সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের গবেষণা

নারী-শিশু নির্যাতনের ৭০ শতাংশ মামলাতেই আসামি খালাস

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা’ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

নারী ও শিশু নির্যাতনের ৭০ শতাংশ মামলাতে খালাস পাচ্ছেন আসামিরা। এ ধরনের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সহিংসতার শিকার হন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১০ বছরের অমীমাংসিত কাজ দুই মাসের মধ্যে শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যাসহ স্পর্শকাতর মামলার জট খুলতে শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী ফোন করে তনু হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চান। এরপরই বিস্তারিত আপডেট নিয়ে আলোচনা হয় এবং ইতোমধ্যে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

২০১৬ সালে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে তনুর লাশ পাওয়া যায়। এই মামলার অন্যান্য আসামির বিষয়েও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

গবেষণায় বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে একটি মামলা নিষ্পত্তিতে গড়ে ৩ বছর ৭ মাস লাগছে। প্রতিটি মামলায় গড়ে অন্তত ২২ বার শুনানির তারিখ পড়ে। বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতার প্রধান কারণ সাক্ষী ও অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি, দুর্বল প্রমাণ এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাব।

সাবেক জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুমের নেতৃত্বে এই গবেষণায় ৩২ জেলার ৪ হাজার ৪০টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের সক্ষমতার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান তিন অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে উপেক্ষিত। তিনি বাজেটের বৈষম্য তুলে ধরে বলেন, ‘বিটিভি যেখানে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পায়, সেখানে পুরো বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ মাত্র ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বাজেটও বিচার বিভাগের চেয়ে বেশি। এই সীমিত অর্থে অবকাঠামো ও বিচারকদের বেতন-ভাতা পরিচালনা করা কঠিন।’

অনুষ্ঠানে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, কম সাজার হার দেখে এসব মামলাকে ‘মিথ্যা’ মনে করার কারণ নেই। বরং সামাজিক কলঙ্ক, ভয় এবং বিবাদীদের চাপের মুখে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আপস করতে বাধ্য হয়। যেহেতু অধিকাংশ ঘটনা চার দেয়ালের মধ্যে ঘটে, তাই বাইরের সাক্ষী পাওয়া কঠিন।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে মানসিকতা, কাঠামো ও সক্ষমতা— এই তিন ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়নের দাবি জানান।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত