আজ ৮ জানুয়ারি 'কিং অফ রক অ্যান্ড রোল' এলভিস প্রিসলির জন্মদিন। এলভিসের একটা ঝাঁকুনি, একটা বিস্ফোরণ, আর সবকিছু কীভাবে বদলে গেল? সেই গল্পই থাকছে এখানে।।
মাহমুদ নেওয়াজ জয়

১৯৫৬ সালের কথা। এলভিস প্রিসলি তখন সবে ২১ বছর বয়সের এক । ঝড় তুলে দিয়েছেন হাজারো তরুণের হৃদয়ে৷ ১৯৫৬ সালের ৫ জুন এলভিস প্রথমবারের মতো হাজির হলেন প্রোগ্রামে। তখন পপ কালচার বলতে আজকের মতো কোনো বিস্তৃত সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি।
বলা যায়, তখনও এই সংস্কৃতি একেবারেই শিশু, ঠিকঠাক হাঁটতেও শেখেনি। কিন্তু ‘হাউন্ড ডগ’ গানে এলভিসের সেই সলো পারফর্মেন্স যেন ঘটিয়ে দিল বিস্ফোরণ! সেই বিস্ফোরক উপস্থিতির পর যুক্তরাষ্ট্রে পপ কালচারের উত্থান হলো একেবারে রকেটের গতিতে৷ এলভিসের একটা ঝাঁকুনি, একটা বিস্ফোরণ, আর সবকিছু বদলে গেল।
এলভিস টেলিভিশনের পর্দায় ভবিষ্যতের দিশা দেখালেন। বপন করলেন আমেরিকার ভবিষ্যৎ সময়ের পপ কালচারের বীজ৷ যদি সেই সময়ের আশেপাশে তাকাই তাহলে দেখতে পাব, প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে খুলেছে ম্যাকডোনাল্ডস। প্রথমবারের মতো ক্যানজাত কোকা-কোলা কেনা যাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য দরজা খুলেছে ডিজনিল্যান্ড। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে—সমাজ এগোচ্ছে, আধুনিক হচ্ছে, উদার হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তখনও সমাজের হাওয়াটা ছিল রক্ষণশীল।

বিশেষ করে যৌনতা নিয়ে এই সমাজ রক্ষণশীল ছিল প্রবল। জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল তখনও অনুমোদনের অপেক্ষায়। আরো কয়েক বছর পর তা বাজারে আসবে। শরীর, কামনা, আকাঙ্ক্ষা—এই শব্দগুলো তখনো টেলিভিশন আর প্রতিষ্ঠিত 'ভদ্র' সমাজে উচ্চারণ করার মতো নয়। ঠিক এই বাস্তবতার মাঝেই এলভিস এসে সবকিছু এলোমেলো করে দিলেন।
শোনা যায়, তাঁর সেই বিখ্যাত হিপ-নাচের পেছনে নাকি ছিল মঞ্চভীতি। কিন্তু যা-ই হোক, 'দ্য মিল্টন বার্লে শো'-তে সম্প্রচারিত তাঁর সেই পারফরম্যান্স মুহূর্তের মধ্যে তোলপাড় তুলে দিল। লাখ লাখ দর্শক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল টেলিভিশনের দিকে। রক অ্যান্ড রোলের এক নতুন ঢেউ যেন দরজায় কড়া নাড়ছিল।
তবে সবাই যে মুগ্ধ হয়েছিল, তা নয়। নিউ ইয়র্ক হেরাল্ড ট্রিবিউন-এর কিছু সমালোচক তো এলভিসকে সরাসরি 'অপ্রতিভ' ও 'অশ্লীল' বলে রায় দিয়ে দিলেন।
তখন এলভিসের বয়স মাত্র ২১। এত অল্প বয়সে তিনি যেটা করে ফেললেন, সেটাই সমাজকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিল। মঞ্চে তাঁর দেহভঙ্গি ছিল স্পষ্টভাবেই আবেদনময়। তিনি কেবল গান গাইছিলেন না, তিনি শরীর দিয়ে, নড়াচড়া দিয়ে, হিপ শেকের ছন্দে ছন্দে তারুণ্যের উচ্ছ্বলতাকে টেনে আনছিলেন সাধারণ মানুষের বসার ঘরে।
অনেকের কাছেই এটা ছিল অগ্রহণযোগ্য। সিবিএস কর্তৃপক্ষ এতটাই ভয় পেয়ে গেল যে, তারা সিদ্ধান্ত নিল—এরপর থেকে এলভিসের পারফরম্যান্সের সময় আর কোমরের নিচের অংশ টেলিকাস্ট করা হবে না। ক্যামেরা থাকবে শুধু কোমরের ওপর। যেন হিপ ঢেকে ফেললেই 'এলভিস ঝড়' থেমে যাবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—এলভিসকে আর থামানো যায়নি। অবাক করার মতো হলেও সত্য, তাঁকে আবার শো-তে আমন্ত্রণ জানানো হলো। এলভিসের জনপ্রিয়তা তখন এতটাই বেড়ে গেছে যে সেন্সরশিপও অসহায় হয়ে পড়ল। ক্যামেরা হয়তো চেষ্টা করল কোমরের নিচের অংশ লুকোতে, কিন্তু এলভিসের দোল খাওয়া শরীর, তাঁর উপস্থিতি, তাঁর ভঙ্গিমা- এ সবকিছু ঠিক করে দিলো একটা নতুন কালচারের ভবিষ্যৎ গতিপথ।

এই নতুন তারকাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রচলিত মূল্যবোধ ও রক্ষ্মণশীলতাকে অতিক্রম করতে পারলেন না ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার মতো কিংবদন্তিও। ‘ওল ব্লু আইজ’ বলে পরিচিত সিনাত্রা বিরক্ত হয়ে মন্তব্য করেছিলেন,'ওর এই ধরনের গান জঘন্য। এটা এক ধরনের কামোদ্দীপকতা, যা তরুণদের মধ্যে প্রায় পুরোপুরি নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে।'
কিন্তু এলভিস এসবের ধার ধারলেন না। তিনি আগেও যেমন ছিলেন, এখনও তেমনই রইলেন—চুলে গ্রিজ, আর হিপ শেকের মাধ্যমে ঝরানো আগুন। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মঞ্চের আচরণ আরও সাহসী হয়ে উঠল। আজকের ভাষায় বললে একেবারে 'প্রোটো-পাঙ্ক' ধাঁচের এক বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন এলভিস৷
এভাবেই ধীরে ধীরে বদলে যেতে লাগল মূবোধের প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত মানদণ্ড। আরো পরে আমেরিকায় আবির্ভাব ঘটে হিপ্পি আন্দোলনের, যা সমাজের খোল-নলচেই পালটে দেয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এলভিস প্রিসলি শুধু গান গাইলেন না৷ হিপের কয়েকটা ঝাঁকুনি, সেন্সরশিপ মানতে অস্বীকার করার দৃঢ়তা, আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে শরীরকেই ভাষা বানানোর সাহস—এই সবকিছুর মধ্য দিয়েই এলভিস ঘোষণা করলেন, এটাই রক অ্যান্ড রোল। নতুন দিনের গান, অনাগত দিনের ভাষা।আমেরিকান সংগীতের ভবিষ্যৎ এখানে। আর সেই ভবিষ্যৎ আলো জ্বেলে দিল বহু অন্ধকার ঘরে।

১৯৫৬ সালের কথা। এলভিস প্রিসলি তখন সবে ২১ বছর বয়সের এক । ঝড় তুলে দিয়েছেন হাজারো তরুণের হৃদয়ে৷ ১৯৫৬ সালের ৫ জুন এলভিস প্রথমবারের মতো হাজির হলেন প্রোগ্রামে। তখন পপ কালচার বলতে আজকের মতো কোনো বিস্তৃত সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি।
বলা যায়, তখনও এই সংস্কৃতি একেবারেই শিশু, ঠিকঠাক হাঁটতেও শেখেনি। কিন্তু ‘হাউন্ড ডগ’ গানে এলভিসের সেই সলো পারফর্মেন্স যেন ঘটিয়ে দিল বিস্ফোরণ! সেই বিস্ফোরক উপস্থিতির পর যুক্তরাষ্ট্রে পপ কালচারের উত্থান হলো একেবারে রকেটের গতিতে৷ এলভিসের একটা ঝাঁকুনি, একটা বিস্ফোরণ, আর সবকিছু বদলে গেল।
এলভিস টেলিভিশনের পর্দায় ভবিষ্যতের দিশা দেখালেন। বপন করলেন আমেরিকার ভবিষ্যৎ সময়ের পপ কালচারের বীজ৷ যদি সেই সময়ের আশেপাশে তাকাই তাহলে দেখতে পাব, প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে খুলেছে ম্যাকডোনাল্ডস। প্রথমবারের মতো ক্যানজাত কোকা-কোলা কেনা যাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য দরজা খুলেছে ডিজনিল্যান্ড। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে—সমাজ এগোচ্ছে, আধুনিক হচ্ছে, উদার হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তখনও সমাজের হাওয়াটা ছিল রক্ষণশীল।

বিশেষ করে যৌনতা নিয়ে এই সমাজ রক্ষণশীল ছিল প্রবল। জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল তখনও অনুমোদনের অপেক্ষায়। আরো কয়েক বছর পর তা বাজারে আসবে। শরীর, কামনা, আকাঙ্ক্ষা—এই শব্দগুলো তখনো টেলিভিশন আর প্রতিষ্ঠিত 'ভদ্র' সমাজে উচ্চারণ করার মতো নয়। ঠিক এই বাস্তবতার মাঝেই এলভিস এসে সবকিছু এলোমেলো করে দিলেন।
শোনা যায়, তাঁর সেই বিখ্যাত হিপ-নাচের পেছনে নাকি ছিল মঞ্চভীতি। কিন্তু যা-ই হোক, 'দ্য মিল্টন বার্লে শো'-তে সম্প্রচারিত তাঁর সেই পারফরম্যান্স মুহূর্তের মধ্যে তোলপাড় তুলে দিল। লাখ লাখ দর্শক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল টেলিভিশনের দিকে। রক অ্যান্ড রোলের এক নতুন ঢেউ যেন দরজায় কড়া নাড়ছিল।
তবে সবাই যে মুগ্ধ হয়েছিল, তা নয়। নিউ ইয়র্ক হেরাল্ড ট্রিবিউন-এর কিছু সমালোচক তো এলভিসকে সরাসরি 'অপ্রতিভ' ও 'অশ্লীল' বলে রায় দিয়ে দিলেন।
তখন এলভিসের বয়স মাত্র ২১। এত অল্প বয়সে তিনি যেটা করে ফেললেন, সেটাই সমাজকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিল। মঞ্চে তাঁর দেহভঙ্গি ছিল স্পষ্টভাবেই আবেদনময়। তিনি কেবল গান গাইছিলেন না, তিনি শরীর দিয়ে, নড়াচড়া দিয়ে, হিপ শেকের ছন্দে ছন্দে তারুণ্যের উচ্ছ্বলতাকে টেনে আনছিলেন সাধারণ মানুষের বসার ঘরে।
অনেকের কাছেই এটা ছিল অগ্রহণযোগ্য। সিবিএস কর্তৃপক্ষ এতটাই ভয় পেয়ে গেল যে, তারা সিদ্ধান্ত নিল—এরপর থেকে এলভিসের পারফরম্যান্সের সময় আর কোমরের নিচের অংশ টেলিকাস্ট করা হবে না। ক্যামেরা থাকবে শুধু কোমরের ওপর। যেন হিপ ঢেকে ফেললেই 'এলভিস ঝড়' থেমে যাবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—এলভিসকে আর থামানো যায়নি। অবাক করার মতো হলেও সত্য, তাঁকে আবার শো-তে আমন্ত্রণ জানানো হলো। এলভিসের জনপ্রিয়তা তখন এতটাই বেড়ে গেছে যে সেন্সরশিপও অসহায় হয়ে পড়ল। ক্যামেরা হয়তো চেষ্টা করল কোমরের নিচের অংশ লুকোতে, কিন্তু এলভিসের দোল খাওয়া শরীর, তাঁর উপস্থিতি, তাঁর ভঙ্গিমা- এ সবকিছু ঠিক করে দিলো একটা নতুন কালচারের ভবিষ্যৎ গতিপথ।

এই নতুন তারকাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রচলিত মূল্যবোধ ও রক্ষ্মণশীলতাকে অতিক্রম করতে পারলেন না ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার মতো কিংবদন্তিও। ‘ওল ব্লু আইজ’ বলে পরিচিত সিনাত্রা বিরক্ত হয়ে মন্তব্য করেছিলেন,'ওর এই ধরনের গান জঘন্য। এটা এক ধরনের কামোদ্দীপকতা, যা তরুণদের মধ্যে প্রায় পুরোপুরি নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে।'
কিন্তু এলভিস এসবের ধার ধারলেন না। তিনি আগেও যেমন ছিলেন, এখনও তেমনই রইলেন—চুলে গ্রিজ, আর হিপ শেকের মাধ্যমে ঝরানো আগুন। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মঞ্চের আচরণ আরও সাহসী হয়ে উঠল। আজকের ভাষায় বললে একেবারে 'প্রোটো-পাঙ্ক' ধাঁচের এক বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন এলভিস৷
এভাবেই ধীরে ধীরে বদলে যেতে লাগল মূবোধের প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত মানদণ্ড। আরো পরে আমেরিকায় আবির্ভাব ঘটে হিপ্পি আন্দোলনের, যা সমাজের খোল-নলচেই পালটে দেয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এলভিস প্রিসলি শুধু গান গাইলেন না৷ হিপের কয়েকটা ঝাঁকুনি, সেন্সরশিপ মানতে অস্বীকার করার দৃঢ়তা, আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে শরীরকেই ভাষা বানানোর সাহস—এই সবকিছুর মধ্য দিয়েই এলভিস ঘোষণা করলেন, এটাই রক অ্যান্ড রোল। নতুন দিনের গান, অনাগত দিনের ভাষা।আমেরিকান সংগীতের ভবিষ্যৎ এখানে। আর সেই ভবিষ্যৎ আলো জ্বেলে দিল বহু অন্ধকার ঘরে।

নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘সোনার বাংলা সার্কাস’। এটি একটি ডাবল অ্যালবাম। ‘মহাশ্মশান’ নামের এই কনসেপ্টচ্যুয়াল অ্যালবামে গান আছে ১৭টি। এই অ্যালবাম নিয়ে স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যান্ডের ভোকালিস্ট ও লিরিসিস্ট প্রবর রিপন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকা স্ট্রিমের গৌতম কে শুভ।
১ ঘণ্টা আগে
নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘সোনার বাংলা সার্কাস’। এটি একটি ডাবল অ্যালবাম। ‘মহাশ্মশান’ নামের এই কনসেপ্টচ্যুয়াল অ্যালবামে গান আছে ১৭টি।
১ দিন আগে
আজ ৮ জানুয়ারি স্টিফেন হকিংয়ের জন্মদিন। তাঁকে বলা হয় আইনস্টাইনের পরে দুনিয়ার সবচেয়ে মেধাবী বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানের কঠিন জগতের বাইরেও স্টিফেন হকিং ছিলেন বেশ পরিচিত মুখ। সূক্ষ্ম রসবোধ আর বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের এক অদ্ভুত মিশেল ছিল ২০০৯ সালে আয়োজিত এক পার্টি। কী ঘটেছিল সেদিন?
১ দিন আগে
পৃথিবীর দক্ষিণের শেষ শহর আর্জেন্টিনার উসুয়াইয়া থেকে জাহাজে অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণে বের হয়েছিলেন তানভীর অপু, তারেক অণুসহ একদল পর্যটক। সেই যাত্রাপথে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে নেমে তাঁদের ভ্রমণের শুরু হয় ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে। নীল সমুদ্র, হলুদ ফুল, আকাশে অ্যালব্যাট্রস আর মাটিতে পেঙ্গুইনের সহাবস্থান—প্
২ দিন আগে