১৯ খাতের ‘হিটম্যাপ’, বিনিয়োগ প্রণোদনা ৬২ হাজার কোটি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

১৯টি সম্ভাবনাময় খাতে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ ‘হিট ম্যাপ’ প্রকাশ করা হয়েছে। স্ট্রিম গ্রাফিক

বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত ও কর্মসংস্থানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নীতি সহায়তা, কর-শুল্ক রেয়াত এবং বিশেষ অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমরা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে এবং মোট বিনিয়োগকে জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে চাই।

আমির খসরু বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ নিশ্চিত করতে একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাবিজ’ চালু করেছে সরকার। পাশাপাশি ১৯টি সম্ভাবনাময় খাতে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের জন্য বিশেষ ‘হিট ম্যাপ’ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিডার হিটম্যাপে প্রাথমিকভাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাতগুলো হচ্ছে- তৈরি পোশাক, বস্ত্র (অ্যাডভান্সড টেক্সটাইল ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইল), নবায়ণযোগ্য জ্বালানি, চামড়া, অটোমোবাইল ও সরঞ্জাম, ওষুধ, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল, জুতা, ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাকটর, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, খেলনা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, তথ্যপ্রযুক্তি, সরবরাহ ও এপিআই।

অর্থমন্ত্রী জানান, পটুয়াখালী ও যশোরে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের কাজ চলছে। এখানে প্রায় আড়াই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, চাঁদপুর ও কুষ্টিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে।

বাজেটে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণে আটটি খাতকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত পণ্য খালাসের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

কৃষিজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিক্স, স্বর্ণ, ডায়মন্ডসহ সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা অথবা শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও স্কুটার উৎপাদনেও নীতিগত সহায়তার কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬’ নামে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা রিফাইন্যান্সিং তহবিল এবং ২০ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে।

প্যাকেজের আওতায় বন্ধ শিল্পকারখানা ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা; কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা; সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা; রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উদ্ভাবনভিত্তিক কৃষি উদ্যোগে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা ঋণের সুদের হার কম রাখতে সরকার ৬ শতাংশ হারে সুদ ভর্তুকি দেবে। সরকারের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

এসএমই খাতে আরও ২ হাজার কোটি

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের বিকাশে পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। আইডিসিওএল, বিআইএফএফএল এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সহজ শর্তে উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ ঋণ বিতরণ করা হবে।

বেসরকারি অফডক ও আইসিডি পরিচালনায় বিদেশি মালিকানার সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে, যা এই খাতে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

বিশ্বমানের লজিস্টিকস সেবা নিশ্চিত করতে এয়ার কার্গো অপারেটর স্টেশন স্থাপনের নতুন বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক হাবে রূপান্তরের পথ সুগম হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণ, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

সম্পর্কিত