জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

নারীদের শিক্ষা স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৭: ০২
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘নারীদের স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা কীভাবে অবৈতনিক বা ফ্রি করা যায়; সরকার সেই উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প।’

আজ রোববার (১৫ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

‘জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম’-এর উদ্যোগে এ আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারী শিক্ষায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সময় মেডিকেলে নারীদের জন্য প্রথম ২০ শতাংশ কোটা চালু হয়েছিল। আজ যোগ্যতার ভিত্তিতে ৬২ শতাংশই নারী শিক্ষার্থী। খালেদা জিয়া মেয়েদের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।’

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষার মাধ্যমেই একটি কন্যাশিশু অন্ধকার জীবন থেকে আলোকিত জীবনে পদার্পণ করে, যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পায়। বর্তমান সরকার কন্যাশিশুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে নারীদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার প্রয়াস নিচ্ছে।

নারী শিক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অপরিমেয় অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি ও বিশেষ অবদানের জন্য ‘নারীপক্ষ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরিন পারভীন হক এবং ‘সুরভী’-এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননা গ্রহণ করে শিরিন পারভীন হক নারীপক্ষের দীর্ঘ যাত্রার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৯৩ সালে নারীপক্ষের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘আজকের কিশোরী, আগামীর দিশারী’, যা এই ফোরামের কাজের সাথে গভীরভাবে মিলে যায়।

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি কিছু সুপারিশ দিয়েছি। আশা করি নির্বাচিত সরকার এগুলো বাস্তবায়ন করবে।’

তবে সংস্কার প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভায় যে ‘গালাগাল করা হয়েছে’, তার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

অপরদিকে, সম্মাননা পেয়ে সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু বলেন, ‘সুরভী একটি বিশ্বাস। এই বিশ্বাস নিয়েই ৪৭ বছর ধরে অবহেলিত ও নিপীড়িত শিশু-কিশোরদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছি। তারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, এটাই আমার জীবনের সার্থকতা।’

অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কমিশনের কমিশনার ইলোরা দেওয়ান, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরাসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন সংগঠনের নারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত