অনেক সময় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিড়াল কি মানুষের মতো অতীত রোমন্থন করতে পারে? নাকি তাদের স্মৃতি কেবল খাবার আর বাসস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের স্মৃতিশক্তি আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
স্ট্রিম ডেস্ক

বিড়ালপ্রেমীদের কাছে চিরচেনা দৃশ্য হলো, বাড়িতে ফেরার পর পোষা বিড়াল দরজার সামনে এসে লেজ নাড়িয়ে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। এই যে সে আপনাকে চিনতে পারছে, আপনার গলার স্বর শুনে এগিয়ে আসছে, এর পেছনে কাজ করছে বিড়ালের প্রখর স্মৃতিশক্তি।
অনেক সময় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিড়াল কি মানুষের মতো অতীত রোমন্থন করতে পারে? নাকি তাদের স্মৃতি কেবল খাবার আর বাসস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের স্মৃতিশক্তি আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
বিড়ালের এই স্মৃতিশক্তির মূলে রয়েছে তাদের বেঁচে থাকার আদিম প্রবৃত্তি। বিড়াল মূলত সেই বিষয়গুলোকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে মনে রাখে, যা তার টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। একে বলা হয় ‘স্পেশিয়াল মেমোরি’বা স্থানিক স্মৃতি। প্রকৃতিতে শিকারি প্রাণী হিসেবে তাদের মনে রাখতে হয় কোন জায়গায় নিয়মিত খাবার পাওয়া যায় কিংবা কোন ঝোপের আড়ালে শিকার লুকিয়ে থাকে।
ঘরে থাকা পোষা বিড়ালের ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা কাজ করে। সে খুব ভালো করেই মনে রাখে তার খাবারের পাত্রটি কোথায় থাকে কিংবা বাড়ির কোন কোণটি তার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।
মানুষের স্মৃতির বৈশিষ্ট্য হলো, খুব আনন্দদায়ক অথবা খুব ভয়ংকর কোনো অভিজ্ঞতা সাধারণত আজীবন মনে থাকে। বিড়ালের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা একই রকম। গবেষকরা দেখেছেন, বিড়াল যদি কখনো এমন কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় যা তাকে খুব অবাক করে দিয়েছিল অথবা ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল, তবে সেই অভিজ্ঞতা তারা দীর্ঘদিন মনে রাখে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।
বিড়ালের স্মৃতির স্থায়িত্ব কতদিন, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহল দীর্ঘদিনের। যদিও নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন যে স্মৃতি কত বছর টিকে থাকে। তবে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তারা দীর্ঘ সময়, কখনো কখনো কয়েক বছর পর্যন্ত মনে রাখতে পারে। মানুষের মতোই তাদের স্মৃতি ফিকে হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি নির্ভর করে সেই তথ্যটি তাদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় ছিল তার ওপর।
বিড়ালের পথ চেনার ক্ষমতার গল্প আমাদের প্রায়ই অবাক করে। অনেক সময় দেখা যায়, মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বিড়াল তার পুরোনো বাড়িতে ফিরে এসেছে। মজার ব্যাপার হলো, এই পথ চেনার ক্ষেত্রে তারা কেবল স্মৃতির ওপর নির্ভর করে না। বিড়ালের মধ্যে ‘হোমিং ইন্সটিঙ্কট’ বা বাড়ি ফেরার সহজাত প্রবৃত্তি থাকে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বিড়াল পৃথিবীর ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং চারপাশের পরিচিত ঘ্রাণ ব্যবহার করে নিজের গন্তব্য খুঁজে নিতে পারে। তবে এই ক্ষমতাটি কেবল সেই সব জায়গার জন্য কাজ করে, যেখানে সে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছে এবং যেটিকে সে নিজের ‘আস্তানা’ বলে মনে করে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মতো বিড়ালেরও স্মৃতিভ্রংশ বা ‘কগনিটিভ ডিসফাংশন সিনড্রোম’ হতে পারে। বার্ধক্যের কারণে অনেক সময় তাদের শেখার ক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়লেও বিড়ালের জায়গা চেনার ক্ষমতা সবসময় লোপ পায় না। গবেষণায় এমনও দেখা গেছে যে, কিছু বয়স্ক বিড়াল দ্রুত নতুন জায়গা চিনতে পেরেছে। অর্থাৎ, আপনি চাইলে বয়স্ক বিড়ালকেও নতুন কোনো কৌশল বা অভ্যাস শেখাতে পারেন।
সবশেষে যে প্রশ্নটি সবার মনে আসে, বিড়াল কি আমাদের সঙ্গে কাটানো সুখের মুহূর্তগুলো মনে রাখে? উত্তরটি হলো, হ্যাঁ। বিড়াল কেবল তার জৈবিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য মানুষের কাছে আসে না। নতুন গবেষণা বলছে, ‘এপিসোডিক-লাইক মেমোরি’ বা ঘটনাভিত্তিক স্মৃতি সংরক্ষণের একটি ক্ষমতা থাকতে পারে। তারা মানুষের কণ্ঠস্বর, মুখভঙ্গি ও আচরণের পরিবর্তনের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে এবং সেই অনুযায়ী আচরণ করে। আপনার সঙ্গে তার যে সখ্যতা, আপনার দেওয়া স্নেহ বা আদর—এসব ইতিবাচক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সে আপনাকে যুক্ত করে মনে রাখতে শেখে।

বিড়ালপ্রেমীদের কাছে চিরচেনা দৃশ্য হলো, বাড়িতে ফেরার পর পোষা বিড়াল দরজার সামনে এসে লেজ নাড়িয়ে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। এই যে সে আপনাকে চিনতে পারছে, আপনার গলার স্বর শুনে এগিয়ে আসছে, এর পেছনে কাজ করছে বিড়ালের প্রখর স্মৃতিশক্তি।
অনেক সময় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিড়াল কি মানুষের মতো অতীত রোমন্থন করতে পারে? নাকি তাদের স্মৃতি কেবল খাবার আর বাসস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের স্মৃতিশক্তি আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
বিড়ালের এই স্মৃতিশক্তির মূলে রয়েছে তাদের বেঁচে থাকার আদিম প্রবৃত্তি। বিড়াল মূলত সেই বিষয়গুলোকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে মনে রাখে, যা তার টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। একে বলা হয় ‘স্পেশিয়াল মেমোরি’বা স্থানিক স্মৃতি। প্রকৃতিতে শিকারি প্রাণী হিসেবে তাদের মনে রাখতে হয় কোন জায়গায় নিয়মিত খাবার পাওয়া যায় কিংবা কোন ঝোপের আড়ালে শিকার লুকিয়ে থাকে।
ঘরে থাকা পোষা বিড়ালের ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা কাজ করে। সে খুব ভালো করেই মনে রাখে তার খাবারের পাত্রটি কোথায় থাকে কিংবা বাড়ির কোন কোণটি তার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।
মানুষের স্মৃতির বৈশিষ্ট্য হলো, খুব আনন্দদায়ক অথবা খুব ভয়ংকর কোনো অভিজ্ঞতা সাধারণত আজীবন মনে থাকে। বিড়ালের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা একই রকম। গবেষকরা দেখেছেন, বিড়াল যদি কখনো এমন কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় যা তাকে খুব অবাক করে দিয়েছিল অথবা ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল, তবে সেই অভিজ্ঞতা তারা দীর্ঘদিন মনে রাখে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।
বিড়ালের স্মৃতির স্থায়িত্ব কতদিন, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহল দীর্ঘদিনের। যদিও নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন যে স্মৃতি কত বছর টিকে থাকে। তবে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তারা দীর্ঘ সময়, কখনো কখনো কয়েক বছর পর্যন্ত মনে রাখতে পারে। মানুষের মতোই তাদের স্মৃতি ফিকে হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি নির্ভর করে সেই তথ্যটি তাদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় ছিল তার ওপর।
বিড়ালের পথ চেনার ক্ষমতার গল্প আমাদের প্রায়ই অবাক করে। অনেক সময় দেখা যায়, মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বিড়াল তার পুরোনো বাড়িতে ফিরে এসেছে। মজার ব্যাপার হলো, এই পথ চেনার ক্ষেত্রে তারা কেবল স্মৃতির ওপর নির্ভর করে না। বিড়ালের মধ্যে ‘হোমিং ইন্সটিঙ্কট’ বা বাড়ি ফেরার সহজাত প্রবৃত্তি থাকে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বিড়াল পৃথিবীর ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং চারপাশের পরিচিত ঘ্রাণ ব্যবহার করে নিজের গন্তব্য খুঁজে নিতে পারে। তবে এই ক্ষমতাটি কেবল সেই সব জায়গার জন্য কাজ করে, যেখানে সে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছে এবং যেটিকে সে নিজের ‘আস্তানা’ বলে মনে করে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মতো বিড়ালেরও স্মৃতিভ্রংশ বা ‘কগনিটিভ ডিসফাংশন সিনড্রোম’ হতে পারে। বার্ধক্যের কারণে অনেক সময় তাদের শেখার ক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়লেও বিড়ালের জায়গা চেনার ক্ষমতা সবসময় লোপ পায় না। গবেষণায় এমনও দেখা গেছে যে, কিছু বয়স্ক বিড়াল দ্রুত নতুন জায়গা চিনতে পেরেছে। অর্থাৎ, আপনি চাইলে বয়স্ক বিড়ালকেও নতুন কোনো কৌশল বা অভ্যাস শেখাতে পারেন।
সবশেষে যে প্রশ্নটি সবার মনে আসে, বিড়াল কি আমাদের সঙ্গে কাটানো সুখের মুহূর্তগুলো মনে রাখে? উত্তরটি হলো, হ্যাঁ। বিড়াল কেবল তার জৈবিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য মানুষের কাছে আসে না। নতুন গবেষণা বলছে, ‘এপিসোডিক-লাইক মেমোরি’ বা ঘটনাভিত্তিক স্মৃতি সংরক্ষণের একটি ক্ষমতা থাকতে পারে। তারা মানুষের কণ্ঠস্বর, মুখভঙ্গি ও আচরণের পরিবর্তনের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে এবং সেই অনুযায়ী আচরণ করে। আপনার সঙ্গে তার যে সখ্যতা, আপনার দেওয়া স্নেহ বা আদর—এসব ইতিবাচক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সে আপনাকে যুক্ত করে মনে রাখতে শেখে।

সাহিত্য সমালোচকদের মতে, ফররুখ আহমদ কাব্যের মাধ্যমে ইসলামি ভাবধারাকে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি রাষ্ট্রের কোনো আনুকূল্য পাননি। বরং তাঁকে শিকার হতে হয়েছে তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিহিংসার। তবুও ক্ষুরধার কলম থেমে থাকেনি।
১০ ঘণ্টা আগে
বরফভাঙা জাহাজে টানা আট দিনের এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় তাঁরা ৮২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ অতিক্রম করেন। উত্তাল সমুদ্র আর কনকনে ঠান্ডার মাঝে ‘বরফের জঙ্গল’ পেরিয়ে তাঁরা বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন।
১২ ঘণ্টা আগে
আজ ৯ জুন, আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারকগুলো সংরক্ষণের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। মূলত প্রাচীন নথি, দলিলাদি এবং আমাদের জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই দিবসটির মূল লক্ষ্য।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের মানুষের কাছে রাজনীতি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়। রাষ্ট্রের বিন্যাস আর গঠনকাঠামো বুঝতে চাওয়া পাঠকের সংখ্যা প্রচুর। এ ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়। তবে বিগত কয়েক দশকে রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই বিশেষ বিষয়কেন্দ্রিক বই প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক স
২ দিন আগে