জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঈদ বাজার

ব্র্যান্ডের শোরুমে ভিড়, সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্রেতার অপেক্ষায়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

ক্রেতার অপেক্ষায় সাধারণ দোকানিরা। স্ট্রিম কোলাজ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। নামীদামি ব্রান্ডের শোরুমগুলোতে ক্রেতার ভিড় থাকলেও সাধারণ জামা-জুতার দোকান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ বেচাবিক্রি হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডি, মিরপুর, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা শপিং সেন্টার ঘুরে এই বিপরিতধর্মী চিত্র দেখা গেছে।

উচ্চবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্তদের পছন্দের শপিং সেন্টারগুলোর সামনে রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ির জট, শোরুমে ট্রায়ালরুম ও বিল কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। অন্যদিকে সাধারণ দোকান ও ফুটপাতে কেনাকাটার তেমন ভিড় নেই। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের প্রধান ভরসা এসব দোকানে এখনো ঈদের আমেজ পুরোপুরি লাগেনি।

মিরপুরে মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটের তৈরি পোশাকের ব্যবসা করেন শাহাজাহান মিয়া। আহাদ ফ্যাশানের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান স্ট্রিমকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিক্রি মোটামুটি ,মার্চ মাসের শুরুতে মানুষ যখন বেতন পেয়েছিল, তখন কিছুটা ভালো ছিল। রোজার শেষের দিকে যে বিক্রি হয়—তা এখনো শুরু হয়নি। তবে ঈদের আগে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।

মিরপুর ১০ নাম্বারের ফুটপাতের একজন জুতা বিক্রেতা বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বিক্রি তেমন বাড়েনি। বন্ধের দিনে বিক্রি কিছুটা বেশি হচ্ছে। তিনিও আশা করেন ঈদের দিন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি বাড়বে।

এর ভিন্ন চিত্র বড় শপিং সেন্টারগুলোতে। রাজধানীর ধানমন্ডি, পান্থপথের বসুন্ধরা শপিং সেন্টার, যমুনা ফিউচার পার্কের মতো অভিজাত শপিং সেন্টারগুলোতে উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আউটলেটগুলোতে ঈদ উপলক্ষে পাঞ্জাবি, মেয়েদের পোশাক ও জুতা বিক্রি বেশ ভালো।

দেশের জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্রান্ড জেন্টল পার্ক মিরপুর আউটলেটের ম্যানেজার আল আমিন বলেন, এবারের ঈদ উপলক্ষে সেল ভালো হচ্ছে। সন্ধ্যার পর কাস্টমার বেশি আসে। দিনেও ভালো বিক্রি হচ্ছে।

মানুষের রুচি ও কেনাকাটার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন প্রচারের ফলে ব্র্যান্ডের পোশাকের প্রতি বেড়েছে আগ্রহ।

ঢাকার সাভার থেকে বসুন্ধরা শপিং সেন্টারে ঈদের কেনাকাটা আসা তাসনিম আক্তার জানান, ব্র্যান্ডের আউটলেটে কাপড়ের মান নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়, ডিজাইনেও নতুনত্ব থাকে, দামাদামির ঝামেলাও নেই। তবে দুই মাস আগেও পণ্যের দাম যা ছিল, ঈদ উপলক্ষে কিছু ব্র্যান্ডের ওই একই পণ্য অনেক বেশি দামে বিক্রি করেছে বলে ক্ষোভ জানান তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড ভ্যালু একটা ফ্যাক্টর। তবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের হাতে নগদ অর্থ না থাকায় তার কেনাকাটা কম করছে। মুদ্রাস্ফীতির ও আয় কম হওয়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চবিত্তদের কাছে শপিং সেন্টারে একটা পণ্যের দাম এক হাজার টাকা বেশি হলেও সেটা তাদের কাছে খুব বেশি প্রভাব ফেলছে না। কিন্ত ফুটপাতে নিম্নবিত্তদের পণ্যের দাম ২০০ টাকা বেশি হলেও আয়ের ওপর এর প্রভাব পড়ে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত