১৯৯০ সালের ইরানি সিনেমা ‘ক্লোজ-আপ’ থেকে নেওয়া। সিনেমা ইউটিউবেই পেয়ে গেলাম। তারপর একে একে দেখে নিলাম নির্মাতার বাকী সিনেমাগুলো। ‘থ্রু দ্য অলিভ ট্রিস, ‘টেস্ট অব চেরি’, ‘দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস’, ‘শিরিন’, ‘টেন’, ‘২৪ ফ্রেমস’। পরিচালকের নাম আব্বাস কিয়ারোস্তামি
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানি সিনেমা সেন্সরশিপের বেড়াজালে আটকা পড়ে। বিশেষ করে সিনেমায় নারীদের স্বাভাবিক উপস্থিতি তখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তখন ইরানি পরিচালকেরা সেন্সর বোর্ডের কাঁচি থেকে বাঁচার জন্য বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল বেছে নিলেন। শিশুদের প্রধান চরিত্র করে সিনেমা বানালে এই নিয়মকানুনের কড়াকড়ি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। কারণ, তাদের ক্ষেত্রে পর্দার নিয়মগুলো অতটা কঠোর ছিল না।
এরপর নির্মাতারা ক্যামেরা নিয়ে কখনো ছুটে যান রাস্তায়, কখনো পাহাড়ে, কখনো প্রত্যন্ত গ্রামে। নামিদামি তারকার বদলে সাধারণ মানুষদের দিয়ে অভিনয় করানো শুরু হয়। মেকআপ বা কৃত্রিম আলোর ব্যবহার একদম কমে যায়। তৈরি হয় এক নতুন ধারা, যার নাম দেওয়া হয় ‘পোয়েটিক রিয়ালিজম’ বা কাব্যিক বাস্তবতা। তারা সরাসরি রাজনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের মাধ্যমে জীবনের গভীর দর্শন তুলে ধরেন।

ইরানি সিনেমার এই নতুন ধারার পথিকৃৎ আব্বাস কিয়ারোস্তামি। তাঁর ‘হয়্যার ইজ দ্য ফ্রেন্ডস হোম? (১৯৮৭)’ সিনেমাটি দারুণ প্রশংসিত হয়। শিশুর চোখে সমাজকে দেখার একটা সফল প্রচেষ্টা সম্পন্ন হয় এই সিনেমার মাধ্যমে। এটি ছিল ‘কোকের’ ট্রিলজির প্রথম চলচ্চিত্র। উত্তর ইরানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রাম ‘কোকের’-কে কেন্দ্র করে এই ট্রিলজি।
সিনেমা ৩টির গল্প সরাসরি জীবন থেকে নেওয়া। ১৯৯০ সালে ইরানের মনজিল-রুদবায় আঘাত হানে শক্তিশালী ভূমিকম্প। প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। ভূমিকম্প পরবর্তী জীবন ও বাস্তবতাকে এক ফ্রেমে বন্দি করে বানানো হয়েছিল এই ট্রিলজি। যদিও তিনি সিনেমাগুলোকে টেকনিক্যালি ট্রিলজি মনে করেন নি।
সিনেমা বলতে আমরা বুঝি এতে পেশাদার অভিনেতা থাকবে, গান থাকবে, কাহিনীর সঙ্গে নাটকীয়তাও থাকবে। আব্বাস কিয়ারোস্তামি সেই প্রচলিত ধারাকে ভেঙেছেন।
১৯৭০ সালে নিজের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘দ্য ব্রেড অ্যান্ড অ্যালি’ দিয়ে নিজের প্রতিভা চিনিয়ে দেন তিনি। ‘দ্য ব্রেড অ্যান্ড অ্যালি’ নিয়ে তিনি এক জায়গায় লিখেছিলেন, চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম চলচ্চিত্রে কিয়ারোস্তামিকে কাজ করতে হয়েছিল অপেশাদার সব কর্মী নিয়ে। কেবল এক শিশু, ওই কুকুর আর সিনেমাটোগ্রাফার বাদে সবাই ছিল অপেশাদার।
শুধু প্রথম সিনেমাই নয়, আব্বাস কিয়ারোস্তামির অনেক চলচ্চিত্রেই আমরা অপেশাদার অভিনেতাদের দিয়ে অভিনয় করাতে দেখি। সিনেমার গল্প বলার ঢঙও অনেক আলাদা। তাই সবশ্রেণির দর্শকই যে তাঁর সিনেমা দেখে আনন্দ পাবেন, এমন নয়।
হয়ত এ কারণেই আব্বাস কিয়ারোস্তামি বলেছেন, ‘আমার চলচ্চিত্র দেখার সময় দর্শক ঘুমোবে। তাতে আমার আপত্তি নেই। কারণ আমি জানি, অনেক ভালো চলচ্চিত্র দেখার সময়ও ঘুম আসতে পারে।’

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আব্বাস কিয়ারোস্তামির জনপ্রিয়তার শুরু ১৯৯০ সালের ‘ক্লোজ-আপ’ সিনেমা দিয়ে। এর ৭ বছর পর ১৯৯৭ সালে আব্বাস কিয়ারোস্তামি নির্মাণ করেন ‘টেস্ট অফ চেরি’। এই সিনেমার মাধ্যমে বিশ্ব চলচিত্রে ইরানের নাম উঠে আসে। সিনেমার গল্পে দেখা যায়, একজন মানুষ আত্মহত্যা করতে চায়, সে তাকে মাটি দেওয়ার জন্য একজন লোক খুঁজছে। এই সহজ অথচ গভীর দর্শনের সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার ‘পাম ডি’অর’ জয় করে নেয়।
এর দুই বছর পর ২০০২ সালে আব্বাস কিয়ারোস্তামি নির্মাণ করেন ‘টেন’। এই সিনেমার পুরো শুটিং হয় চলন্ত গাড়ির ভেতর। গাড়ির ভেতর এক নারী চালক এবং তার ছেলে ও যাত্রীদের কথোপকথনের মাধ্যমে নারীদের না বলা কথা বেরিয়ে আসে।
২০০৮ সালে আব্বাস কিওরোস্তামি নির্মাণ করেন ‘শিরিন’। বিশ্ববিখ্যাত খসরু ও শিরিনের প্রেম কাহিনী নিয়ে। অনেকে সিনেমাটিকে বলে থাকেন চলচ্চিত্রের কবিতা। এতটাই নান্দনিক এই চলচ্চিত্র। একাধারে চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট, ডিরেকশন, সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং, মিউজিক, সাউন্ড , সেটসহ চলচ্চিত্রের সবকিছুতে থাকে কিয়ারোস্তামির ছোঁয়া। সেই ছোঁয়ায় সিনেমা হয়ে যায় কবিতা আর কবিতা হয়ে ওঠে জীবন।

কোভিডের সময় সোশ্যাল মিডিয়া ছিল আমাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। সেসময় প্রায়ই দেখতাম ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে, একটি সিনেমার ভিডিওক্লিপ। দু’জন মানুষ মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছে, হাতে সুন্দর ফুল গাছ।
কমেন্টে পেলাম, ক্লিপটি ১৯৯০ সালের ইরানি সিনেমা ‘ক্লোজ-আপ’ থেকে নেওয়া। সিনেমা ইউটিউবেই পেয়ে গেলাম। তারপর একে একে দেখে নিলাম নির্মাতার বাকী সিনেমাগুলো। ‘থ্রু দ্য অলিভ ট্রিস, ‘টেস্ট অব চেরি’, ‘দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস’, ‘শিরিন’, ‘টেন’, ‘২৪ ফ্রেমস’। পরিচালকের নাম আব্বাস কিয়ারোস্তামি
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানি সিনেমা সেন্সরশিপের বেড়াজালে আটকা পড়ে। বিশেষ করে সিনেমায় নারীদের স্বাভাবিক উপস্থিতি তখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তখন ইরানি পরিচালকেরা সেন্সর বোর্ডের কাঁচি থেকে বাঁচার জন্য বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল বেছে নিলেন। শিশুদের প্রধান চরিত্র করে সিনেমা বানালে এই নিয়মকানুনের কড়াকড়ি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। কারণ, তাদের ক্ষেত্রে পর্দার নিয়মগুলো অতটা কঠোর ছিল না।
এরপর নির্মাতারা ক্যামেরা নিয়ে কখনো ছুটে যান রাস্তায়, কখনো পাহাড়ে, কখনো প্রত্যন্ত গ্রামে। নামিদামি তারকার বদলে সাধারণ মানুষদের দিয়ে অভিনয় করানো শুরু হয়। মেকআপ বা কৃত্রিম আলোর ব্যবহার একদম কমে যায়। তৈরি হয় এক নতুন ধারা, যার নাম দেওয়া হয় ‘পোয়েটিক রিয়ালিজম’ বা কাব্যিক বাস্তবতা। তারা সরাসরি রাজনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের মাধ্যমে জীবনের গভীর দর্শন তুলে ধরেন।

ইরানি সিনেমার এই নতুন ধারার পথিকৃৎ আব্বাস কিয়ারোস্তামি। তাঁর ‘হয়্যার ইজ দ্য ফ্রেন্ডস হোম? (১৯৮৭)’ সিনেমাটি দারুণ প্রশংসিত হয়। শিশুর চোখে সমাজকে দেখার একটা সফল প্রচেষ্টা সম্পন্ন হয় এই সিনেমার মাধ্যমে। এটি ছিল ‘কোকের’ ট্রিলজির প্রথম চলচ্চিত্র। উত্তর ইরানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রাম ‘কোকের’-কে কেন্দ্র করে এই ট্রিলজি।
সিনেমা ৩টির গল্প সরাসরি জীবন থেকে নেওয়া। ১৯৯০ সালে ইরানের মনজিল-রুদবায় আঘাত হানে শক্তিশালী ভূমিকম্প। প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। ভূমিকম্প পরবর্তী জীবন ও বাস্তবতাকে এক ফ্রেমে বন্দি করে বানানো হয়েছিল এই ট্রিলজি। যদিও তিনি সিনেমাগুলোকে টেকনিক্যালি ট্রিলজি মনে করেন নি।
সিনেমা বলতে আমরা বুঝি এতে পেশাদার অভিনেতা থাকবে, গান থাকবে, কাহিনীর সঙ্গে নাটকীয়তাও থাকবে। আব্বাস কিয়ারোস্তামি সেই প্রচলিত ধারাকে ভেঙেছেন।
১৯৭০ সালে নিজের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘দ্য ব্রেড অ্যান্ড অ্যালি’ দিয়ে নিজের প্রতিভা চিনিয়ে দেন তিনি। ‘দ্য ব্রেড অ্যান্ড অ্যালি’ নিয়ে তিনি এক জায়গায় লিখেছিলেন, চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম চলচ্চিত্রে কিয়ারোস্তামিকে কাজ করতে হয়েছিল অপেশাদার সব কর্মী নিয়ে। কেবল এক শিশু, ওই কুকুর আর সিনেমাটোগ্রাফার বাদে সবাই ছিল অপেশাদার।
শুধু প্রথম সিনেমাই নয়, আব্বাস কিয়ারোস্তামির অনেক চলচ্চিত্রেই আমরা অপেশাদার অভিনেতাদের দিয়ে অভিনয় করাতে দেখি। সিনেমার গল্প বলার ঢঙও অনেক আলাদা। তাই সবশ্রেণির দর্শকই যে তাঁর সিনেমা দেখে আনন্দ পাবেন, এমন নয়।
হয়ত এ কারণেই আব্বাস কিয়ারোস্তামি বলেছেন, ‘আমার চলচ্চিত্র দেখার সময় দর্শক ঘুমোবে। তাতে আমার আপত্তি নেই। কারণ আমি জানি, অনেক ভালো চলচ্চিত্র দেখার সময়ও ঘুম আসতে পারে।’

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আব্বাস কিয়ারোস্তামির জনপ্রিয়তার শুরু ১৯৯০ সালের ‘ক্লোজ-আপ’ সিনেমা দিয়ে। এর ৭ বছর পর ১৯৯৭ সালে আব্বাস কিয়ারোস্তামি নির্মাণ করেন ‘টেস্ট অফ চেরি’। এই সিনেমার মাধ্যমে বিশ্ব চলচিত্রে ইরানের নাম উঠে আসে। সিনেমার গল্পে দেখা যায়, একজন মানুষ আত্মহত্যা করতে চায়, সে তাকে মাটি দেওয়ার জন্য একজন লোক খুঁজছে। এই সহজ অথচ গভীর দর্শনের সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার ‘পাম ডি’অর’ জয় করে নেয়।
এর দুই বছর পর ২০০২ সালে আব্বাস কিয়ারোস্তামি নির্মাণ করেন ‘টেন’। এই সিনেমার পুরো শুটিং হয় চলন্ত গাড়ির ভেতর। গাড়ির ভেতর এক নারী চালক এবং তার ছেলে ও যাত্রীদের কথোপকথনের মাধ্যমে নারীদের না বলা কথা বেরিয়ে আসে।
২০০৮ সালে আব্বাস কিওরোস্তামি নির্মাণ করেন ‘শিরিন’। বিশ্ববিখ্যাত খসরু ও শিরিনের প্রেম কাহিনী নিয়ে। অনেকে সিনেমাটিকে বলে থাকেন চলচ্চিত্রের কবিতা। এতটাই নান্দনিক এই চলচ্চিত্র। একাধারে চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট, ডিরেকশন, সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং, মিউজিক, সাউন্ড , সেটসহ চলচ্চিত্রের সবকিছুতে থাকে কিয়ারোস্তামির ছোঁয়া। সেই ছোঁয়ায় সিনেমা হয়ে যায় কবিতা আর কবিতা হয়ে ওঠে জীবন।
.png)

প্রতি বছর বাবা দিবস এলেই ফেসবুকের হোমপেজ ভরে যায় বাবাকে নিয়ে লেখা সুন্দর সুন্দর কথা আর স্মৃতিতে। বাবা সুপারম্যান, বাবা সব আবদার পূরণ করেছেন; এমন অনেককিছু। আমি কখনও তেমন লিখেছি কি-না মনে পড়ে না, লেখার কথা না।
১ দিন আগে
আমাদের সমাজে বাবারা সাধারণত কম কথা বলেন। তারা মায়ের মতো বারবার জিজ্ঞেস করেন না খেয়েছ কি না, রাতে ফিরতে দেরি হলে বারবার ফোনও করেন না। তবে সংসারের সবচেয়ে বড় দায়িত্বটি প্রায়শই তাদের কাঁধেই থাকে। ফলে অনেক সন্তানের কাছে বাবা হয়ে ওঠেন নীরব উপস্থিতি—যার গুরুত্ব বোঝা যায় বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে।
১ দিন আগে
স্বাধীনতার পর যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক দেশের সাহিত্যজগতে পরিবর্তন এনেছেন তাঁদের মধ্যে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ অন্যতম। কবির জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা সবই ছিল দেশের অস্থির সময়ে।
১ দিন আগে
বাবা দিবস এলে আমরা স্বাভাবিকভাবেই আবেগীয় আবহে ডুবে যাই। ফেসবুকের ওয়ালজুড়ে বাবার সঙ্গে তোলা ছবি কিংবা পুরোনো স্মৃতির রোমন্থন চোখে পড়ে। কিন্তু যাদের বাবা নেই? তাঁদের জন্য দিনটি তীব্র হাহাকারের। বাবা মানে বটগাছ, যার ছায়া মাথার ওপর থাকলে যেকোনো ঝড়ের বিরুদ্ধে বুক টান করে দাঁড়িয়ে থাকা যায়। এই নির্ভরতার জা
১ দিন আগে