জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইরান যুদ্ধের শেষ পরিণতি কী হতে পারে

স্ট্রিম গ্রাফিক

ইরানের যুদ্ধক্ষেত্রে এখনো অনিশ্চয়তার কুয়াশা ঘন। এই যুদ্ধ সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই এখনো অস্পষ্ট। সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর জবাব যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন এখনো দেয়নি। বিশেষ করে প্রশ্ন হচ্ছে, এই যুদ্ধ শেষ হবে কীভাবে? এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক ঝুঁকির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিণতি কী হতে পারে?

ইতিহাস বলে, স্পষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য ছাড়া শুরু হওয়া যুদ্ধ সাধারণত ভালোভাবে শেষ হয় না। যখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অস্পষ্ট বা বিতর্কিত থাকে, তখন যুদ্ধের কোনো যৌক্তিক শেষ সীমা নির্ধারণ করা যায় না। সামরিক সাফল্যের পরই প্রশ্ন ওঠে—এরপর কী করা হবে।

আবার সামরিক ব্যর্থতা নতুন করে আরও আক্রমণ বাড়ানোর অজুহাত হয়ে দাঁড়ায়। ধীরে ধীরে মিশনের পরিধি বাড়তে থাকে, সময়সীমা দীর্ঘ হয়, আর যুদ্ধের প্রাথমিক যুক্তি পেছনে চলে যায়। তখন যুদ্ধ যেন নিজস্ব গতিতে চলতে শুরু করে।

উনিশ শতকের প্রুশীয় সামরিক তাত্ত্বিক কার্ল ফন ক্লজেভিৎস বলেছিলেন, যুদ্ধ আসলে রাজনীতির অন্য রূপ। তবে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপূরক সত্যও আছে—যদি স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে যুদ্ধ নিজেই এক ধরনের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য এখনো পরিষ্কার নয়। ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে বলেছিল, তাদের উদ্দেশ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট করা একটি ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে বলেছিলেন, “তোমাদের সরকার দখল করে নাও। সম্ভবত প্রজন্মের থেকে প্রজন্মের পর এটাই তোমাদের একমাত্র সুযোগ।”

কিন্তু এরপরের কয়েক দিনে প্রশাসনের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি ভেনেজুয়েলার মতো ইরানে একটি “গ্রহণযোগ্য” সরকার বসাতে চায়? নাকি লক্ষ্য হলো ইরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ”? আবার কেউ কেউ বলছেন, উদ্দেশ্য শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা। অন্যদিকে কেউ বলছেন, ইরানে যেই সরকারই টিকে থাকুক না কেন, তাকে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করাই লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এই অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়েছে। গত সোমবার তিনি বাজারকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত বাড়তে থাকা তেলের দাম কমানোর উদ্দেশ্যে ইঙ্গিত দেন যে মার্কিন বাহিনী “নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই” এগিয়ে আছে এবং যুদ্ধ শিগগির শেষ হতে পারে।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আবার ভিন্ন কথা বলেন। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা অনেক দিক থেকে জয়ী হয়েছি, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।” তিনি আরও বলেন, “এই দীর্ঘদিনের বিপদকে একবারে শেষ করতে আমরা আরও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।”

বিদ্রোহ ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি

এই কৌশলগত অস্পষ্টতা ইরানের জনগণের একটা অংশ এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী উভয়কেই কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। সেক্যুলার ইরানিরা খামেনির মৃত্যুকে উদ্‌যাপন করেছে এবং শাসনব্যবস্থার পতন দেখতে চায়। তবে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করেন, শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখনো কম।

কিন্তু যদি বর্তমান ইসলামি সরকারবিরোধী ইরানিরা ট্রাম্পের দাবি করা ‘ঐতিহাসিক’ সুযোগ কাজে লাগাতে রাস্তায় নেমে আসে এবং সরকার কঠোর দমন-পীড়ন শুরু করে তখন কী হবে? চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার বিক্ষোভ দমনে হাজারো বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছিল। এমন পরিস্থিতি আবার ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র কী করবে?

ইতিহাস এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয়। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ ইরাকিদের বিদ্রোহে উৎসাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইন যখন সেই বিদ্রোহীদের নির্মমভাবে হত্যা করছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র দূর থেকে তা দেখেছিল।

আবার ২০১১ সালে লিবিয়ায় বিপরীত ঘটনা ঘটেছিল। তখন ওবামা প্রশাসন স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বেসামরিক মানুষদের রক্ষায় সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল। কিন্তু সেই শাসন পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রব্যর্থতা ও গৃহযুদ্ধের দিকে গড়ায়।

আজ যদি ইরানের ইসলামি শাসনের বিরোধীরা বিদ্রোহ করে এবং সরকার কঠোর দমন শুরু করে, তাহলে ট্রাম্পও সেই একই ধরনের দ্বিধায় পড়বেন। তিনি যদি হস্তক্ষেপ না করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর যদি সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সংঘাতের পরিধি বাড়বে, দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হবে এবং পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে পারে।

এই দ্বিধা সমাধান করার পরিবর্তে ট্রাম্প প্রশাসন যেন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিকল্প কৌশল হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন উসকে দেওয়ার দিকেও ঝুঁকছে বলে মনে হচ্ছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএ উত্তর ইরাকে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি মিলিশিয়াদের অস্ত্র সরবরাহ করছে। একই সময়ে ইসরায়েল ইরান-ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি চৌকি, পুলিশ স্টেশন ও সামরিক অবস্থানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে, যাতে সীমান্তপথ খুলে দেওয়া যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি হয়তো এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন। তবে ইসরায়েল এখনো সে পথে এগোচ্ছে বলে মনে হয়। তাদের অনেক নেতার কাছে শাসন পরিবর্তন সম্ভব না হলে ইরানকে অস্থিতিশীল করে তোলা একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প বলে মনে হচ্ছে। এতে দেশটি লিবিয়া, সিরিয়া বা ২০০৩-এর পরবর্তী ইরাকের মতো খণ্ডিত ও দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।

কিন্তু প্রায় ৯ কোটি মানুষের এই দেশটি ইউরেশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সংযোগস্থলে অবস্থিত। সেখানে রাষ্ট্রীয় ভাঙন সৃষ্টি হলে তা শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যও গভীর অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

মাটিতে সেনা মোতায়েনের ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প

যুদ্ধ যদি আগামীকালই শেষ হয়ে যায়, তবুও কয়েকটি বড় কৌশলগত প্রশ্ন রয়ে যাবে। এর একটি হলো পারমাণবিক প্রশ্ন। এই ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা’ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা উদ্বেগজনক। গত বছরের জুনে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পরিদর্শকেরা ধারণা করেছিলেন, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ৪০০ কিলোগ্রামের বেশি মজুত আছে।

আরও প্রক্রিয়াজাত করা হলে এই পরিমাণ উপাদান প্রায় দশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট। কিন্তু সেই মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর আইএইএ আর নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি এই মজুতের পরিমাণ কত এবং তা কোথায় রয়েছে। এমনকি কে বা কীভাবে এর নিয়ন্ত্রণ নেবে, তাও পরিষ্কার নয়। বর্তমান সংঘাতের পর আহত ও ক্ষুব্ধ ইরান হয়তো ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে অবশিষ্ট পারমাণবিক সক্ষমতাকে দ্রুত অস্ত্রে রূপ দিতে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে পারে।

এই সমস্যার সমাধান শুধু বোমা ফেলে করা সম্ভব নয়। এই উপাদান নিরাপদে জব্দ করতে হলে বড় সংখ্যায় মার্কিন বা ইসরায়েলি সেনা মাটিতে মোতায়েন করতে হবে—যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিকল্প। জানা যায়, ট্রাম্প নাকি এমন সম্ভাবনাও বিবেচনা করেছেন।

বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল অবস্থান

যুদ্ধের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্নের বাইরে আরও বড় প্রশ্ন রয়েছে। সেগুলো হলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার ওপর এর প্রভাব কী হবে। যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন নাকি সতর্ক করেছিলেন যে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ও তীব্র সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রভান্ডার দ্রুত ফুরিয়ে দিতে পারে। এতে অন্য অঞ্চলে সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলার প্রস্তুতি দুর্বল হয়ে পড়বে। যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনেই সেই আশঙ্কার সত্যতা দেখা গেছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে দূরপাল্লার হামলা চালানোর গোলাবারুদ এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। মার্কিন অস্ত্রভান্ডার আগেই চাপের মধ্যে ছিল, আর প্রতিরক্ষা শিল্পও দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে।

ভবিষ্যতে চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির দিক থেকেও এটি একটি বড় ঝুঁকি। ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে ইরানে সামরিক সাফল্য অর্জন করলেও যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোথাও বড় আক্রমণ ঠেকানোর সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।

এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে আরেকটি সম্ভাবনা। বড় ধরনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখতে হতে পারে। তাদের দায়িত্ব হবে যুদ্ধ-পরবর্তী নিয়ন্ত্রণ অভিযান পরিচালনা করা, উদ্বিগ্ন উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করা এবং ইরান যখনই আবার সামরিক শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করবে, তখন নতুন করে হামলা চালানো।

১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। সেই যুদ্ধের পরে সাদ্দাম হুসেইনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি তৈরি হয়, যা আজও বিদ্যমান। আজ যে যুদ্ধের সমর্থকেরা দাবি করছেন যে তারা ইরানের হুমকি একেবারে শেষ করে এই ধরনের জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসবেন, বাস্তবে ওয়াশিংটন আবার সেই একই বালুচোরার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

এখানে এক ধরনের বেদনাদায়ক বৈপরীত্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রদর্শন নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর, এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো তা লক্ষ্য করবে। কিন্তু একই সঙ্গে এই যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়বে। অস্ত্রভান্ডার কমে যাবে, বাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে এবং কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে আগামী কয়েক বছরে চীন ও রাশিয়ার মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ক্ষয়

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে দুটি বড় সামরিক অভিযান চালিয়েছে—ভেনেজুয়েলা ও ইরানের বিরুদ্ধে। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রেই বিস্তৃত আন্তর্জাতিক জোট, জাতিসংঘের অনুমোদন বা শক্ত আইনি ভিত্তি ছিল না।

ট্রাম্প প্রশাসন পার্লামেন্টের ভোট ছাড়াই এই যুদ্ধ শুরু করেছে। এমনকি ইরাক যুদ্ধের আগে যেমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিল, তেমনভাবে মার্কিন জনগণের কাছেও এই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়নি।

মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতারা এই সংঘাতকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার ধারণার বিরোধিতা করছেন বলে নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্র যদি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত নিয়মের বাইরে একতরফাভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাশিয়া প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসন চালালে বা চীন তাইওয়ানে হামলা করলে তাদের সমালোচনা করার নৈতিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুর্বল হয়ে পড়বে।

আজ যুক্তরাষ্ট্র যে আন্তর্জাতিক নিয়মগুলো ক্ষয় করছে, ভবিষ্যতে অন্যদের তা মানতে বাধ্য করার ক্ষমতাও তখন কমে যাবে।

(যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক ম্যাগাজিন ফরেইন অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশিত কোলিন এইচ কাহল-এর ‘হোয়াট ইজ দ্য এন্ড গেম ইন ইরান’ শিরোনামের বিশ্লেষণমূলক লেখা অবলম্বনে)

সম্পর্কিত