ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের বড় অঞ্চলগুলোকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি সরকার। এ সিদ্ধান্তে অঞ্চলটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলের সম্প্রচার সংস্থা ক্যান জানায়, গতকাল রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এই প্রস্তাবটি দেন কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।
স্মোট্রিচ বলেন, এটি সমস্ত জমি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বসতি বিপ্লবের ধারাবাহিকতা। লেভিন বলেন, এটি ইসরায়েলি সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রকাশ, যা সমস্ত অঞ্চলের ওপর শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘ল্যান্ড টাইটেল সেটেলমেন্ট’ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হলো। ১৯৬৭ সালের পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে এ প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল।
এর অর্থ হচ্ছে, যখন ইসরায়েল কোনো এলাকার জন্য জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করবে, সেই জমিতে দাবি থাকা যেকোনো ব্যক্তিকে মালিকানা প্রমাণের জন্য নথি জমা দিতে হবে। কিন্তু দশকের পর দশক ধরে চলা দখলের কারণে ফিলিস্তিনিদের মালিকানা প্রমাণ অত্যন্ত কঠিন হবে এবং এই উদ্যোগ হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জমির অধিকার হারানোর কারণ হতে পারে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই সিদ্ধান্তকে ‘উত্তেজনা সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক আইনের ঘোরতর লঙ্ঘন’ বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান।
হামাসও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে সমালোচনা করেছে। হামাসের মতে, ‘অধিকৃত পশ্চিম তীরে জমি চুরি ও ইহুদীকরণের চেষ্টা চলছে। এটি অবৈধ দখলদার কর্তৃক জারি করা অবৈধ সিদ্ধান্ত।
প্রায় ৩ লাখ ফিলিস্তিনি এসব এলাকায় বসবাস করে এবং আরও এখানে কৃষি ও চারণভূমির ওপর নির্ভরশীল।
দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এখানে অধিকাংশ ফিলিস্তিনির জমি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শতবর্ষ প্রাচীন কাগজপত্র যুদ্ধ বা দখলের সময়ে হারিয়ে গেছে বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন ইসরায়েল সেই জমির মালিকানা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করছে। দখলদার শক্তি দখলকৃত এলাকায় জমি জব্দ বা বসতি স্থাপন করতে পারবে না।’
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক দেশ জর্ডান, কাতার, মিশর ও তুরস্ক সমালোচনা করেছে।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে অতীত প্রশাসনগুলো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কার্যক্রমের প্রসারণ কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে।