মাহজাবিন নাফিসা

আমি যেসময় বড় হয়েছি, তখন স্যাটেলাইট টিভির জয়জয়কার। হরেক রকম বেসরকারি টিভি চ্যানেলে ছিল নানা কিছু দেখার জিনিস। নাটক, সিনেমা, রান্নার অনুষ্ঠান, টকশো—কিছুরই অভাব ছিল না, অভাব ছিল ছোটদের অনুষ্ঠানের।
ছোটদের জন্য কিছু দেখতে গেলে ফিরে যেতে হত বিটিভিতে। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন কার্টুনের পাশাপাশি বিটিভিতে সম্ভবত মঙ্গলবার হতো পাপেট শো—‘মনের কথা।’ মনের কথা অনুষ্ঠানে গল্পের ছলে ছবি আঁকা শেখাতেন দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘মনের কথা, আসো!’ বলে ডেকে নেয় পারুল। সঙ্গে যোগ দেয় বাউল ভাই আর ষাঁড় ভাই। কোনো কোনো পর্বে এদের সঙ্গে থাকে পাখি, প্রজাপতি। এদের খুনসুটির মধ্যে হঠাৎ ফ্রেমে চলে আসেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁকে সবাই ডাকে ‘শিল্পী ভাই’ নামে। তিনি পাতা আঁকানো শেখান। তুলির আঁচড়ে আঁকেন ফুল, বন, গ্রাম। শেখান ছবিতে আলো-ছায়ার খেলা, শিখিয়ে দেন যেকোনো কিছু আঁকার সহজ বুদ্ধি।
টিভির ফ্রেমের একপাশে রাখা সেই ক্যানভাসে তিনি ছিবি আঁকা শিখিয়েছেন আমাদের। একটানে বা সহজেই বেড়াল বা পাখি আঁকা। টিভিতে দেখে তাঁর কাছেই শিখেছি কীভাবে জলরং মেশাতে হয়, হাল্কা রঙের পাশে একই রঙ একটু গাড় করে দিলেই হয়ে যায় সেই রঙের ছায়া বা অন্ধকার।
শিশুদের সঙ্গে কথা বলার এক অন্যরকম ভাষা
টেলিভিশনে শিশুদের অনুষ্ঠান মানেই একসময় ছিল উপদেশ বা নীতিকথা। কিন্তু ‘মনের কথা’ দিয়ে অন্য পথ বেছে নিলেন মুস্তাফা মনোয়ার।
এখানে কেউ শিশুদের জন্য স্কুলের মতো উপদেশ দিত না। ছোট্ট মেয়ে পারুল, গানপাগল বাউল ভাই আর রসিক ষাঁড় ভাই গল্প করত, প্রশ্ন করত, তর্ক করত, হাসত। সেই কথোপকথনের মধ্যেই যোগ দিতেন দাদু ভাই বা শিল্পী ভাই। কখনো ছবি আঁকতেন, কখনো গল্প বলতেন, কখনো খুব সহজ একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই শিশুদের সামনে খুলে দিতেন নতুন একটি জগত।
আজ শিক্ষাবিজ্ঞানে যাকে ‘লার্নিং থ্রু স্টোরিটেলিং’ বলা হয়, ‘মনের কথা’ অনেক আগেই সেই পথেই হেঁটেছিল। তখন হয়ত এই শব্দগুলো আমাদের অভিধানে ছিল না, কিন্তু অনুষ্ঠানটি ঠিকই তার কাজ করে গেছে।
পারুলের কৌতুহলী মন
মনের কথার মূল কৌশল ছিল, এখানে প্রশ্ন করাকে উৎসাহ দেওয়া হতো। পারুল ছিল কৌতূহলের প্রতীক। সে এমন সব প্রশ্ন করত, যেগুলো আমাদের মনেও ঘুরত। পাখি কেন ওড়ে, গাছ লাগানো দরকার কেন বা একটি ছবি কয়েকটি রেখা দিয়েই কীভাবে তৈরি হয়—এমন কৌতুহলী প্রশ্নে মেতে থাকত। বাউল ভাই—যার গাছ কাটা বা এমন কোনো অন্যায় দেখলেই মাথা গরম হয়ে যায়, সেই গরম মাথা ঠাণ্ডা হতো শুধু গান গাইলে। মনের সুখে একতারা বাজিয়ে গান গায় বাউল, আর সঙ্গে মাথা দুলিয়ে তাল দেয় ষাঁড় ভাই। অন্যায় দেখলেই তাঁর মন চায় শিং দিয়ে গুঁতিয়ে দিতে!
শুধু ছবি আঁকা নয়, এই অনুষ্ঠান থেকে আমি বাউল গান শুনেছি, দেখেছি সুক্ষভাবে কীভাবে কথার ছলে ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে দাগ কেটে দেওয়া যায়। পাখি শিকার, গাছ কাটা, প্রজাপতি ধরা—এগুলোতে তারা কষ্ট পায়। তার চেয়ে এদের দেখে ছবি আঁকা যায়, ধরে রাখতে চাইলে ছবি এঁকে তা করা যায়।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বা বুদ্ধিগুলো কখনো স্কুলের বই পড়ে শিখিনি, শিখেছিলাম মনের কথা দেখে। গল্প, ছবি আর হাসির ভেতর দিয়ে। দুপুরে খেয়ে দেয়ে ভাতঘুম দেওয়ার সময় ঘুমের বদলে বসে পড়তাম টিভির সামনে।
একটি সাদা কাগজ, কয়েকটি রেখা, আর কল্পনার শুরু
বিটিভির নিজস্ব মুস্তাফা মনোয়ারের এই অনুষ্ঠান শুধু আঁকা শেখানোর বিষয় ছিল না। এটি শিশুদের শেখাত, একটি ফাঁকা কাগজকে ভয় পেতে নেই। ভুল করলেও সমস্যা নেই। একটি রেখা থেকে আরেকটি রেখা জন্ম নেয়, তারপর ধীরে ধীরে একটি ছবি তৈরি হয়। আজ সৃজনশীলতার শিক্ষা নিয়ে যত আলোচনা হয়, মনের কথা সেই সাহসটাই দিত। তাই সেখানে পাখি তাঁর ঠোঁটে তুলি ধরে ছবি আঁকত, ষাঁড় ভাইও বাউলের সাথে রেগে গিয়ে ছবি একে দেখিয়ে দিতো—সবাই ছবি আঁকতে পারে।
লোককথা আর আধুনিকতার এক সেতুবন্ধন
অনুষ্ঠানের চরিত্রগুলোর মধ্যেও ছিল বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক শিকড়।
‘পারুল’ নামটি নেওয়া হয়েছিল বাংলা লোককথা সাত ভাই চম্পা থেকে। এটি ছিল সচেতনভাবে নেওয়া একটি সাংস্কৃতিক সিদ্ধান্ত। আধুনিক টেলিভিশনের পর্দায় লোকজ ঐতিহ্যকে শিশুদের কাছে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা।
একইভাবে বাউল ভাইয়ের উপস্থিতি, গান, কথাবার্তা কিংবা পাপেটের ব্যবহার—সবকিছু মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি শুধু বিনোদন নয়, বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গেও আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
শুধু পাপেট নয়, একটি দর্শন
মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের ‘পাপেট ম্যান’ নামে পরিচিত। তবে তাঁর কাজ শুধু পাপেট বানানো ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিশুদের কল্পনাশক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। তাই পাপেট তাঁর কাছে ছিল একটি মাধ্যম।
তিনি কখনও শিশুদের ছোট করে দেখেননি। শিশুদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলতেন, যেন শিশুরাও সমান গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ—যারা প্রশ্ন করতে পারে, নতুন কিছু ভাবতে পারে, নিজের মতো করে পৃথিবীকে দেখতে পারে।
আজ স্মার্টফোনের যুগে কোনো কিছু শেখা বা ‘ইন্সপায়ার্ড’ হওয়া খুবই সহজ। একটি শিশু ছবি আঁকা শিখতে চাইলে ইউটিউব খুলে হাজারো ভিডিও পেয়ে যায়। কিন্তু আমাদের সময় মনের কথা ছিল ছবি আঁকার ক্লাস। আঁকা ও কল্পনার ভেতরে যে গভীর মিল, তা শিখিয়েছেন শিল্পী ভাই।
অনুষ্ঠানটি টানা প্রায় ১২ বছর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয় এবং একাধিক প্রজন্মের শৈশবের অংশ হয়ে ওঠে।
কেন এখনো মানুষ অনুষ্ঠানটি ভুলতে পারে না
মুস্তফা মনোয়ার শুধু শিশুদের ছবি আঁকা শেখাননি, তিনি শিশুদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন, শিল্প কোনো কঠিন বিষয় নয়, চাইলেই সহজেই ছবি একে ফেলা যায়। হয়তো সে কারণেই, এত বছর পরও চোখ বন্ধ করলেই কানে ভেসে আসে বাউল ভাইয়ের গলা ছেড়ে গাওয়া গান, পারুলের হাসি, আর ষাঁড় ভাইয়ের সেই চিরচেনা রসিকতা। আর তাদের মাঝখানে ভেসে ওঠে দাদু ভাইয়ের ধৈর্যভরা কণ্ঠ। তিনি শুধু সাদা কাগজে ছবি আঁকতেন না, তিনি আঁকতেন আমাদের পুরো শৈশবের ক্যানভাস।

আমি যেসময় বড় হয়েছি, তখন স্যাটেলাইট টিভির জয়জয়কার। হরেক রকম বেসরকারি টিভি চ্যানেলে ছিল নানা কিছু দেখার জিনিস। নাটক, সিনেমা, রান্নার অনুষ্ঠান, টকশো—কিছুরই অভাব ছিল না, অভাব ছিল ছোটদের অনুষ্ঠানের।
ছোটদের জন্য কিছু দেখতে গেলে ফিরে যেতে হত বিটিভিতে। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন কার্টুনের পাশাপাশি বিটিভিতে সম্ভবত মঙ্গলবার হতো পাপেট শো—‘মনের কথা।’ মনের কথা অনুষ্ঠানে গল্পের ছলে ছবি আঁকা শেখাতেন দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘মনের কথা, আসো!’ বলে ডেকে নেয় পারুল। সঙ্গে যোগ দেয় বাউল ভাই আর ষাঁড় ভাই। কোনো কোনো পর্বে এদের সঙ্গে থাকে পাখি, প্রজাপতি। এদের খুনসুটির মধ্যে হঠাৎ ফ্রেমে চলে আসেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁকে সবাই ডাকে ‘শিল্পী ভাই’ নামে। তিনি পাতা আঁকানো শেখান। তুলির আঁচড়ে আঁকেন ফুল, বন, গ্রাম। শেখান ছবিতে আলো-ছায়ার খেলা, শিখিয়ে দেন যেকোনো কিছু আঁকার সহজ বুদ্ধি।
টিভির ফ্রেমের একপাশে রাখা সেই ক্যানভাসে তিনি ছিবি আঁকা শিখিয়েছেন আমাদের। একটানে বা সহজেই বেড়াল বা পাখি আঁকা। টিভিতে দেখে তাঁর কাছেই শিখেছি কীভাবে জলরং মেশাতে হয়, হাল্কা রঙের পাশে একই রঙ একটু গাড় করে দিলেই হয়ে যায় সেই রঙের ছায়া বা অন্ধকার।
শিশুদের সঙ্গে কথা বলার এক অন্যরকম ভাষা
টেলিভিশনে শিশুদের অনুষ্ঠান মানেই একসময় ছিল উপদেশ বা নীতিকথা। কিন্তু ‘মনের কথা’ দিয়ে অন্য পথ বেছে নিলেন মুস্তাফা মনোয়ার।
এখানে কেউ শিশুদের জন্য স্কুলের মতো উপদেশ দিত না। ছোট্ট মেয়ে পারুল, গানপাগল বাউল ভাই আর রসিক ষাঁড় ভাই গল্প করত, প্রশ্ন করত, তর্ক করত, হাসত। সেই কথোপকথনের মধ্যেই যোগ দিতেন দাদু ভাই বা শিল্পী ভাই। কখনো ছবি আঁকতেন, কখনো গল্প বলতেন, কখনো খুব সহজ একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই শিশুদের সামনে খুলে দিতেন নতুন একটি জগত।
আজ শিক্ষাবিজ্ঞানে যাকে ‘লার্নিং থ্রু স্টোরিটেলিং’ বলা হয়, ‘মনের কথা’ অনেক আগেই সেই পথেই হেঁটেছিল। তখন হয়ত এই শব্দগুলো আমাদের অভিধানে ছিল না, কিন্তু অনুষ্ঠানটি ঠিকই তার কাজ করে গেছে।
পারুলের কৌতুহলী মন
মনের কথার মূল কৌশল ছিল, এখানে প্রশ্ন করাকে উৎসাহ দেওয়া হতো। পারুল ছিল কৌতূহলের প্রতীক। সে এমন সব প্রশ্ন করত, যেগুলো আমাদের মনেও ঘুরত। পাখি কেন ওড়ে, গাছ লাগানো দরকার কেন বা একটি ছবি কয়েকটি রেখা দিয়েই কীভাবে তৈরি হয়—এমন কৌতুহলী প্রশ্নে মেতে থাকত। বাউল ভাই—যার গাছ কাটা বা এমন কোনো অন্যায় দেখলেই মাথা গরম হয়ে যায়, সেই গরম মাথা ঠাণ্ডা হতো শুধু গান গাইলে। মনের সুখে একতারা বাজিয়ে গান গায় বাউল, আর সঙ্গে মাথা দুলিয়ে তাল দেয় ষাঁড় ভাই। অন্যায় দেখলেই তাঁর মন চায় শিং দিয়ে গুঁতিয়ে দিতে!
শুধু ছবি আঁকা নয়, এই অনুষ্ঠান থেকে আমি বাউল গান শুনেছি, দেখেছি সুক্ষভাবে কীভাবে কথার ছলে ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে দাগ কেটে দেওয়া যায়। পাখি শিকার, গাছ কাটা, প্রজাপতি ধরা—এগুলোতে তারা কষ্ট পায়। তার চেয়ে এদের দেখে ছবি আঁকা যায়, ধরে রাখতে চাইলে ছবি এঁকে তা করা যায়।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বা বুদ্ধিগুলো কখনো স্কুলের বই পড়ে শিখিনি, শিখেছিলাম মনের কথা দেখে। গল্প, ছবি আর হাসির ভেতর দিয়ে। দুপুরে খেয়ে দেয়ে ভাতঘুম দেওয়ার সময় ঘুমের বদলে বসে পড়তাম টিভির সামনে।
একটি সাদা কাগজ, কয়েকটি রেখা, আর কল্পনার শুরু
বিটিভির নিজস্ব মুস্তাফা মনোয়ারের এই অনুষ্ঠান শুধু আঁকা শেখানোর বিষয় ছিল না। এটি শিশুদের শেখাত, একটি ফাঁকা কাগজকে ভয় পেতে নেই। ভুল করলেও সমস্যা নেই। একটি রেখা থেকে আরেকটি রেখা জন্ম নেয়, তারপর ধীরে ধীরে একটি ছবি তৈরি হয়। আজ সৃজনশীলতার শিক্ষা নিয়ে যত আলোচনা হয়, মনের কথা সেই সাহসটাই দিত। তাই সেখানে পাখি তাঁর ঠোঁটে তুলি ধরে ছবি আঁকত, ষাঁড় ভাইও বাউলের সাথে রেগে গিয়ে ছবি একে দেখিয়ে দিতো—সবাই ছবি আঁকতে পারে।
লোককথা আর আধুনিকতার এক সেতুবন্ধন
অনুষ্ঠানের চরিত্রগুলোর মধ্যেও ছিল বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক শিকড়।
‘পারুল’ নামটি নেওয়া হয়েছিল বাংলা লোককথা সাত ভাই চম্পা থেকে। এটি ছিল সচেতনভাবে নেওয়া একটি সাংস্কৃতিক সিদ্ধান্ত। আধুনিক টেলিভিশনের পর্দায় লোকজ ঐতিহ্যকে শিশুদের কাছে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা।
একইভাবে বাউল ভাইয়ের উপস্থিতি, গান, কথাবার্তা কিংবা পাপেটের ব্যবহার—সবকিছু মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি শুধু বিনোদন নয়, বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গেও আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
শুধু পাপেট নয়, একটি দর্শন
মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের ‘পাপেট ম্যান’ নামে পরিচিত। তবে তাঁর কাজ শুধু পাপেট বানানো ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিশুদের কল্পনাশক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। তাই পাপেট তাঁর কাছে ছিল একটি মাধ্যম।
তিনি কখনও শিশুদের ছোট করে দেখেননি। শিশুদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলতেন, যেন শিশুরাও সমান গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ—যারা প্রশ্ন করতে পারে, নতুন কিছু ভাবতে পারে, নিজের মতো করে পৃথিবীকে দেখতে পারে।
আজ স্মার্টফোনের যুগে কোনো কিছু শেখা বা ‘ইন্সপায়ার্ড’ হওয়া খুবই সহজ। একটি শিশু ছবি আঁকা শিখতে চাইলে ইউটিউব খুলে হাজারো ভিডিও পেয়ে যায়। কিন্তু আমাদের সময় মনের কথা ছিল ছবি আঁকার ক্লাস। আঁকা ও কল্পনার ভেতরে যে গভীর মিল, তা শিখিয়েছেন শিল্পী ভাই।
অনুষ্ঠানটি টানা প্রায় ১২ বছর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয় এবং একাধিক প্রজন্মের শৈশবের অংশ হয়ে ওঠে।
কেন এখনো মানুষ অনুষ্ঠানটি ভুলতে পারে না
মুস্তফা মনোয়ার শুধু শিশুদের ছবি আঁকা শেখাননি, তিনি শিশুদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন, শিল্প কোনো কঠিন বিষয় নয়, চাইলেই সহজেই ছবি একে ফেলা যায়। হয়তো সে কারণেই, এত বছর পরও চোখ বন্ধ করলেই কানে ভেসে আসে বাউল ভাইয়ের গলা ছেড়ে গাওয়া গান, পারুলের হাসি, আর ষাঁড় ভাইয়ের সেই চিরচেনা রসিকতা। আর তাদের মাঝখানে ভেসে ওঠে দাদু ভাইয়ের ধৈর্যভরা কণ্ঠ। তিনি শুধু সাদা কাগজে ছবি আঁকতেন না, তিনি আঁকতেন আমাদের পুরো শৈশবের ক্যানভাস।
.png)

আশি আর নব্বই দশকে যাদের শৈশব কেটেছে, তারা জানেন, শুধু কাঠ আর কাপড়ের টুকরো দিয়ে একজন মানুষ কীভাবে পুরো একটা জাতির শৈশব রঙিন করে দিয়েছিলেন। সেই মানুষটিকে ‘পাপেটম্যান’ ছাড়া আর কী নামেই বা ডাকা যায়?
৩৩ মিনিট আগে
প্রাচ্যদেশে প্রতিমার বিশেষ ভূমিকা আছে, হয়তো ঐতিহাসিক প্রয়োজনেই এই প্রতিমাকাণ্ড ঘটেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিমার অবসান ঘটলেও নিকট ও দূরপ্রাচ্যে এবং ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় আকছার রয়ে গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
টেলিভিশনের পর্দায় তাঁকে সবসময় দেখেছি সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ হিসেবে। সামনে কাগজ, হাতে রঙ তুলি। কয়েকটি আঁচড়েই ফুটে উঠত পাখি, ফুল, নদী কিংবা গ্রামের কোনো দৃশ্য। ছবি আঁকছেন ‘শিল্পী ভাই’ মুস্তাফা মনোয়ার। শুধু সাদা ক্যানভাস নয়, আমাদের শৈশবকেও রাঙিয়ে দিয়েছেন তাঁর রঙ-তুলির আঁচড়ে।
৪ ঘণ্টা আগে
সকালে অফিসের ডেস্কে বসে কাজ করছিলাম। হঠাৎই খবরটা এল—মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। তখন তাঁর মৃত্যুর খবরটা স্রেফ ফাইল করার মতো আরেকটা খবর ছিল আমার কাছে।কাজের অংশ হিসেবে সংবাদটি লিখলাম, ওয়েবসাইটে আপলোড করলাম, এবং পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্টে চলে গেলাম।
৬ ঘণ্টা আগে