কাজী নিশাত তাবাসসুম

সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় স্বর্ণভোক্তা দেশ ভারত স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেই প্রভাব ফেলবে না, বরং দুবাই কেন্দ্রিক উপসাগরীয় স্বর্ণবাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বর্ণ বিক্রি সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এর ফলে ভারত ও উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বর্ণমূল্যের ব্যবধান আরও বেড়ে যাবে। আর সেই ব্যবধানই গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও বিয়ের মৌসুমে দুবাইমুখী স্বর্ণ কেনাকাটা বাড়িয়ে দিতে পারে।
নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি ভারতীয় জনসাধারণের প্রতি এক ব্যতিক্রমী আহ্বান জানান, অন্তত এক বছরের জন্য ‘অপ্রয়োজনীয়’ স্বর্ণ কেনা বন্ধ রেখে সেই অর্থ উৎপাদনশীল আর্থিক খাত ও দেশ গঠনে বিনিয়োগ করার। তার কিছুদিনের মধ্যেই সরকার স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত তিনটি কারণ রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং চলতি হিসাব ঘাটতি বৃদ্ধি।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ভোক্তা দেশ। দেশটি নিজস্ব চাহিদার প্রায় পুরোটা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লেই ভারতের আমদানি ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের স্বর্ণ আমদানি বিল প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও আমদানির পরিমাণ খুব বেশি বাড়েনি, কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম গত এক বছরে ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় মোট ব্যয় অনেক বেড়েছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর স্বর্ণ এখন ভারতের সবচেয়ে বড় আমদানি পণ্যগুলোর একটি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশেষ করে দুবাই দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বড় স্বর্ণ বাণিজ্য ও গয়না বিক্রির কেন্দ্র।
উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বর্ণবাজার ভারতীয় ক্রেতাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। প্রতিবছর গ্রীষ্মে লাখো ভারতীয় প্রবাসী ছুটিতে দেশে ফেরার আগে দুবাই থেকে গয়না কেনেন। কারণ সাধারণত দুবাইয়ে স্বর্ণের দাম কম, কর তুলনামূলক কম, গয়না তৈরির মজুরি কম, পর্যটকেরা ভ্যাট ফেরত সুবিধা পান।
এখন ভারতের শুল্ক বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের ব্যবধান আরও বেড়ে গেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন কর কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বর্ণ ভারতের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত সস্তা হতে পারে।
ভারতের নতুন বাজেটে ভ্রমণকারীদের জন্য শুল্কমুক্ত স্বর্ণ বহনের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। নারীরা এখন ৪০ গ্রাম পর্যন্ত শুল্কমুক্তভাবে স্বর্ণ ভারতে নিতে পারবে, আর পুরুষরা এক্ষেত্রে ২০ গ্রাম পর্যন্ত বহন করতে পারবে।
অর্থাৎ চার সদস্যের একটি পরিবার আইনগতভাবে প্রায় ১৪০ গ্রাম পর্যন্ত গয়না শুল্ক ছাড়াই ভারতে নিতে পারবে। ফলে অনেক ভারতীয় প্রবাসী এখন দুবাই থেকে গয়না কিনে দেশে নেওয়াকে বড় সাশ্রয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের বিয়ের মৌসুমকে ঘিরে এটি সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত বিক্রির সময়গুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
স্বর্ণের দাম এখন ঐতিহাসিকভাবে অনেক বেশি। ফলে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বড় অংশ ইতিমধ্যে ভারী গয়না কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন ক্রেতারা ঝুঁকছেন হালকা অলংকারে, কম ওজনের গয়নায়, পুরোনো গয়না বদলে নতুন মডেলের দিকে।
তার ওপর মোদির ‘অপ্রয়োজনীয় স্বর্ণ কেনা বন্ধ রাখুন’ আহ্বান অনেক ভোক্তার মধ্যে মানসিক প্রভাবও তৈরি করেছে। ফলে একদিকে মূল্য ব্যবধানের কারণে দুবাইয়ে কেনাকাটা বাড়তে পারে, অন্যদিকে উচ্চমূল্যের কারণে সামগ্রিক ভোগ কমেও যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে গেলে অবৈধ স্বর্ণ প্রবাহ বা চোরাচালান আবারও বাড়তে পারে।
অতীতেও দেখা গেছে, আমদানি শুল্ক বেড়ে গেলে আঞ্চলিক ট্রানজিট হাবগুলোর মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণ প্রবাহ সক্রিয় হয়ে ওঠে।
যদি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের উচ্চ মূল্য দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ভারতীয় বাজারে মূল্য ব্যবধান আরও বাড়ে, তবে সেই ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ভারতে স্বর্ণের আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও কিছুটা পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার স্বর্ণবাজারগুলো অনেকাংশেই পরস্পর সংযুক্ত এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ভারতীয় বাজারের মূল্য এ অঞ্চলে প্রভাব ফেলে।
বিশেষ করে ভারতের বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশে অবৈধ স্বর্ণ প্রবাহ ও চোরাচালানের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতীতেও দেখা গেছে, ভারতে শুল্ক বাড়ানো হলে আঞ্চলিক ট্রানজিট রুটগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে সীমান্ত ও বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নজরদারি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে দুবাইভিত্তিক স্বর্ণ কেনাকাটা বেড়ে গেলে তার একটি অংশ বাংলাদেশি প্রবাসী ও পর্যটকদের মাধ্যমেও স্থানীয় বাজারে আসতে পারে। কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলক কম দামে স্বর্ণ কেনার জনপ্রিয় জায়গা।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ মূল্যের কারণে বাংলাদেশের সাধারণ ক্রেতারাও চাপে পড়তে পারেন। ইতোমধ্যে দেশের বাজারে ভারী গয়নার বদলে হালকা অলংকার ও কম ওজনের ডিজাইনের চাহিদা বাড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারত যদি দীর্ঘ সময় স্বর্ণ আমদানি নিরুৎসাহিত করার নীতি ধরে রাখে, তাহলে তার প্রভাব বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্বর্ণ বাণিজ্যেই পড়তে পারে।
স্বল্পমেয়াদে উপসাগরীয় জুয়েলারি খাত লাভবান হতে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় প্রবাসীদের কেনাকাটা, বিয়ের মৌসুম, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ, মূল্য ব্যবধান—এই চারটি কারণ বাজারকে চাঙ্গা করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি এতটা সহজ নয়। উচ্চ মূল্য ও কমে যাওয়া ক্রয়ক্ষমতার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলেও গয়নার মোট চাহিদা কমে যেতে পারে। তাই অনেক জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান এখন ঝুঁকছে বিনিয়োগযোগ্য স্বর্ণবারে, হালকা গয়না, ডিজিটাল গোল্ড এবং উচ্চ আয়ের আন্তর্জাতিক পর্যটকদের দিকে। কারণ ভারতীয় বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এখন ব্যবসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ভারতের মতো বিশাল ভোক্তা বাজারে স্বর্ণ আমদানি কমে গেলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারেও পড়তে পারে।
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু ভারত যদি কৃত্রিমভাবে চাহিদা কমানোর চেষ্টা করে, তাহলে তা শুধু দেশীয় বাজার নয়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক স্বর্ণ বাণিজ্যের ধারা বদলে যেতে পারে।
(ইকোনমিক টাইমস ও খালিজ টাইমসের নিবন্ধ অবলম্বনে লেখা)

সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় স্বর্ণভোক্তা দেশ ভারত স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেই প্রভাব ফেলবে না, বরং দুবাই কেন্দ্রিক উপসাগরীয় স্বর্ণবাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বর্ণ বিক্রি সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এর ফলে ভারত ও উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বর্ণমূল্যের ব্যবধান আরও বেড়ে যাবে। আর সেই ব্যবধানই গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও বিয়ের মৌসুমে দুবাইমুখী স্বর্ণ কেনাকাটা বাড়িয়ে দিতে পারে।
নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি ভারতীয় জনসাধারণের প্রতি এক ব্যতিক্রমী আহ্বান জানান, অন্তত এক বছরের জন্য ‘অপ্রয়োজনীয়’ স্বর্ণ কেনা বন্ধ রেখে সেই অর্থ উৎপাদনশীল আর্থিক খাত ও দেশ গঠনে বিনিয়োগ করার। তার কিছুদিনের মধ্যেই সরকার স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত তিনটি কারণ রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং চলতি হিসাব ঘাটতি বৃদ্ধি।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ভোক্তা দেশ। দেশটি নিজস্ব চাহিদার প্রায় পুরোটা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লেই ভারতের আমদানি ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের স্বর্ণ আমদানি বিল প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও আমদানির পরিমাণ খুব বেশি বাড়েনি, কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম গত এক বছরে ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় মোট ব্যয় অনেক বেড়েছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর স্বর্ণ এখন ভারতের সবচেয়ে বড় আমদানি পণ্যগুলোর একটি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশেষ করে দুবাই দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বড় স্বর্ণ বাণিজ্য ও গয়না বিক্রির কেন্দ্র।
উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বর্ণবাজার ভারতীয় ক্রেতাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। প্রতিবছর গ্রীষ্মে লাখো ভারতীয় প্রবাসী ছুটিতে দেশে ফেরার আগে দুবাই থেকে গয়না কেনেন। কারণ সাধারণত দুবাইয়ে স্বর্ণের দাম কম, কর তুলনামূলক কম, গয়না তৈরির মজুরি কম, পর্যটকেরা ভ্যাট ফেরত সুবিধা পান।
এখন ভারতের শুল্ক বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের ব্যবধান আরও বেড়ে গেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন কর কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বর্ণ ভারতের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত সস্তা হতে পারে।
ভারতের নতুন বাজেটে ভ্রমণকারীদের জন্য শুল্কমুক্ত স্বর্ণ বহনের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। নারীরা এখন ৪০ গ্রাম পর্যন্ত শুল্কমুক্তভাবে স্বর্ণ ভারতে নিতে পারবে, আর পুরুষরা এক্ষেত্রে ২০ গ্রাম পর্যন্ত বহন করতে পারবে।
অর্থাৎ চার সদস্যের একটি পরিবার আইনগতভাবে প্রায় ১৪০ গ্রাম পর্যন্ত গয়না শুল্ক ছাড়াই ভারতে নিতে পারবে। ফলে অনেক ভারতীয় প্রবাসী এখন দুবাই থেকে গয়না কিনে দেশে নেওয়াকে বড় সাশ্রয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের বিয়ের মৌসুমকে ঘিরে এটি সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত বিক্রির সময়গুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
স্বর্ণের দাম এখন ঐতিহাসিকভাবে অনেক বেশি। ফলে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বড় অংশ ইতিমধ্যে ভারী গয়না কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন ক্রেতারা ঝুঁকছেন হালকা অলংকারে, কম ওজনের গয়নায়, পুরোনো গয়না বদলে নতুন মডেলের দিকে।
তার ওপর মোদির ‘অপ্রয়োজনীয় স্বর্ণ কেনা বন্ধ রাখুন’ আহ্বান অনেক ভোক্তার মধ্যে মানসিক প্রভাবও তৈরি করেছে। ফলে একদিকে মূল্য ব্যবধানের কারণে দুবাইয়ে কেনাকাটা বাড়তে পারে, অন্যদিকে উচ্চমূল্যের কারণে সামগ্রিক ভোগ কমেও যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে গেলে অবৈধ স্বর্ণ প্রবাহ বা চোরাচালান আবারও বাড়তে পারে।
অতীতেও দেখা গেছে, আমদানি শুল্ক বেড়ে গেলে আঞ্চলিক ট্রানজিট হাবগুলোর মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণ প্রবাহ সক্রিয় হয়ে ওঠে।
যদি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের উচ্চ মূল্য দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ভারতীয় বাজারে মূল্য ব্যবধান আরও বাড়ে, তবে সেই ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ভারতে স্বর্ণের আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও কিছুটা পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার স্বর্ণবাজারগুলো অনেকাংশেই পরস্পর সংযুক্ত এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ভারতীয় বাজারের মূল্য এ অঞ্চলে প্রভাব ফেলে।
বিশেষ করে ভারতের বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশে অবৈধ স্বর্ণ প্রবাহ ও চোরাচালানের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতীতেও দেখা গেছে, ভারতে শুল্ক বাড়ানো হলে আঞ্চলিক ট্রানজিট রুটগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে সীমান্ত ও বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নজরদারি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে দুবাইভিত্তিক স্বর্ণ কেনাকাটা বেড়ে গেলে তার একটি অংশ বাংলাদেশি প্রবাসী ও পর্যটকদের মাধ্যমেও স্থানীয় বাজারে আসতে পারে। কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলক কম দামে স্বর্ণ কেনার জনপ্রিয় জায়গা।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ মূল্যের কারণে বাংলাদেশের সাধারণ ক্রেতারাও চাপে পড়তে পারেন। ইতোমধ্যে দেশের বাজারে ভারী গয়নার বদলে হালকা অলংকার ও কম ওজনের ডিজাইনের চাহিদা বাড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারত যদি দীর্ঘ সময় স্বর্ণ আমদানি নিরুৎসাহিত করার নীতি ধরে রাখে, তাহলে তার প্রভাব বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্বর্ণ বাণিজ্যেই পড়তে পারে।
স্বল্পমেয়াদে উপসাগরীয় জুয়েলারি খাত লাভবান হতে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় প্রবাসীদের কেনাকাটা, বিয়ের মৌসুম, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ, মূল্য ব্যবধান—এই চারটি কারণ বাজারকে চাঙ্গা করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি এতটা সহজ নয়। উচ্চ মূল্য ও কমে যাওয়া ক্রয়ক্ষমতার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলেও গয়নার মোট চাহিদা কমে যেতে পারে। তাই অনেক জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান এখন ঝুঁকছে বিনিয়োগযোগ্য স্বর্ণবারে, হালকা গয়না, ডিজিটাল গোল্ড এবং উচ্চ আয়ের আন্তর্জাতিক পর্যটকদের দিকে। কারণ ভারতীয় বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এখন ব্যবসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ভারতের মতো বিশাল ভোক্তা বাজারে স্বর্ণ আমদানি কমে গেলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারেও পড়তে পারে।
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু ভারত যদি কৃত্রিমভাবে চাহিদা কমানোর চেষ্টা করে, তাহলে তা শুধু দেশীয় বাজার নয়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক স্বর্ণ বাণিজ্যের ধারা বদলে যেতে পারে।
(ইকোনমিক টাইমস ও খালিজ টাইমসের নিবন্ধ অবলম্বনে লেখা)

মোটরসাইকেলে অগ্রিম কর আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম কর আরোপ করা হতে পারে।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের নয়াদিল্লিতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দিনের এই বৈঠকে ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে আছেন।
২ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক আবারও এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কূটনীতি, সামরিক হুমকি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি একসঙ্গে জট পাকিয়ে ফেলেছে।
২ দিন আগে
প্রায় এক দশক পর প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে বুধবার বেইজিং সফর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বহু প্রতীক্ষিত শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। ইরান যুদ্ধের কারণে মার্চ মাস থেকে স্থগিত থাকা এ বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকটি ব
২ দিন আগে