অ্যান্টার্কটিকা ডায়েরি—৩
পৃথিবীর দক্ষিণের শেষ শহর আর্জেন্টিনার উসুয়াইয়া থেকে জাহাজে অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণে বের হয়েছিলেন তানভীর অপু, তারেক অণুসহ একদল পর্যটক। সেই যাত্রাপথে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে নেমে তাঁদের ভ্রমণের শুরু হয় ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে। নীল সমুদ্র, হলুদ ফুল, আকাশে অ্যালব্যাট্রস আর মাটিতে পেঙ্গুইনের সহাবস্থান—প্রথম দিনেই প্রকৃতি খুলে দেয় বিস্ময়ের দরজা। সেই অভিজ্ঞতা লিখেছেন ভূ-পর্যটক তানভীর অপু।
তানভীর অপু

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে আমাদের ভ্রমণ শুরু হয় ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে নামার মধ্য দিয়ে। সমুদ্রযাত্রার ক্লান্তি কাটিয়ে যখন আমরা ছোট নৌকায় ভেসে দ্বীপের তীরে পৌঁছালাম, তখন থেকেই মনে হয়েছিল যেন পৃথিবীর এক কোণে লুকানো কোনো রূপকথার দেশে প্রবেশ করেছি।
দ্বীপে পা রাখতেই চোখে পড়ে অসংখ্য হলুদ ফুল। বাতাসে দুলতে থাকা ফুলগুলো দেখে মনে হচ্ছিল, তারা যেন আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। সামনে নীল সমুদ্র, দূরে সবুজ ঘাসে ঢাকা পাহাড়, আর তার মাঝে রঙিন ফুলের সমারোহ মিলে এক অনন্য আবহ তৈরি করেছিল। শহরের ভিড় আর যান্ত্রিক কোলাহল থেকে বহু দূরে দাঁড়িয়ে, এই দ্বীপ সেদিন প্রকৃতির অমলিন শান্তি ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

দ্বীপে নামার মূল উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর পাখি ব্ল্যাক ব্রাউড অ্যালব্যাট্রস দেখা। এই পাখিগুলোকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই আলাদা। বিশাল ডানাওয়ালা এই অ্যালব্যাট্রস পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডানাওয়ালা পাখিদের মধ্যে অন্যতম। পাহাড়ের পাথুরে খাজে তারা নিজেদের বাসা তৈরি করে আর সেখানে ডিম ফোটায়।
পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে যখন আমরা অ্যালবাট্রসদের কলোনির দিকে এগোচ্ছিলাম, দূর থেকেই চোখে পড়ছিল তাদের উড়ান। গাঢ় নীল আকাশে সাদা-কালো এই পাখিগুলোকে মনে হচ্ছিল আঁকা ছবির মতো ভেসে বেড়াচ্ছে। ডানা মেলে যখন তারা আকাশে উড়ছিল, তা ছিল মহিমান্বিত এক দৃশ্য। আর যখন তারা নিখুঁতভাবে আবার বাসায় ফিরে আসছিল, তখন মনে হচ্ছিল যেন প্রকৃতির নিজস্ব কোনো আচার অনুষ্ঠান চলছে আমাদের চোখের সামনে।

অ্যালব্যাট্রসদের কলোনিতে দাঁড়িয়ে একদিকে যেমন আমরা তাদের পারিবারিক জীবন দেখেছি, অন্যদিকে প্রকৃতির সঙ্গে তাদের কঠিন লড়াইও অনুভব করেছি। বাবা ও মা অ্যালব্যাট্রস পালা করে সমুদ্রে খাবার খুঁজতে যায়। ফিরে এসে তারা ছানাদের খাওয়ায়। এই খাবার খুঁজতে যাওয়ার পথ অনেক সময়ই শত শত কিলোমিটার লম্বা হয়। তবু তারা আশ্চর্য রকম নিখুঁতভাবে নিজের বাসায় ফিরে আসে। এতে বোঝা যায়, তাদের দিকনির্দেশনা ক্ষমতা কতটা অসাধারণ।
অ্যালব্যাট্রসদের চোখে-মুখে আর আচরণে যে যত্ন, মমতা আর দৃঢ়তা দেখা যায়, তা আমাদের মনে গভীরভাবে দাগ কেটে যায়। মনে হয়, প্রকৃতির কঠিন বাস্তবতার মাঝেও ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ কীভাবে টিকে থাকে, অ্যালব্যাট্রসরা তারই জীবন্ত উদাহরণ।

অ্যালব্যাট্রসের থাকার জায়গার পাশেই ছিল রকহপার পেঙ্গুইনের কলোনি। এই পেঙ্গুইনগুলো দেখতে ছোট আর মজার হলেও তাদের জীবন মোটেও সহজ নয়। মাথার ওপর হলুদ রঙের ঝুঁটির মতো পালক থাকায় এদের সহজেই চেনা যায়। পাথুরে পাহাড়ের চূড়ায় তারা বাসা বানায়। প্রতিদিন সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে ছানাদের খাওয়ানো তাদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। খাড়া পাহাড় বেয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে ছোট ছানাদের জন্য যে কষ্ট তারা সহ্য করে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।
সমুদ্র থেকে মাছ ধরে আনা, তা ঠোঁটে করে বাসায় পৌঁছে দেওয়া এবং ছানাদের খাওয়ানো সবকিছুই প্রকৃতির এক বিরামহীন সংগ্রামের গল্প। আমরা অনেক ছোট ছোট ছানাকে দেখেছি যারা তখনও মায়ের উষ্ণ পালকের নিচে লুকিয়ে বসে আছে। মা বা বাবা পেঙ্গুইন খাবার নিয়ে ফিরলেই তারা ছোট ছোট ডাক দিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। সেই দৃশ্য দেখে মনে হয়, সন্তানের প্রতি দায়িত্ব আর ভালোবাসা শুধু মানুষের নয়, প্রাণীজগতেরও সবচেয়ে শক্তিশালী অনুভূতিগুলোর একটি।

অ্যালব্যাট্রস আর রকহপার পেঙ্গুইনকে একই জায়গায় পাশাপাশি থাকতে দেখে মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি এখানে সহাবস্থানের এক সুন্দর উদাহরণ তৈরি করেছে। আকাশে ডানা মেলে উড়ছে অ্যালব্যাট্রস, আর মাটিতে হেঁটে বেড়াচ্ছে পেঙ্গুইন—এই ভিন্নতাই মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অসাধারণ দৃশ্য। আমরা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে তাদের চলাফেরা দেখেছি, ছবি তুলেছি, আবার কিছু সময় চুপচাপ বসেও থেকেছি। মনে হচ্ছিল শব্দ দিয়ে নয়, কেবল হৃদয়ের ভেতরের গভীর অনুভূতিই যথেষ্ট এই সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করার জন্য।
ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে পৌঁছাতে আমাদের প্রায় এক ঘণ্টা হেঁটে যেতে হয়েছে। নৌকা থেকে নামার পর সমুদ্রের ধারের সবুজ মাঠ, রঙিন ফুলে ভরা প্রান্তর আর পাহাড়ি পথ ধরে ধীরে ধীরে আমরা অ্যালব্যাট্রস ও পেঙ্গুইনের কলোনির দিকে এগিয়েছি। অনেক পর্যটক, বিশেষ করে বয়স্করা, জিপে করে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা হাঁটতেই চেয়েছিলাম, কারণ এতে দ্বীপের প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করা যায়। হাঁটার পথে বাতাসের স্পর্শ, সমুদ্রের গর্জন আর মাঝে মাঝে দূরের পাখির ডাক আমাদের মনকে আরও প্রফুল্ল করেছে।

ফেরার পথে আমরা ফকল্যান্ডের আরও কিছু প্রজাতির রাজহাঁস দেখেছি। সবুজ ঘাসের ওপর তারা ছানাদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ছোট ছোট ছানাগুলো মায়ের পেছনে হেঁটে চলছিল, মাঝে মাঝে থেমে ঘাস ঠুকরাচ্ছিল। মা রাজহাঁস সতর্ক দৃষ্টিতে চারপাশ দেখছিল, যেন কোনো বিপদ থেকে ছানাদের রক্ষা করতে পারে।
এই দ্বীপে মানুষের বসবাস বলতে কেবল একটি পরিবার। তাঁরা পর্যটকদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়। আমরা যখন ফিরে আসছিলাম, তখন সেই পরিবার আমাদের জন্য কফি ও নাস্তার আয়োজন করেছিল। অচেনা দ্বীপে, দূর সমুদ্রে এসে এমন আন্তরিক আপ্যায়ন পেয়ে আমরা আবেগাপ্লুত হয়ে মানুষের এই আন্তরিকতা প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলে আমাদের ভ্রমণকে আরও বিশেষ করে তুলেছিল।

ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে কাটানো সময়টা যেন একটি কবিতার মতো। এখানে আমরা শুধু অ্যালব্যাট্রস বা পেঙ্গুইন দেখিনি, দেখেছি সংগ্রাম, ভালোবাসা, সহাবস্থান আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। দ্বীপ ছেড়ে দক্ষিণ মহাসাগরের পথে ফেরার সময় মনে হচ্ছিল, আমরা পৃথিবীর এক অমূল্য অভিজ্ঞতার ছোঁয়া পেলাম।
প্রকৃতির এই অসাধারণ রূপ আর প্রাণীদের বৈচিত্র্য আমাদের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে আমাদের প্রথম ল্যান্ডিং তাই শুধুই ভ্রমণ ছিল না, ছিল প্রকৃতিকে নতুনভাবে চেনার একটি অংশ।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে আমাদের ভ্রমণ শুরু হয় ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে নামার মধ্য দিয়ে। সমুদ্রযাত্রার ক্লান্তি কাটিয়ে যখন আমরা ছোট নৌকায় ভেসে দ্বীপের তীরে পৌঁছালাম, তখন থেকেই মনে হয়েছিল যেন পৃথিবীর এক কোণে লুকানো কোনো রূপকথার দেশে প্রবেশ করেছি।
দ্বীপে পা রাখতেই চোখে পড়ে অসংখ্য হলুদ ফুল। বাতাসে দুলতে থাকা ফুলগুলো দেখে মনে হচ্ছিল, তারা যেন আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। সামনে নীল সমুদ্র, দূরে সবুজ ঘাসে ঢাকা পাহাড়, আর তার মাঝে রঙিন ফুলের সমারোহ মিলে এক অনন্য আবহ তৈরি করেছিল। শহরের ভিড় আর যান্ত্রিক কোলাহল থেকে বহু দূরে দাঁড়িয়ে, এই দ্বীপ সেদিন প্রকৃতির অমলিন শান্তি ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

দ্বীপে নামার মূল উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর পাখি ব্ল্যাক ব্রাউড অ্যালব্যাট্রস দেখা। এই পাখিগুলোকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই আলাদা। বিশাল ডানাওয়ালা এই অ্যালব্যাট্রস পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডানাওয়ালা পাখিদের মধ্যে অন্যতম। পাহাড়ের পাথুরে খাজে তারা নিজেদের বাসা তৈরি করে আর সেখানে ডিম ফোটায়।
পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে যখন আমরা অ্যালবাট্রসদের কলোনির দিকে এগোচ্ছিলাম, দূর থেকেই চোখে পড়ছিল তাদের উড়ান। গাঢ় নীল আকাশে সাদা-কালো এই পাখিগুলোকে মনে হচ্ছিল আঁকা ছবির মতো ভেসে বেড়াচ্ছে। ডানা মেলে যখন তারা আকাশে উড়ছিল, তা ছিল মহিমান্বিত এক দৃশ্য। আর যখন তারা নিখুঁতভাবে আবার বাসায় ফিরে আসছিল, তখন মনে হচ্ছিল যেন প্রকৃতির নিজস্ব কোনো আচার অনুষ্ঠান চলছে আমাদের চোখের সামনে।

অ্যালব্যাট্রসদের কলোনিতে দাঁড়িয়ে একদিকে যেমন আমরা তাদের পারিবারিক জীবন দেখেছি, অন্যদিকে প্রকৃতির সঙ্গে তাদের কঠিন লড়াইও অনুভব করেছি। বাবা ও মা অ্যালব্যাট্রস পালা করে সমুদ্রে খাবার খুঁজতে যায়। ফিরে এসে তারা ছানাদের খাওয়ায়। এই খাবার খুঁজতে যাওয়ার পথ অনেক সময়ই শত শত কিলোমিটার লম্বা হয়। তবু তারা আশ্চর্য রকম নিখুঁতভাবে নিজের বাসায় ফিরে আসে। এতে বোঝা যায়, তাদের দিকনির্দেশনা ক্ষমতা কতটা অসাধারণ।
অ্যালব্যাট্রসদের চোখে-মুখে আর আচরণে যে যত্ন, মমতা আর দৃঢ়তা দেখা যায়, তা আমাদের মনে গভীরভাবে দাগ কেটে যায়। মনে হয়, প্রকৃতির কঠিন বাস্তবতার মাঝেও ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ কীভাবে টিকে থাকে, অ্যালব্যাট্রসরা তারই জীবন্ত উদাহরণ।

অ্যালব্যাট্রসের থাকার জায়গার পাশেই ছিল রকহপার পেঙ্গুইনের কলোনি। এই পেঙ্গুইনগুলো দেখতে ছোট আর মজার হলেও তাদের জীবন মোটেও সহজ নয়। মাথার ওপর হলুদ রঙের ঝুঁটির মতো পালক থাকায় এদের সহজেই চেনা যায়। পাথুরে পাহাড়ের চূড়ায় তারা বাসা বানায়। প্রতিদিন সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে ছানাদের খাওয়ানো তাদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। খাড়া পাহাড় বেয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে ছোট ছানাদের জন্য যে কষ্ট তারা সহ্য করে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।
সমুদ্র থেকে মাছ ধরে আনা, তা ঠোঁটে করে বাসায় পৌঁছে দেওয়া এবং ছানাদের খাওয়ানো সবকিছুই প্রকৃতির এক বিরামহীন সংগ্রামের গল্প। আমরা অনেক ছোট ছোট ছানাকে দেখেছি যারা তখনও মায়ের উষ্ণ পালকের নিচে লুকিয়ে বসে আছে। মা বা বাবা পেঙ্গুইন খাবার নিয়ে ফিরলেই তারা ছোট ছোট ডাক দিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। সেই দৃশ্য দেখে মনে হয়, সন্তানের প্রতি দায়িত্ব আর ভালোবাসা শুধু মানুষের নয়, প্রাণীজগতেরও সবচেয়ে শক্তিশালী অনুভূতিগুলোর একটি।

অ্যালব্যাট্রস আর রকহপার পেঙ্গুইনকে একই জায়গায় পাশাপাশি থাকতে দেখে মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি এখানে সহাবস্থানের এক সুন্দর উদাহরণ তৈরি করেছে। আকাশে ডানা মেলে উড়ছে অ্যালব্যাট্রস, আর মাটিতে হেঁটে বেড়াচ্ছে পেঙ্গুইন—এই ভিন্নতাই মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অসাধারণ দৃশ্য। আমরা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে তাদের চলাফেরা দেখেছি, ছবি তুলেছি, আবার কিছু সময় চুপচাপ বসেও থেকেছি। মনে হচ্ছিল শব্দ দিয়ে নয়, কেবল হৃদয়ের ভেতরের গভীর অনুভূতিই যথেষ্ট এই সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করার জন্য।
ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে পৌঁছাতে আমাদের প্রায় এক ঘণ্টা হেঁটে যেতে হয়েছে। নৌকা থেকে নামার পর সমুদ্রের ধারের সবুজ মাঠ, রঙিন ফুলে ভরা প্রান্তর আর পাহাড়ি পথ ধরে ধীরে ধীরে আমরা অ্যালব্যাট্রস ও পেঙ্গুইনের কলোনির দিকে এগিয়েছি। অনেক পর্যটক, বিশেষ করে বয়স্করা, জিপে করে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা হাঁটতেই চেয়েছিলাম, কারণ এতে দ্বীপের প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করা যায়। হাঁটার পথে বাতাসের স্পর্শ, সমুদ্রের গর্জন আর মাঝে মাঝে দূরের পাখির ডাক আমাদের মনকে আরও প্রফুল্ল করেছে।

ফেরার পথে আমরা ফকল্যান্ডের আরও কিছু প্রজাতির রাজহাঁস দেখেছি। সবুজ ঘাসের ওপর তারা ছানাদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ছোট ছোট ছানাগুলো মায়ের পেছনে হেঁটে চলছিল, মাঝে মাঝে থেমে ঘাস ঠুকরাচ্ছিল। মা রাজহাঁস সতর্ক দৃষ্টিতে চারপাশ দেখছিল, যেন কোনো বিপদ থেকে ছানাদের রক্ষা করতে পারে।
এই দ্বীপে মানুষের বসবাস বলতে কেবল একটি পরিবার। তাঁরা পর্যটকদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়। আমরা যখন ফিরে আসছিলাম, তখন সেই পরিবার আমাদের জন্য কফি ও নাস্তার আয়োজন করেছিল। অচেনা দ্বীপে, দূর সমুদ্রে এসে এমন আন্তরিক আপ্যায়ন পেয়ে আমরা আবেগাপ্লুত হয়ে মানুষের এই আন্তরিকতা প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলে আমাদের ভ্রমণকে আরও বিশেষ করে তুলেছিল।

ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে কাটানো সময়টা যেন একটি কবিতার মতো। এখানে আমরা শুধু অ্যালব্যাট্রস বা পেঙ্গুইন দেখিনি, দেখেছি সংগ্রাম, ভালোবাসা, সহাবস্থান আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। দ্বীপ ছেড়ে দক্ষিণ মহাসাগরের পথে ফেরার সময় মনে হচ্ছিল, আমরা পৃথিবীর এক অমূল্য অভিজ্ঞতার ছোঁয়া পেলাম।
প্রকৃতির এই অসাধারণ রূপ আর প্রাণীদের বৈচিত্র্য আমাদের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে আমাদের প্রথম ল্যান্ডিং তাই শুধুই ভ্রমণ ছিল না, ছিল প্রকৃতিকে নতুনভাবে চেনার একটি অংশ।

মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে রোজার একটি বড় দিক হলো ‘ডিলেড গ্র্যাটিফিকেশন’ বা তাৎক্ষণিক তৃপ্তি থেকে দূরে থেকে একধরণের আত্মসংযমের ভেতর দিয়ে যাওয়া। অর্থাৎ সারাদিন চোখের সামনে খাবার বা পানীয় থাকা সত্ত্বেও তা থেকে বিরত থাকতে যে মানসিক শক্তি প্রয়োজন হয়, এই শক্তি মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিতে প
৩ ঘণ্টা আগে
শুধু ফার্সি কবিতাই নয়, বিশ্বসাহিত্যের প্রতিও খামেনির ছিল দারুণ আগ্রহ। আজীবন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও পাশ্চাত্য সাহিত্যের বড় ভক্ত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ভিক্টর হুগোর বিখ্যাত উপন্যাস ‘লে মিজারেবলস’ তাঁর অত্যন্ত প্রিয়।
৬ ঘণ্টা আগে
অগ্নিঝরা মার্চ চলছে। এই মাস যেমন বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জনের স্মারক, তেমনি তা পাকিস্তানি হানাদারদের চরম পৈশাচিকতারও সাক্ষী। ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি বাহিনী মেতে উঠেছিল এক সুপরিকল্পিত নিধনযজ্ঞে। তাদের সেই বর্বরোচিত আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু কেবল সম্মুখ সমরের যোদ্ধা বা রাজনৈতিক কর্মীরাই ছিল এমন নয়। বহু মান
৯ ঘণ্টা আগে
অগ্নিঝরা মার্চের শুরু। এই মাস আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনের সূচনালগ্ন। আবার সেই সাথে শোক ও দহনের স্মৃতিবাহক। ১৯৭১ সালের মার্চে বাংলার মানুষ যখন স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এক পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞে। তাদের এই পাশবিকতার সবচেয়ে করুণ আখ্যানটি সম্ভবত হলো
৯ ঘণ্টা আগে