গত ২৪ জানুয়ারি আমরা হারিয়েছি জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তি উইলিয়াম হার্বার্ট ফোজ-কে। তিনি শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না। তিনি ছিলেন রোগতত্ত্ববিদ, জনস্বাস্থ্যকর্মী, বিজ্ঞানী এবং টিকা বিশেষজ্ঞ। আজ পর্যন্ত টিকা ও রোগ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে যে একমাত্র প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে, সেই গুটিবসন্ত দূর করার নেতৃত্বে তিনি ছিলেন অগ্রভাগে।
ডা. তানভীর হোসেন

গত ২৪ জানুয়ারি আমরা হারিয়েছি জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তি উইলিয়াম হার্বার্ট ফোজ-কে। তিনি শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না। তিনি ছিলেন রোগতত্ত্ববিদ, জনস্বাস্থ্যকর্মী, বিজ্ঞানী এবং টিকা বিশেষজ্ঞ। আজ পর্যন্ত টিকা ও রোগ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে যে একমাত্র প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে, সেই গুটিবসন্ত দূর করার নেতৃত্বে তিনি ছিলেন অগ্রভাগে।
চিকিৎসা শাস্ত্র ও জনস্বাস্থ্যে নিবেদিতপ্রাণ এই মহান মানুষটির জন্ম ১৯৩৬ সালের ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া প্রদেশের ডেকোরাহ শহরে। গত ২৪ জানুয়ারি তিনি ৮৯ বছর বয়সে মারা যান।
ফোজ ১৯৬১ সালে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমডি ডিগ্রি নেন এবং ১৯৬৫ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (ইউএস সিডিসি)’-এর এপিডেমিক ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসে যোগদান করেন।
১৯৬৬ সালে নাইজেরিয়ার পূর্বাঞ্চলে গুটিবসন্তের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সেখানে জনস্বাস্থ্যমূলক কাজে পাঠানো হয় ডা. ফোজ-কে। একদিকে সেখানকার অধিকাংশ অধিবাসীদের গুটিবসন্তের কোন টিকা নেয়া ছিল। অন্যদিকে টিকার সরবরাহও ছিল কম। ফলে প্রাদুর্ভাব ক্রমেই আরো ভয়ংকর আকার ধারণ করছিল। এমন এক চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে ফোজ উদ্ভাবন করেন টিকাদান কার্যক্রমের ইতিহাসের সেরা কৌশলগুলোর একটি—রিং ভ্যাকসিনেশন পদ্ধতি।
সহজ করে বললে, এই পদ্ধতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির পাশাপাশি তার সংস্পর্শে আসা মানুষদের দ্রুত শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হয়। এতে করে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু সেই বলয় ভেদ করে আর কাউকে সংক্রমিত করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং ধীরে ধীরে নির্মূল হয়ে যায়। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, টিকা সরবরাহ কম থাকলেও অল্প সংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় এনেই রোগটিকে সফলভাবে প্রতিহত করার পাশাপাশি রোগের জীবাণুকে নির্মুল করা যায়।
ফোজের উদ্ভাবিত এই যুগান্তকারী কৌশলটিকেই মূলত পরবর্তী সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী পরিচালিত গুটিবসন্ত নির্মুলকরণ অভিযান বা গ্লোবাল স্মলপক্স ইর্যাডিকেশন প্রোগ্রামের মূল পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর ফলেই ১৯৭৭ সালে সোমালিয়ায় শেষ গুটিবসন্ত রোগী শনাক্ত হয় এবং ১৯৮০ সালে বিশ্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে গুটিবসন্তমুক্ত ঘোষণা করা হয়।
শুনতে মামুলি শোনালেও রোগ হিসেবে মানবজাতির ইতিহাসে গুটিবসন্তের মতো ভয়ংকর রোগ খুব কমই দেখা গেছে। নির্মুল হওয়ার আগ পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত মানুষের প্রায় এক তৃতীয়াংশকেই বলতে গেলে একরকম বিনা চিকিৎসায় বরণ করতে হতো যন্ত্রণাময় মৃত্যু।
এই রোগের ইতিহাস এতো প্রাচীন যে ঠিক কবে এর উদ্ভব সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা সর্বপ্রথম এই রোগের উদ্ভব হয় প্রাচীন ভারতবর্ষ কিংবা মিশরে। ভারতবর্ষের অনেক প্রাচীন লেখাপত্রে এই রোগের উল্লেখ পাওয়া গেছে। এমনকি সনাতন ধর্মের একজন গুটিবসন্ত দেবীও আছেন, যাকে শীতলা মাতা বলা হয়ে থাকে।
রোগতত্ত্ব বিষয়ক তথ্য উপাত্ত থেকে জানা যায় কেবলমাত্র ১৯৬০ সালেই সারাবিশ্বের মোট গুটিবসন্ত রোগীর ৬০ শতাংশ-ই ছিল ভারতের। আরেকটি ঘটনা থেকে গুটিবসন্তের প্রাচীনত্ব আঁচ করা যেতে পারে। মিশরের পিরামিডে প্রাপ্ত খ্রিস্টপূর্ব ১১০০-১৫০০ অব্দের সময়কার বেশ কিছু মমিতে গুটিবসন্তের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের ভেতর অন্যতম হলেন ফারাও ৫ম রামেসেস। তাঁর মমিকৃত দেহাবশেষের খুলিতে বিশেষ করে দুই গালে গুটিবসন্তের দাগ স্পষ্ট। তাই বলা যায় এই রোগেই খ্রিস্টপূর্ব ১১৫৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
ফোজ ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি’র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মূলত তাঁর নেতৃত্বেই ইউএস সিডিসি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যে বিশেষ করে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, টিকা দ্বারা প্রতিরোধযোগ্য রোগের সারভিল্যান্স, বিভিন্ন রোগ প্রাদুর্ভাব তদন্ত ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রাণঘাতী রোগ এইডস প্রতিরোধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা রাখতে শুরু করে।
১৯৮৪ সালে বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে ফোজ ও অন্যরা মিলে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ‘দ্য টাস্কফোর্স ফর চাইল্ড সারভাইভাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’, যা দ্যা টাস্কফোর্স ফর গ্লোবাল হেলথ নামেও পরিচিত। আজ সংগঠনটি বিশ্বে প্রায় সকল দেশে স্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক কাজ করে চলেছে। অনেকে মনে করে থাকেন সারাবিশ্বে বিশেষ করে অনুন্নত বা স্বল্পোন্নত দেশসমূহের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নে এখনও পর্যন্ত সক্রিয় যে কয়টি উল্লেখযোগ্য তহবিল রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম গ্লোবাল ফান্ড এর ধারণাও মূলত ফোজের সংগঠন হতেই এসেছিল।
পেশাগত জীবনে ফোজ দ্য কার্টার সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও তিনি বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র মেডিকেল উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন।
জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিজ্ঞানে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে ভূষিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ পদকে।
জনস্বাস্থ্যে যুগান্তকারী অবদানের কারণে অনেক আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাঁকে ‘ফাদার অব গ্লোবাল হেলথ’ বলে থাকেন। ধারণা করা হয়, তাঁর কাজ ও নেতৃত্বের ফলেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে।
ডা. ফোজ আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর জীবন, কাজ ও চিন্তা থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। তাঁর প্রস্থানকালে আমাদের অঙ্গীকার হোক, তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে জনস্বাস্থ্য ও টিকাদান কার্যক্রমে নতুন ও কার্যকর সব উদ্ভাবন বাস্তবায়ন করা এবং আরও বেশি মানুষের জীবন রক্ষায় ব্রতী হওয়া।
লেখক: চিকিৎসক, গবেষক, জনস্বাস্থ্য ও টিকাবিদ। বর্তমানে ইম্যুনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে জ্যাপাইগো বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিস, ঢাকায় কর্মরত।

গত ২৪ জানুয়ারি আমরা হারিয়েছি জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তি উইলিয়াম হার্বার্ট ফোজ-কে। তিনি শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না। তিনি ছিলেন রোগতত্ত্ববিদ, জনস্বাস্থ্যকর্মী, বিজ্ঞানী এবং টিকা বিশেষজ্ঞ। আজ পর্যন্ত টিকা ও রোগ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে যে একমাত্র প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে, সেই গুটিবসন্ত দূর করার নেতৃত্বে তিনি ছিলেন অগ্রভাগে।
চিকিৎসা শাস্ত্র ও জনস্বাস্থ্যে নিবেদিতপ্রাণ এই মহান মানুষটির জন্ম ১৯৩৬ সালের ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া প্রদেশের ডেকোরাহ শহরে। গত ২৪ জানুয়ারি তিনি ৮৯ বছর বয়সে মারা যান।
ফোজ ১৯৬১ সালে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমডি ডিগ্রি নেন এবং ১৯৬৫ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (ইউএস সিডিসি)’-এর এপিডেমিক ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসে যোগদান করেন।
১৯৬৬ সালে নাইজেরিয়ার পূর্বাঞ্চলে গুটিবসন্তের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সেখানে জনস্বাস্থ্যমূলক কাজে পাঠানো হয় ডা. ফোজ-কে। একদিকে সেখানকার অধিকাংশ অধিবাসীদের গুটিবসন্তের কোন টিকা নেয়া ছিল। অন্যদিকে টিকার সরবরাহও ছিল কম। ফলে প্রাদুর্ভাব ক্রমেই আরো ভয়ংকর আকার ধারণ করছিল। এমন এক চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে ফোজ উদ্ভাবন করেন টিকাদান কার্যক্রমের ইতিহাসের সেরা কৌশলগুলোর একটি—রিং ভ্যাকসিনেশন পদ্ধতি।
সহজ করে বললে, এই পদ্ধতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির পাশাপাশি তার সংস্পর্শে আসা মানুষদের দ্রুত শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হয়। এতে করে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু সেই বলয় ভেদ করে আর কাউকে সংক্রমিত করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং ধীরে ধীরে নির্মূল হয়ে যায়। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, টিকা সরবরাহ কম থাকলেও অল্প সংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় এনেই রোগটিকে সফলভাবে প্রতিহত করার পাশাপাশি রোগের জীবাণুকে নির্মুল করা যায়।
ফোজের উদ্ভাবিত এই যুগান্তকারী কৌশলটিকেই মূলত পরবর্তী সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী পরিচালিত গুটিবসন্ত নির্মুলকরণ অভিযান বা গ্লোবাল স্মলপক্স ইর্যাডিকেশন প্রোগ্রামের মূল পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর ফলেই ১৯৭৭ সালে সোমালিয়ায় শেষ গুটিবসন্ত রোগী শনাক্ত হয় এবং ১৯৮০ সালে বিশ্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে গুটিবসন্তমুক্ত ঘোষণা করা হয়।
শুনতে মামুলি শোনালেও রোগ হিসেবে মানবজাতির ইতিহাসে গুটিবসন্তের মতো ভয়ংকর রোগ খুব কমই দেখা গেছে। নির্মুল হওয়ার আগ পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত মানুষের প্রায় এক তৃতীয়াংশকেই বলতে গেলে একরকম বিনা চিকিৎসায় বরণ করতে হতো যন্ত্রণাময় মৃত্যু।
এই রোগের ইতিহাস এতো প্রাচীন যে ঠিক কবে এর উদ্ভব সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা সর্বপ্রথম এই রোগের উদ্ভব হয় প্রাচীন ভারতবর্ষ কিংবা মিশরে। ভারতবর্ষের অনেক প্রাচীন লেখাপত্রে এই রোগের উল্লেখ পাওয়া গেছে। এমনকি সনাতন ধর্মের একজন গুটিবসন্ত দেবীও আছেন, যাকে শীতলা মাতা বলা হয়ে থাকে।
রোগতত্ত্ব বিষয়ক তথ্য উপাত্ত থেকে জানা যায় কেবলমাত্র ১৯৬০ সালেই সারাবিশ্বের মোট গুটিবসন্ত রোগীর ৬০ শতাংশ-ই ছিল ভারতের। আরেকটি ঘটনা থেকে গুটিবসন্তের প্রাচীনত্ব আঁচ করা যেতে পারে। মিশরের পিরামিডে প্রাপ্ত খ্রিস্টপূর্ব ১১০০-১৫০০ অব্দের সময়কার বেশ কিছু মমিতে গুটিবসন্তের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের ভেতর অন্যতম হলেন ফারাও ৫ম রামেসেস। তাঁর মমিকৃত দেহাবশেষের খুলিতে বিশেষ করে দুই গালে গুটিবসন্তের দাগ স্পষ্ট। তাই বলা যায় এই রোগেই খ্রিস্টপূর্ব ১১৫৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
ফোজ ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি’র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মূলত তাঁর নেতৃত্বেই ইউএস সিডিসি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যে বিশেষ করে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, টিকা দ্বারা প্রতিরোধযোগ্য রোগের সারভিল্যান্স, বিভিন্ন রোগ প্রাদুর্ভাব তদন্ত ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রাণঘাতী রোগ এইডস প্রতিরোধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা রাখতে শুরু করে।
১৯৮৪ সালে বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে ফোজ ও অন্যরা মিলে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ‘দ্য টাস্কফোর্স ফর চাইল্ড সারভাইভাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’, যা দ্যা টাস্কফোর্স ফর গ্লোবাল হেলথ নামেও পরিচিত। আজ সংগঠনটি বিশ্বে প্রায় সকল দেশে স্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক কাজ করে চলেছে। অনেকে মনে করে থাকেন সারাবিশ্বে বিশেষ করে অনুন্নত বা স্বল্পোন্নত দেশসমূহের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নে এখনও পর্যন্ত সক্রিয় যে কয়টি উল্লেখযোগ্য তহবিল রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম গ্লোবাল ফান্ড এর ধারণাও মূলত ফোজের সংগঠন হতেই এসেছিল।
পেশাগত জীবনে ফোজ দ্য কার্টার সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও তিনি বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র মেডিকেল উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন।
জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিজ্ঞানে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে ভূষিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ পদকে।
জনস্বাস্থ্যে যুগান্তকারী অবদানের কারণে অনেক আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাঁকে ‘ফাদার অব গ্লোবাল হেলথ’ বলে থাকেন। ধারণা করা হয়, তাঁর কাজ ও নেতৃত্বের ফলেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে।
ডা. ফোজ আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর জীবন, কাজ ও চিন্তা থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। তাঁর প্রস্থানকালে আমাদের অঙ্গীকার হোক, তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে জনস্বাস্থ্য ও টিকাদান কার্যক্রমে নতুন ও কার্যকর সব উদ্ভাবন বাস্তবায়ন করা এবং আরও বেশি মানুষের জীবন রক্ষায় ব্রতী হওয়া।
লেখক: চিকিৎসক, গবেষক, জনস্বাস্থ্য ও টিকাবিদ। বর্তমানে ইম্যুনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে জ্যাপাইগো বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিস, ঢাকায় কর্মরত।

ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর তৃতীয় পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়। এবারের পর্বে থাকছে নিউইয়র্কের কুইন্সে মধ্যরাতের আড্ডা আর বিশ্বখ্যাত ‘মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট’-এ কাটানো শিল্প ও বিস্ময়ে ভরা এক দিনের গল্প।
৬ ঘণ্টা আগে
বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং জানিয়েছেন, তিনি আর নতুন কোনো প্লেব্যাক গানের কাজ নেবেন না। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সংগীত থেকে সরে যাচ্ছেন না। বরং আবার নতুন করে শুরু করতে চান বাঙালি এই গায়ক, ফিরতে চান ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে।
১২ ঘণ্টা আগে
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চিনি বা ‘অ্যাডেড সুগার’ এতটাই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে যে, একে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবলেই অনেকে আঁতকে ওঠেন। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান চিনিকে আখ্যায়িত করছে ‘সাদা বিষ’ বা হোয়াইট পয়জন হিসেবে।
১ দিন আগে
শিশু খেতে চাইছে না? হাতে ফোন। কান্না থামছে না? চালু ইউটিউব। অনেক বাবা–মায়ের কাছে মোবাইল যেন ‘জাদুর কাঠি’। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস ঝুঁকিপূর্ণ। আবার প্রযুক্তির যুগে শিশুকে পুরোপুরি স্ক্রিন থেকে দূরে রাখাও অসম্ভব। তাই প্রশ্ন হলো, শিশুর স্ক্রিনটাইম বা মোবাইল দেখার সীমারেখা ঠিক কোথায় টানা উচিত
১ দিন আগে