মমতা-সোনিয়া বৈঠক, তৃণমূল-কংগ্রেস এক হওয়ার জল্পনা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১৫: ৪০
মমতা বন্দোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে গত তিন দিনে হওয়া ধারাবাহিক বৈঠক ভারতের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মমতা ব্যানার্জি, সোনিয়া গান্ধী, অভিষেক ব্যানার্জি ও রাহুল গান্ধীর একাধিক বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস—দুই দলই সম্ভাব্য একীভূত হওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বৈঠকগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরকে আরও সুসংগঠিত করা। এছাড়া জাতীয় রাজনীতিতে মমতা ব্যানার্জির ভূমিকা আরও জোরালো করা নিয়ে আলোচনা।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও দুই দলের একীভূত হওয়ার খবর নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধী ও মমতা ব্যানার্জির বৈঠকে রাজনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন মমতা। সেই কারণে তাঁর কংগ্রেসে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠলেও দলীয় সূত্রগুলো এমন সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছে।

বুধবার দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর বাসভবন ১০ জনপথে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হওয়া এই বৈঠক রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দেয়।

এর আগে সোমবার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে এবং মঙ্গলবার মমতা ও সোনিয়ার রুদ্ধদ্বার আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ দেখা যায়। ফলে রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা সামনে আসে।

বৈঠকের পর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তৃণমূল জানায়, গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে এই আলোচনায়।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে দিল্লি সফরে গেলে তিনি প্রায়ই ১০ জনপথে যেতেন।

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার প্রশ্নে দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

ইন্ডিয়া জোট গঠনের পর অধিকাংশ শরিক দলের সঙ্গে কংগ্রেসের নির্বাচনী সমঝোতা থাকলেও তৃণমূল ব্যতিক্রম ছিল। পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী মনে করেই দলটি স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখেছে।

এক সময় রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে মমতার সমালোচনা করেছিলেন। তবে সম্প্রতি তৃণমূলের নির্বাচনী পরাজয়কে তিনি ‘জনমতের চুরি’ বলে উল্লেখ করেন এবং কংগ্রেস নেতাদের এ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হামলার পর রাহুল গান্ধী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তৃণমূল ও কংগ্রেস এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে কিছু জানায়নি।

সম্পর্কিত