বিড়ালকে অঘোরে ঘুমাতে দেখলে তাকে বিরক্ত না করে বরং ভাবুন, সে হয়তো তার আদিম শিকারি সত্তার জন্য শক্তি সঞ্চয় করছে অথবা ঘুমের দেশে ইঁদুর ধরার স্বপ্ন দেখছে!
ফাবিহা বিনতে হক

সারাদিন কাজের পর রাতে একটা শান্তির ঘুম কে না চায়? কিংবা অলস দুপুরে ভাতঘুম, এ যেন ব্যস্তজীবনের প্রিয় বিলাসিতা। তবে মানুষের চেয়েও অনেক বেশি ঘুমকাতুরে প্রাণী হলো বিড়াল। সারাদিন এদের দেখলেই মনে হয়, এই বুঝি ঘুম থেকে উঠল, আবার একটু পরেই দেখবেন ঘুমাচ্ছে।
মানুষ যেখানে দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালেই যথেষ্ট মনে করে, সেখানে বিড়ালের ঘুমের বহর দেখলে চোখ কপালে উঠতে পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল দিনে গড়ে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা ঘুমায়। আর যদি বিড়ালটি একদম বাচ্চা হয়, তবে ঘুমের সময় আরো বেশি হতে পারে। ফলে দিনে-রাতে মিলিয়ে অনেক বিড়ালই তাদের জীবনকালের বড় একটা অংশ ঘুমিয়েই কাটায়। চলুন জেনে আসি, বিড়াল কেন এত বেশি ঘুমায়।

অনেকে মনে করেন বিড়ালরা অলস, তাই তারা ঘুমায়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। বিড়ালের ঘুম নিয়ে ‘জার্নাল অফ স্লিপ রিসার্চ’ ও ‘এক্সপেরিমেন্টাল নিউরোলজি’-র মতো বিখ্যাত জার্নালে বহু গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, বিড়ালের এই অতিরিক্ত ঘুমের পেছনে রয়েছে তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং বিবর্তনের ইতিহাস।
আপনার বাড়ির বিড়ালটি হয়তো বাটিতে সাজানো খাবার খায়, কিন্তু জিনগতভাবে গৃহপালিত বিড়ালও শিকারি। বিড়ালের পূর্বপুরুষরা বন্য পরিবেশে শিকার করে খেত। শিকার ধরা মানে হঠাৎ করে প্রচুর শক্তি খরচ: ওৎ পেতে থাকা, দৌড়, ঝাঁপিয়ে পড়া—সবই ‘এনার্জি বার্স্ট’। তাই শক্তি বাঁচিয়ে রাখার জন্য তারা দিনের বড় অংশ বিশ্রামে থাকত। বিবর্তনের ক্রমধারায় গৃহপালিত বিড়ালদের এখন আর শিকার করতে হয় না ঠিকই, কিন্তু হাজার বছরের সেই আদিম ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ আজও তাদের শরীরে রয়ে গেছে।
তাছাড়া, বিড়ালের ঘুমের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে ‘র্যাপিড আই মুভমেন্ট’। ‘জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজি’-তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিড়ালরা যখন গভীর ঘুমে থাকে, তখনো তাদের মস্তিষ্ক শিকারের স্বপ্ন দেখতে পারে, যার ফলে ঘুমের মধ্যেই তাদের পা নড়ে বা গোঁফ কাঁপে।
অনেকে ভাবেন বিড়াল সারাদিন ঘুমায় আর রাতে জেগে থাকে। অর্থাৎ বিড়াল নিশাচর প্রাণী। কিন্তু প্রাণিবিজ্ঞানীরা এদের বলেন ‘ক্রেপাসকুলার’, যার মানে হলো, তারা ভোরবেলায় এবং গোধূলিলগ্নে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। দিনের প্রখর আলোতে এবং গভীর রাতে তারা বিশ্রাম নেয় বা ঘুমায়। এ কারণেই দুপুরে বা মাঝরাতে আপনি বিড়ালকে ঘুমাতে দেখেন।
তবে মজার ব্যাপার হলো, বিড়ালকে চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকতে দেখলেই ভাববেন না যে সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। বিড়ালের ঘুমের প্রায় ৭৫ শতাংশই হলো ‘ক্যাট ন্যাপ’ বা তন্দ্রা। এই অবস্থায় তাদের চোখ বন্ধ থাকে ঠিকই, কিন্তু কান খাড়া থাকে। আশেপাশে সামান্য শব্দ হলেই তারা তৎক্ষণাৎ জেগে উঠতে পারে। এটি তাদের আত্মরক্ষার একটি কৌশল। বাকি ২৫ শতাংশ সময় তারা গভীর ঘুমে থাকে, যখন তাদের শরীর পুরোপুরি শিথিল হয়ে যায়।
হাজার বছরের বিবর্তনে বিড়ালের অনেক পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পূর্বপুরুষদের দেওয়া ঘুমকাতুরে স্বভাব এখনো তাদের জিনে রয়ে গেছে। তাই পরেরবার বিড়ালকে অঘোরে ঘুমাতে দেখলে তাকে বিরক্ত না করে বরং ভাবুন, সে হয়তো তার আদিম শিকারি সত্তার জন্য শক্তি সঞ্চয় করছে অথবা ঘুমের দেশে ইঁদুর ধরার স্বপ্ন দেখছে!

সারাদিন কাজের পর রাতে একটা শান্তির ঘুম কে না চায়? কিংবা অলস দুপুরে ভাতঘুম, এ যেন ব্যস্তজীবনের প্রিয় বিলাসিতা। তবে মানুষের চেয়েও অনেক বেশি ঘুমকাতুরে প্রাণী হলো বিড়াল। সারাদিন এদের দেখলেই মনে হয়, এই বুঝি ঘুম থেকে উঠল, আবার একটু পরেই দেখবেন ঘুমাচ্ছে।
মানুষ যেখানে দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালেই যথেষ্ট মনে করে, সেখানে বিড়ালের ঘুমের বহর দেখলে চোখ কপালে উঠতে পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল দিনে গড়ে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা ঘুমায়। আর যদি বিড়ালটি একদম বাচ্চা হয়, তবে ঘুমের সময় আরো বেশি হতে পারে। ফলে দিনে-রাতে মিলিয়ে অনেক বিড়ালই তাদের জীবনকালের বড় একটা অংশ ঘুমিয়েই কাটায়। চলুন জেনে আসি, বিড়াল কেন এত বেশি ঘুমায়।

অনেকে মনে করেন বিড়ালরা অলস, তাই তারা ঘুমায়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। বিড়ালের ঘুম নিয়ে ‘জার্নাল অফ স্লিপ রিসার্চ’ ও ‘এক্সপেরিমেন্টাল নিউরোলজি’-র মতো বিখ্যাত জার্নালে বহু গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, বিড়ালের এই অতিরিক্ত ঘুমের পেছনে রয়েছে তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং বিবর্তনের ইতিহাস।
আপনার বাড়ির বিড়ালটি হয়তো বাটিতে সাজানো খাবার খায়, কিন্তু জিনগতভাবে গৃহপালিত বিড়ালও শিকারি। বিড়ালের পূর্বপুরুষরা বন্য পরিবেশে শিকার করে খেত। শিকার ধরা মানে হঠাৎ করে প্রচুর শক্তি খরচ: ওৎ পেতে থাকা, দৌড়, ঝাঁপিয়ে পড়া—সবই ‘এনার্জি বার্স্ট’। তাই শক্তি বাঁচিয়ে রাখার জন্য তারা দিনের বড় অংশ বিশ্রামে থাকত। বিবর্তনের ক্রমধারায় গৃহপালিত বিড়ালদের এখন আর শিকার করতে হয় না ঠিকই, কিন্তু হাজার বছরের সেই আদিম ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ আজও তাদের শরীরে রয়ে গেছে।
তাছাড়া, বিড়ালের ঘুমের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে ‘র্যাপিড আই মুভমেন্ট’। ‘জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজি’-তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিড়ালরা যখন গভীর ঘুমে থাকে, তখনো তাদের মস্তিষ্ক শিকারের স্বপ্ন দেখতে পারে, যার ফলে ঘুমের মধ্যেই তাদের পা নড়ে বা গোঁফ কাঁপে।
অনেকে ভাবেন বিড়াল সারাদিন ঘুমায় আর রাতে জেগে থাকে। অর্থাৎ বিড়াল নিশাচর প্রাণী। কিন্তু প্রাণিবিজ্ঞানীরা এদের বলেন ‘ক্রেপাসকুলার’, যার মানে হলো, তারা ভোরবেলায় এবং গোধূলিলগ্নে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। দিনের প্রখর আলোতে এবং গভীর রাতে তারা বিশ্রাম নেয় বা ঘুমায়। এ কারণেই দুপুরে বা মাঝরাতে আপনি বিড়ালকে ঘুমাতে দেখেন।
তবে মজার ব্যাপার হলো, বিড়ালকে চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকতে দেখলেই ভাববেন না যে সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। বিড়ালের ঘুমের প্রায় ৭৫ শতাংশই হলো ‘ক্যাট ন্যাপ’ বা তন্দ্রা। এই অবস্থায় তাদের চোখ বন্ধ থাকে ঠিকই, কিন্তু কান খাড়া থাকে। আশেপাশে সামান্য শব্দ হলেই তারা তৎক্ষণাৎ জেগে উঠতে পারে। এটি তাদের আত্মরক্ষার একটি কৌশল। বাকি ২৫ শতাংশ সময় তারা গভীর ঘুমে থাকে, যখন তাদের শরীর পুরোপুরি শিথিল হয়ে যায়।
হাজার বছরের বিবর্তনে বিড়ালের অনেক পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পূর্বপুরুষদের দেওয়া ঘুমকাতুরে স্বভাব এখনো তাদের জিনে রয়ে গেছে। তাই পরেরবার বিড়ালকে অঘোরে ঘুমাতে দেখলে তাকে বিরক্ত না করে বরং ভাবুন, সে হয়তো তার আদিম শিকারি সত্তার জন্য শক্তি সঞ্চয় করছে অথবা ঘুমের দেশে ইঁদুর ধরার স্বপ্ন দেখছে!

অনেক সময় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিড়াল কি মানুষের মতো অতীত রোমন্থন করতে পারে? নাকি তাদের স্মৃতি কেবল খাবার আর বাসস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের স্মৃতিশক্তি আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
১৮ ঘণ্টা আগে
কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার সাধারণ জীবনযাপনের সঙ্গে দুনিয়া কাঁপানো সুপারস্টারদের দারুণ একটি মিল রয়েছে? শুনতে অবাক লাগলেও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কথাটি একদম সত্য। ক্যালিফোর্নিয়ার মনোবিজ্ঞানী রবার্ট পাফ তাঁর প্রবন্ধে এমন কথাই বলেছেন। আমাদের সবার জীবনেই ‘অদৃশ্য দর্শক’ বা ‘ইনভিজিবল অডিয়েন্স’ রয়েছে, যা
২১ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ওমানে গাড়ির ভেতরে চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাতে ময়নাতদন্তের পর কার্বন মনোক্সাইডে শ্বাস গ্রহণকে কারণ হিসেবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ।
২ দিন আগে
নদীনির্ভর বাংলাদেশের কৃষির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি হলো ফারাক্কা বাঁধ। এই বাঁধের বিরুদ্ধে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে লংমার্চের ডাক দিয়েছিলেন মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২ দিন আগে