জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

যুদ্ধে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য, উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা

এখন পর্যন্ত ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশির নিহতের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতে চার বাংলাদেশি আহত হয়ে চিকিৎসাধীন।

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ২২: ২৪
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। স্ট্রিম গ্রাফিক

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে। কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় বেসামরিক লোকজনের হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। এমনকি বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে একজন নিহত ও চারজনের আহত হওয়ার খবর এসেছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। সেখানে অবস্থানরত প্রবাসীরা উদ্বিগ্ন। যদিও তারা স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ওইসব দেশে চলাফেরার ক্ষেত্রে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের প্রবাসীরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়বেন।

ইউনাইটেড নেইশনস ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সের ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেন্ট স্টক-২০২৪ ডাটাবেস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন সৌদি আরবে, সাড়ে ২৩ লাখের বেশি। ইউনাইটেড আরব আমিরাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাংলাদেশি, ১০ লাখের বেশি। ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশি আছেন ৭ লাখের বেশি।

এছাড়া কুয়েতে ৪ লাখের বেশি, কাতারে প্রায় তিন লাখ, বাহরাইনে ১ লাখ এবং লেবাননে ৩০ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। এর বাইরে ইরান, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও স্বল্পসংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন।

এসব দেশের প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বড় অংশই এখনো স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে সংঘাতের খবর এবং আকাশপথ ব্যাহত, বিমান চলাচল স্থগিত ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার কথা শুনে তারা উদ্বিগ্ন। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ঈদের আগে দেশে ফিরতে বিড়ম্বনায় পড়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

এরমধ্যে গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি আহত হন। তাঁরা সরকারি ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটিতে ড্রোনের আঘাতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপালের একজন করে নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৫৮ জন আহত হয়েছেন।

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে থাকেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার সাইফুল ইসলাম। বর্তমানে ফারওয়ানিয়া এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন তিনি। স্ট্রিমকে সাইফুল বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন হামলা হয়েছিল। কয়েকজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আজ পরিস্থিতি শান্ত। কিন্তু ভয় কাজ করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থানরত কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী রিপন মোল্লা বলেন, এখন পর্যন্ত বড় কোনো আতঙ্ক নেই। তবে মাঝেমধ্যে ফ্লাইট বন্ধ থাকছে। এভাবে চলতে থাকলে ঈদের আগে দেশে ফেরা কঠিন হবে।

সৌদি আরবের আল কাসিম প্রদেশে একটি চকলেট কারখানায় কর্মরত ইব্রাহিম হোসেন জানান, তাদের এলাকায় তেমন সমস্যা নেই। কিন্তু ফ্লাইট বন্ধ থাকায় চিন্তিত। আশেপাশে মার্কিন ঘাঁটি নেই। তারপরেও কী হয়, তা ভয়ে আছেন ইব্রাহিম।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত সীমিত পর্যায়ে থাকলে প্রবাসীদের ওপর সরাসরি বড় প্রভাব নাও পড়তে পারে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে নিরাপত্তা, বিমান যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান– সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবির স্ট্রিমকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অসংখ্য দেশে আমাদের জনশক্তি আছে। এখন যদি ইরান পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে, নিরাপত্তার কারণে তাদের ফিরিয়ে আনতে হতে পারে।

তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনাও করতে হবে। আর বাংলাদেশিরা যদি আয় করতে না পারে, তারা রেমিট্যান্স পাঠাবে কোথা থেকে? ফলে আমাদের রেমিট্যান্সে বড় প্রভাব পড়ার শঙ্কা থাকবে।

যুদ্ধের কারণে প্রবাসী শ্রমিকরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। তিনি বলেন, যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে প্রবাসীরা বড় রকমের অস্থিরতার মধ্যে আছে। কখন কোথায় আক্রমণ হবে তা বলা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি সৌদি আরব। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন–এরা সবাই হুমকির মধ্যে রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো প্রবাসীদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা, সামরিক বা সংবেদনশীল এলাকা থেকে দূরে থাকা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। কয়েকটি মিশনে জরুরি যোগাযোগ নম্বর সক্রিয় রাখা হয়েছে। নিহতের খবরের বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করছে বলেও কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ঘটনায় সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিষয়ে রোববার খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, ইরানের ঘটনাবলীর কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বাংলাদেশিরা কী অবস্থায় আছে সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত