তাহসিনা এনাম তৃষা

সকালে অফিসের ডেস্কে বসে কাজ করছিলাম। হঠাৎই খবরটা এল—মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। তখন তাঁর মৃত্যুর খবরটা স্রেফ ফাইল করার মতো আরেকটা খবর ছিল আমার কাছে।
কাজের অংশ হিসেবে সংবাদটি লিখলাম, ওয়েবসাইটে আপলোড করলাম, এবং পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্টে চলে গেলাম। কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে শিরোনামটা আমাকে ছাড়ল না। এটা যেন আমার শৈশবের একটা প্রায় ভুলে যাওয়া কোণের দরজা খুলে দিল।
আমি বড় হয়েছি এমন এক সময়ে যখন কম্পিউটার আমাদের ঘরে ঢুকে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম খেলতাম। ঘরের তাকে সাজানো থাকত টম অ্যান্ড জেরি, মিকি মাউস আর অসংখ্য কার্টুনের সিডি। তবুও সেই সব ডিজিটাল বিনোদনের মধ্যেও বিটিভির একটি অনুষ্ঠান আমাদের মনোযোগ এমনভাবে আটকে রাখত, যা ব্যাখ্যা করার মতো নয়।
সেটা ছিল ‘মনের কথা’।
সপ্তাহের কোন দিন সম্প্রচারিত হতো মনে নেই। এর শুরুর সুরটাও আর মনে নেই। কিন্তু এর চরিত্রগুলো আমার মনে আছে। তারা যেন আমাদের পাড়ার প্রতিবেশী।
সেই ছোট্ট মিষ্টি মেয়ে পারুল, যার সরলতায় সবসময় ছিল মমতার ছোঁয়া। ছিল বাউল ভাই, গেরুয়া পোশাকে একতারা হাতে, যার দুষ্টুমিভরা ব্যঙ্গে প্রায়ই থাকত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ছিল সেই বন্ধুত্বপরায়ণ ষাঁড়, যাকে পারুল ভালোবেসে ডাকত ‘ষাঁড় ভাই’ বলে। আর ছিলেন শিল্পী ভাই। তুলি আর ক্যানভাসের পেছনে ছিলেন স্বয়ং মুস্তাফা মনোয়ার।
প্রায় প্রতিটি পর্বে তিনি সাধারণ রংকে বদলে দিতেন পাঠে—শুধু আঁকার পাঠ নয়, কল্পনার পাঠেও। আমার প্রজন্মের অনেক শিশুর কাছে তিনি ছিলেন আমাদের একেবারে প্রথম ড্রয়িং টিচার।
একটি বিশেষ পর্ব বছরের পর বছর ধরে আমার মনে গেঁথে আছে।
বাউল ভাই একটা ফুলঝাড়ু হাতে নিয়ে হাজির হলেন, রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে তাড়া করছেন তাদের, যারা তার বাড়ির সামনে আবর্জনা ফেলে গেছে। পারুল জিজ্ঞেস করল, সে কি তাদের সাথে ঝগড়া করতে চায়? বাউল ভাই বলল, তার কাছে আরও ভালো একটা বুদ্ধি আছে। সে শুধু আবর্জনাগুলো কুড়িয়ে সেগুলো ফেলে আসবে দোষীদের বাড়ির সামনে।
আলোচনা এগোতে থাকল, পরিবেশ নরম হয়ে এল। প্রতিশোধের অস্ত্র হওয়ার বদলে সেই সাধারণ ঝাড়ুটি খুঁজে পেল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি উদ্দেশ্য। শিল্পী ভাই ঝাড়ু থেকে বানিয়ে ফেললেন তুলি, আর আঁকলেন ছবি।
এটা ছিল খুবই সাধারণ মুহূর্ত একটা। তবুও এটা নিঃশব্দে আমাদের শিখিয়ে গেল গভীর একটি কথা—সাধারণ জিনিসগুলোও, এমনকি হতাশার মুহূর্তগুলোও সৃষ্টিশীলতায় রূপান্তরিত হতে পারে।
এটাই ছিল মুস্তাফা মনোয়ারের সবচেয়ে বড় উপহার। তিনি কখনো শুধু শিশুদের আঁকতে শেখাননি। তিনি শিখিয়েছিলেন পৃথিবীকে ভিন্নভাবে দেখতে।
পৃথিবী তাঁকে চেনে শিল্পী, শিক্ষাবিদ, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকজয়ী হিসেবে। কিন্তু আমাদের অনেকের কাছে তিনি চিরকাল থাকবেন সেই মানুষ হিসেবে যিনি তুলি আর রঙ নিয়ে পুতুলদের পাশে বসে ধৈর্য ধরে শিখিয়েছেন, শিল্প যেকোনো জায়গাতেই খুঁজে পাওয়া যায়।
আজ সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর আপলোড করতে করতে বুঝলাম, আমি শুধু একজন বিখ্যাত শিল্পীর মৃত্যুর খবর দিচ্ছি না। আমি বিদায় জানাচ্ছি সেই মানুষকে, যিনি প্রথম আমার শৈশব রাঙিয়েছিলেন।
কেউ কেউ রেখে যান ছবি। কেউ কেউ রেখে যান স্মৃতি। মুস্তাফা মনোয়ার আমাদের দিয়ে গেছেন দুটোই।

সকালে অফিসের ডেস্কে বসে কাজ করছিলাম। হঠাৎই খবরটা এল—মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। তখন তাঁর মৃত্যুর খবরটা স্রেফ ফাইল করার মতো আরেকটা খবর ছিল আমার কাছে।
কাজের অংশ হিসেবে সংবাদটি লিখলাম, ওয়েবসাইটে আপলোড করলাম, এবং পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্টে চলে গেলাম। কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে শিরোনামটা আমাকে ছাড়ল না। এটা যেন আমার শৈশবের একটা প্রায় ভুলে যাওয়া কোণের দরজা খুলে দিল।
আমি বড় হয়েছি এমন এক সময়ে যখন কম্পিউটার আমাদের ঘরে ঢুকে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম খেলতাম। ঘরের তাকে সাজানো থাকত টম অ্যান্ড জেরি, মিকি মাউস আর অসংখ্য কার্টুনের সিডি। তবুও সেই সব ডিজিটাল বিনোদনের মধ্যেও বিটিভির একটি অনুষ্ঠান আমাদের মনোযোগ এমনভাবে আটকে রাখত, যা ব্যাখ্যা করার মতো নয়।
সেটা ছিল ‘মনের কথা’।
সপ্তাহের কোন দিন সম্প্রচারিত হতো মনে নেই। এর শুরুর সুরটাও আর মনে নেই। কিন্তু এর চরিত্রগুলো আমার মনে আছে। তারা যেন আমাদের পাড়ার প্রতিবেশী।
সেই ছোট্ট মিষ্টি মেয়ে পারুল, যার সরলতায় সবসময় ছিল মমতার ছোঁয়া। ছিল বাউল ভাই, গেরুয়া পোশাকে একতারা হাতে, যার দুষ্টুমিভরা ব্যঙ্গে প্রায়ই থাকত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ছিল সেই বন্ধুত্বপরায়ণ ষাঁড়, যাকে পারুল ভালোবেসে ডাকত ‘ষাঁড় ভাই’ বলে। আর ছিলেন শিল্পী ভাই। তুলি আর ক্যানভাসের পেছনে ছিলেন স্বয়ং মুস্তাফা মনোয়ার।
প্রায় প্রতিটি পর্বে তিনি সাধারণ রংকে বদলে দিতেন পাঠে—শুধু আঁকার পাঠ নয়, কল্পনার পাঠেও। আমার প্রজন্মের অনেক শিশুর কাছে তিনি ছিলেন আমাদের একেবারে প্রথম ড্রয়িং টিচার।
একটি বিশেষ পর্ব বছরের পর বছর ধরে আমার মনে গেঁথে আছে।
বাউল ভাই একটা ফুলঝাড়ু হাতে নিয়ে হাজির হলেন, রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে তাড়া করছেন তাদের, যারা তার বাড়ির সামনে আবর্জনা ফেলে গেছে। পারুল জিজ্ঞেস করল, সে কি তাদের সাথে ঝগড়া করতে চায়? বাউল ভাই বলল, তার কাছে আরও ভালো একটা বুদ্ধি আছে। সে শুধু আবর্জনাগুলো কুড়িয়ে সেগুলো ফেলে আসবে দোষীদের বাড়ির সামনে।
আলোচনা এগোতে থাকল, পরিবেশ নরম হয়ে এল। প্রতিশোধের অস্ত্র হওয়ার বদলে সেই সাধারণ ঝাড়ুটি খুঁজে পেল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি উদ্দেশ্য। শিল্পী ভাই ঝাড়ু থেকে বানিয়ে ফেললেন তুলি, আর আঁকলেন ছবি।
এটা ছিল খুবই সাধারণ মুহূর্ত একটা। তবুও এটা নিঃশব্দে আমাদের শিখিয়ে গেল গভীর একটি কথা—সাধারণ জিনিসগুলোও, এমনকি হতাশার মুহূর্তগুলোও সৃষ্টিশীলতায় রূপান্তরিত হতে পারে।
এটাই ছিল মুস্তাফা মনোয়ারের সবচেয়ে বড় উপহার। তিনি কখনো শুধু শিশুদের আঁকতে শেখাননি। তিনি শিখিয়েছিলেন পৃথিবীকে ভিন্নভাবে দেখতে।
পৃথিবী তাঁকে চেনে শিল্পী, শিক্ষাবিদ, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকজয়ী হিসেবে। কিন্তু আমাদের অনেকের কাছে তিনি চিরকাল থাকবেন সেই মানুষ হিসেবে যিনি তুলি আর রঙ নিয়ে পুতুলদের পাশে বসে ধৈর্য ধরে শিখিয়েছেন, শিল্প যেকোনো জায়গাতেই খুঁজে পাওয়া যায়।
আজ সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর আপলোড করতে করতে বুঝলাম, আমি শুধু একজন বিখ্যাত শিল্পীর মৃত্যুর খবর দিচ্ছি না। আমি বিদায় জানাচ্ছি সেই মানুষকে, যিনি প্রথম আমার শৈশব রাঙিয়েছিলেন।
কেউ কেউ রেখে যান ছবি। কেউ কেউ রেখে যান স্মৃতি। মুস্তাফা মনোয়ার আমাদের দিয়ে গেছেন দুটোই।
.png)

টেলিভিশনের পর্দায় তাঁকে সবসময় দেখেছি সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ হিসেবে। সামনে কাগজ, হাতে রঙ তুলি। কয়েকটি আঁচড়েই ফুটে উঠত পাখি, ফুল, নদী কিংবা গ্রামের কোনো দৃশ্য। ছবি আঁকছেন ‘শিল্পী ভাই’ মুস্তাফা মনোয়ার। শুধু সাদা ক্যানভাস নয়, আমাদের শৈশবকেও রাঙিয়ে দিয়েছেন তাঁর রঙ-তুলির আঁচড়ে।
১৯ মিনিট আগে
আজ ইলন মাস্কের জন্মদিন। তিনি কি টাকার মেশিন নাকি জাদুর কাঠি আছে তাঁর হাতে? আসলে মাস্কের এই বিশাল সম্পদের পেছনে আসল রহস্য হলো তাঁর কোম্পানিগুলোর শেয়ারের আকাশছোঁয়া দাম।
১৯ ঘণ্টা আগে
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিড়ালরা অত্যন্ত জটিল পরিবেশে বসবাস করে। প্রতিটি বাড়ির পরিবেশ আলাদা, তাই বাড়ির নিয়মের পরিবর্তন, নতুন কোনো পোষ্য আসা কিংবা পরিবেশগত মানসিক চাপ, এসব কিছুই বিড়ালের আচরণ বদলে দিতে পারে। এই কারণগুলো থেকে অন্য বিড়ালের মৃত্যুর অনুভূতি বা শোকের প্রভাবকে আলাদা করে বোঝা খুবই কঠিন।
১ দিন আগে
ইদানীং বিয়ের আয়োজন মানেই বিরাট ঝক্কি! মেহেদি উৎসব, গায়ে হলুদ, বিয়ে, বউ-ভাত, বিবাহ-উত্তর সংবর্বধনা—এ রকম নানা আয়োজন করতে হয়। আর আয়োজন মানেই হাজারো অতিথি, বিপুল খরচ। তাই অনেকেই বিয়ে করতেই ভয় পান।
১ দিন আগে