স্ট্রিম প্রতিবেদক

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিনের নামে একটি উক্তি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে লেখা— ‘যারা ভোট দেয় তারা নয়, যারা ভোট গণনা করে তারা সব নির্ধারণ করে।’ ছবিসহ উক্তিটি ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে স্ট্যাটাস, পোস্টার-ছবি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্ট্রিম উক্তিটির সত্যতা যাচাই করতে প্রথমে এটিকে বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছে। ইংরেজি উক্তি ইন্টারনেটে সার্চ দিলে পলিটিফ্যাক্টের একটি ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
পলিটিফ্যাক্ট প্রতিবেদন মতে, অনলাইনে উক্তিটি ব্যাপকভাবে স্তালিনের নামে প্রচারিত হলেও তারা এর কোনো নির্ভরযোগ্য, প্রামাণ্য বা আদি উৎস খুঁজে পায়নি। স্তালিনের ভাষণ, লিখিত বক্তব্য, সরকারি নথি কিংবা স্বীকৃত উদ্ধৃতি সংকলনে এমন বক্তব্যের প্রমাণ মেলেনি।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে ‘স্তালিন ডিজিটাল আর্কাইভ’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করে পলিটিফ্যাক্ট। আর্কাইভের সাপোর্ট স্টাফ পলিটিফ্যাক্টকে ইমেইলে জানান, আর্কাইভে সার্চ করেও উক্তিটির সঙ্গে মিলে এমন কোনো উদ্ধৃতি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আর্কাইভের বেশিরভাগ উপাদান ছবি (ইমেজেস) আকারে থাকায় সার্চের মাধ্যমে সবকিছু ধরা নাও পড়তে পারে। ফলে উদ্ধৃতিটি সেখানে থাকলেও সার্চে বাদ পড়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
প্রতিবেদনে আর্কাইভের এডিটোরিয়াল বোর্ডের কয়েকজন ইতিহাসবিদের মতামতও নেওয়া হয়। ইউসিএলএ এর ইতিহাসবিদ জে. আর্চ গেটি বলেন, তিনি স্তালিনের ব্যক্তিগত আর্কাইভ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন, কিন্তু এমন কোনো বক্তব্য কখনও দেখেননি। তিনি জানান, স্তালিনের নামে অনেক ‘অ্যাপোক্রিফাল’ (ভুলভাবে আরোপিত) উক্তি প্রচলিত আছে, এবং এটিও সেরকম বলে মনে হয়।
ইউনিভার্সিটি অব লিডসের ইতিহাসবিদ জেমস হ্যারিস ইমেইলে পলিটিফ্যাক্টকে বলেন, উদ্ধৃতিটি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই মনগড়া’ (অলমোস্ট সার্টেইনলি অ্যাপোক্রিফাল)।
ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ইতিহাসবিদ রন সুনি জানান, তিনি আগে কখনও এই উদ্ধৃতি দেখেন বা শোনেননি। তিনি বলেন, স্তালিনের নামে অনেক উক্তি ভুলভাবে চালু আছে, তাই এই বক্তব্যকে স্তালিনের বলে অ্যাট্রিবিউট করব না।
তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোল্ড ওয়ার স্টাডিজ প্রোগ্রামের পরিচালক মার্ক ক্রেমার একটি সম্ভাব্য উৎসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্তালিনের সাবেক ব্যক্তিগত সচিব বোরিস বাজানভ তাঁর স্মৃতিকথায় রুশ ভাষায় একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেন, যার অর্থ দাঁড়ায়, পার্টির মধ্যে কে ভোট দিল সেটা ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং কে ভোট গণনা করল সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেমারের মতে, বাজানভের বক্তব্য অনুযায়ী এটি ছিল কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চ পর্যায়ের ভোটিং পদ্ধতি প্রসঙ্গে। তবে ক্রেমার আরও বলেন, বাজানভ স্তালিনের কথাটি সঠিকভাবে তুলে ধরেছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
ইউনিভার্সিটি অব রিচমন্ডের ইতিহাসবিদ ডেভিড ব্র্যান্ডেনবার্গার বলেন, বাজানভ ১৯২৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে পালিয়ে যান এবং ১৯৩০ সালে একটি ‘রাদার আনরিলায়েবল মাকরেকিং মেমোয়ার’ (অর্থাৎ খুব নির্ভরযোগ্য নয় এমন স্মৃতিকথা) প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাজানভের মাধ্যমে স্তালিনের নামে প্রচলিত এই উদ্ধৃতিটিকে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই অপ্রমাণিত/ভিত্তিহীন বলে মনে করেন।
আরেকটি ফ্যাক্ট-চেকিং সাইট লিড স্টোরিজ জানায়, স্তালিনের নামে প্রচলিত উক্তিটি সাধারণ জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল, এমন প্রমাণ নেই। তারা উল্লেখ করে, স্তালিনের সাবেক সচিব বোরিস বাজানভের স্মৃতিকথায় পার্টির অভ্যন্তরীণ ভোট গণনা নিয়ে কাছাকাছি বক্তব্যের দাবি পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ উদ্ধৃতির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মতভেদ আছে। পাশাপাশি গবেষণা অনুযায়ী, একই ধরনের উক্তি ১৯শ শতক থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রচলিত ছিল, যা পরে স্তালিনের নামে জুড়ে দেওয়া হতে পারে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিনের নামে একটি উক্তি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে লেখা— ‘যারা ভোট দেয় তারা নয়, যারা ভোট গণনা করে তারা সব নির্ধারণ করে।’ ছবিসহ উক্তিটি ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে স্ট্যাটাস, পোস্টার-ছবি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্ট্রিম উক্তিটির সত্যতা যাচাই করতে প্রথমে এটিকে বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছে। ইংরেজি উক্তি ইন্টারনেটে সার্চ দিলে পলিটিফ্যাক্টের একটি ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
পলিটিফ্যাক্ট প্রতিবেদন মতে, অনলাইনে উক্তিটি ব্যাপকভাবে স্তালিনের নামে প্রচারিত হলেও তারা এর কোনো নির্ভরযোগ্য, প্রামাণ্য বা আদি উৎস খুঁজে পায়নি। স্তালিনের ভাষণ, লিখিত বক্তব্য, সরকারি নথি কিংবা স্বীকৃত উদ্ধৃতি সংকলনে এমন বক্তব্যের প্রমাণ মেলেনি।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে ‘স্তালিন ডিজিটাল আর্কাইভ’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করে পলিটিফ্যাক্ট। আর্কাইভের সাপোর্ট স্টাফ পলিটিফ্যাক্টকে ইমেইলে জানান, আর্কাইভে সার্চ করেও উক্তিটির সঙ্গে মিলে এমন কোনো উদ্ধৃতি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আর্কাইভের বেশিরভাগ উপাদান ছবি (ইমেজেস) আকারে থাকায় সার্চের মাধ্যমে সবকিছু ধরা নাও পড়তে পারে। ফলে উদ্ধৃতিটি সেখানে থাকলেও সার্চে বাদ পড়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
প্রতিবেদনে আর্কাইভের এডিটোরিয়াল বোর্ডের কয়েকজন ইতিহাসবিদের মতামতও নেওয়া হয়। ইউসিএলএ এর ইতিহাসবিদ জে. আর্চ গেটি বলেন, তিনি স্তালিনের ব্যক্তিগত আর্কাইভ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন, কিন্তু এমন কোনো বক্তব্য কখনও দেখেননি। তিনি জানান, স্তালিনের নামে অনেক ‘অ্যাপোক্রিফাল’ (ভুলভাবে আরোপিত) উক্তি প্রচলিত আছে, এবং এটিও সেরকম বলে মনে হয়।
ইউনিভার্সিটি অব লিডসের ইতিহাসবিদ জেমস হ্যারিস ইমেইলে পলিটিফ্যাক্টকে বলেন, উদ্ধৃতিটি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই মনগড়া’ (অলমোস্ট সার্টেইনলি অ্যাপোক্রিফাল)।
ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ইতিহাসবিদ রন সুনি জানান, তিনি আগে কখনও এই উদ্ধৃতি দেখেন বা শোনেননি। তিনি বলেন, স্তালিনের নামে অনেক উক্তি ভুলভাবে চালু আছে, তাই এই বক্তব্যকে স্তালিনের বলে অ্যাট্রিবিউট করব না।
তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোল্ড ওয়ার স্টাডিজ প্রোগ্রামের পরিচালক মার্ক ক্রেমার একটি সম্ভাব্য উৎসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্তালিনের সাবেক ব্যক্তিগত সচিব বোরিস বাজানভ তাঁর স্মৃতিকথায় রুশ ভাষায় একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেন, যার অর্থ দাঁড়ায়, পার্টির মধ্যে কে ভোট দিল সেটা ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং কে ভোট গণনা করল সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেমারের মতে, বাজানভের বক্তব্য অনুযায়ী এটি ছিল কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চ পর্যায়ের ভোটিং পদ্ধতি প্রসঙ্গে। তবে ক্রেমার আরও বলেন, বাজানভ স্তালিনের কথাটি সঠিকভাবে তুলে ধরেছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
ইউনিভার্সিটি অব রিচমন্ডের ইতিহাসবিদ ডেভিড ব্র্যান্ডেনবার্গার বলেন, বাজানভ ১৯২৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে পালিয়ে যান এবং ১৯৩০ সালে একটি ‘রাদার আনরিলায়েবল মাকরেকিং মেমোয়ার’ (অর্থাৎ খুব নির্ভরযোগ্য নয় এমন স্মৃতিকথা) প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাজানভের মাধ্যমে স্তালিনের নামে প্রচলিত এই উদ্ধৃতিটিকে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই অপ্রমাণিত/ভিত্তিহীন বলে মনে করেন।
আরেকটি ফ্যাক্ট-চেকিং সাইট লিড স্টোরিজ জানায়, স্তালিনের নামে প্রচলিত উক্তিটি সাধারণ জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল, এমন প্রমাণ নেই। তারা উল্লেখ করে, স্তালিনের সাবেক সচিব বোরিস বাজানভের স্মৃতিকথায় পার্টির অভ্যন্তরীণ ভোট গণনা নিয়ে কাছাকাছি বক্তব্যের দাবি পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ উদ্ধৃতির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মতভেদ আছে। পাশাপাশি গবেষণা অনুযায়ী, একই ধরনের উক্তি ১৯শ শতক থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রচলিত ছিল, যা পরে স্তালিনের নামে জুড়ে দেওয়া হতে পারে।
.png)

তবে স্ট্রিমকে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ওই দুই যুবক রেললাইনে ঘুমিয়েছিলেন—এমন তথ্য তাঁরা কোনো গণমাধ্যমকে দেননি।
১৩ আগস্ট ২০২৬
পোস্টগুলোর ক্যাপশনে বলা হয়, চাঁদার দাবিতে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের কর্মকর্তাদের ওপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। তবে স্ট্রিমের অনুসন্ধানে এই দাবির সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।
১৩ আগস্ট ২০২৬
ফেসবুকে শেখ হাসিনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এটি গত ৫ আগস্ট তার লাইভে কথা বলার আগের মুহূর্তের দৃশ্য। ভিডিওটিতে শেখ হাসিনাকে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা যায়।
১৩ আগস্ট ২০২৬
ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ডামি বা নকল AK-47 দিয়ে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওটিতে একটি কক্ষে এক ব্যক্তিকে রাইফেলের মতো দেখতে একটি বস্তু হাতে সেটির বিভিন্ন অংশ দেখাতে দেখা যায়।
১২ আগস্ট ২০২৬