leadT1ad

এ আর রহমান যে গানটি অন্য সিনেমার জন্য বানিয়েছিলেন, সেটিই এনে দেয় অস্কার

আজ অস্কারজয়ী ভারতীয় সুরকার এ আর রাহমানের জন্মদিন। ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এর গান ‘জয় হো’র জন্য তিনি সেরা মৌলিক গানের অস্কার পান। কিন্তু জানলে অবাক হবেন যে গানটি আসলে এই সিনেমার জন্য বানানোই হয়নি।

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ৪৪
স্ট্রিম গ্রাফিক

নব্বই দশকের জনপ্রিয় ‘ছাইয়্যা ছাইয়্যা’ গানের সঙ্গে গলা মেলায়নি এমন সিনেমাপ্রেমী খুব কম পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, ‘তাল সে তাল মিলা’, ‘মাসাক্কালি’ বা ‘তেরে বিনা’-এর মতো অনেক জনপ্রিয় গান হয়ত আমাদের প্লে-লিস্টেই রয়েছে। রকস্টার সিনেমার ‘কুন ফায়া কুন’ যেমন আমাদের পীড়িত মনকে শান্ত করে ঠিক তেমনি ‘রানঝানা’ গানের সুরে আমরা প্রিয়জনের ভালবাসায় ডুবে যাই। এতসব জনপ্রিয় গানের সুরস্রষ্টা একজনই, তিনি এ আর রহমান।

এ আর রহমানের জন্ম ১৯৬৭ সালের ৬ জানুয়ারি, চেন্নাইয়ে। দক্ষিণ ভারতের চেনা গন্ডি পেরিয়ে প্রথমেই তিনি বলিউডের সংগীত জগতে ঝড় তোলেন। আর তারপর প্রতিভার ছাপ রাখেন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও। অস্কারজয়ী সিনেমা ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এর গান ‘জয় হো’র জন্য এ আর রহমান সেরা মৌলিক গানের অস্কার পান। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, যে গানের জন্য সেরার পুরষ্কারটি তিনি পান, সেটি আসলে স্লামডগ মিলিওনিয়ার সিনেমার জন্য বানানোই হয়নি।

‘জয় হো’ গানের গল্প

অস্কারজয়ী জয় হো গানটি আসলে তৈরি করা হয়েছিল সুভাষ ঘাই পরিচালিত আর সালমান খান অভিনীত ‘যুবরাজ’ সিনেমার জন্য। এ আর রহমান গানটি সুর করেছিলেন আর লিখেছিলেন গুলজার। কিন্তু গানটি শোনার পর সুভাষ ঘাইয়ের পছন্দ হলো না। সুভাষ মনে করেছিলেন, সিনেমার সঙ্গে গানটি মানানসই নয়। সিনেমার দৃশ্যের জন্য তাঁর আরও জাকজমকপূর্ণ গানের প্রয়োজন ছিল।

জয় হো গানের ভিডিওর একটি দৃশ্য
জয় হো গানের ভিডিওর একটি দৃশ্য

ফলে গানটি সিনেমা থেকে বাদ পড়ে যায়। তবে এ আর রহমান জানতেন, এই গানটির সুরে প্রাণ আছে, আছে অন্যরকম ছন্দের মাধুর্য। তাই ফেলে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন তিনি।

ঠিক তাই হলো। এরপর এল সুযোগ। তখন এ আর রহমানের ক্যারিয়ার তুঙ্গে। ‘দিল্লি-৬’ আর ‘গজনী’র মত জনপ্রিয় সিনেমার সুর করায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। ঠিক তখনই সিনেমার পরিচালক ড্যানি বয়েলের সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালনার প্রস্তাব আসে তাঁর কাছে।

শুটিং-এর কাজ শেষ, তখন শুধু সুর সংযোজন বাকী। কাজ করবেন বলে মনস্থির করলেন ঠিকই কিন্তু কোনভাবেই পরিচালকের সঙ্গে দেখা করার সময় পাচ্ছিলেন না এ আর রহমান। দীর্ঘ অপেক্ষার মত দুই সৃষ্টিশীল মানুষ একসঙ্গে বসার সুযোগ পান। এরপর তো ইতিহাস। ভারতের ঘিঞ্জি বস্তিতে মানুষের নিত্যকা্র কোলাহলে প্রাণের সঞ্চার করেছেন দূর্দান্ত ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের মাধ্যমে।

যখন স্লামডগ মিলিয়নিয়ারের কাজ শেষ পর্যায়ে, ড্যানি বয়েল রহমানকে জানালেন, ছবির শেষে একটা গান দরকার, যেটা মানুষকে নাচাবে। অর্থাৎ সিনেমাটি যেহেতু ভারতের গল্প নিয়ে, পরিচালক চাইলেন সিনেমার শেষে যাতে বলিউডের প্রচলিত ‘ধামাকাদার’ মিউজিকের ব্যাপারটা থাকে।

এ আর রহমান ঠিক তখন সেই বাতিল হওয়া গানটি ড্যানিকে শোনালেন আর পরিচালক গানটি শোনামাত্রই পছন্দ করে ফেললেন। যদিও ‘যুবরাজ’ সিনেমার জন্য বানানো গানটি স্লামডগ মিলিয়নিয়ারে ব্যবহারের আগে এতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়।

স্টেজে এ আর রহমান। সংগৃহীত ছবি
স্টেজে এ আর রহমান। সংগৃহীত ছবি

যেমন এ আর রহমান গায়িকা তানভি শাহকে ডাকলেন গানটিতে কিছু স্প্যানিশ কথা যোগ করতে। তানভি লিখলেন এবং গাইলেন ‘বালিয়া বালিয়া’ (নাচো নাচো) অংশটি। গানের মূল গায়ক সুখবিন্দর সিংয়ের সেই হাই-পিচ গলাটিই রাখা হলো, সঙ্গে যোগ হলো মহালক্ষ্মী আইয়ার ও বিজয় প্রকাশের গলা। গানের বিটগুলোকে আরও জোরালো করা হলো যাতে পশ্চিমাদের কানেও এটি বাজে।

এই প্রচেষ্টায় এ আর রহমান শুধু সফলই হলেন না, পুরো বিশ্ববাসীর কাছেও নিজের অনন্য প্রতিভা প্রদর্শন করার সুযোগ পেলেন। জয় হো গানের জনপ্রিয়তা এত বেশি ছিল যে গানটিকে কয়েকটি ভাষায় এডাপ্ট করা হয়েছে।

‘গানটি হয়ত স্লামডগ মিলিয়নিয়ারেই হওয়ার কথা ছিল’

স্লামডগ মিলিয়নিয়ারে গানটি দেওয়ার বিষয়ে সুভাষ বলেছিলেন, ‘যখন তাঁরা সিনেমার জন্য গানটি চাইলেন, তখন খুশি মনেই রাজি হয়ে যাই। কারণ যুবরাজে জায়েদ খানের চরিত্রের সঙ্গে গানটি মানাচ্ছিল না। এখন ওরা গানটি ব্যবহার করেছে দেখে ভালোও লাগে। প্রতিটি সিনেমা ও গানের নিজস্ব ভাগ্য তো রয়েছেই। গানটি হয়ত স্লামডগ মিলিয়নিয়ারেরই হওয়ার কথা ছিল।’

এ আর রহমান আজও তাঁর সুরের মুর্ছনায় মুগ্ধ করে চলেছেন ভারত, বাংলাদেশসহ পৃথিবীরের নানান দেশের সংগীতপ্রেমী মানুষদের। আজ তাঁর জন্মদিনে এই সুরসম্রাটকে জানাই প্রাণঢালা শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত