জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ওমর ও তালেবকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত: ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৪৬
রাশিদা তালেব (বাঁ থেকে), ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইলহান ওমর। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কংগ্রেসের দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমর ও রাশিদা তালেবকে ‘যেখান থেকে এসেছেন সেখানে ফেরত পাঠানো উচিত।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মুসলিম এই দুই আইনপ্রণেতা নিয়ে এই মন্তব্য করেন। এছাড়া তাঁরা ‘কুটিল ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকের’ মতো আচরণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। খবর আল জাজিরার।

এর আগে, ট্রাম্পের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের সময় এই দুই আইনপ্রণেতা প্রতিবাদে চিৎকার করেন। এরপরই তাঁদের নিয়ে এই মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভাষণে ট্রাম্প যখন তাঁর প্রশাসনের অভিবাসন দমন অভিযানের প্রশংসা করছিলেন; তখন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান তালেব এবং সোমালি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ওমর সরব হয়ে ওঠেন।

এদিকে, ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেন, গতকাল রাতে এই গুরুত্বপূর্ণ ও মনোরম স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে অনুষ্ঠানে নির্বোধ ইলহান ওমর ও রাশিদা তালেব যখন টানা চিৎকার করছিলেন, তখন তাদেরকে উন্মাদ, মানসিকভাবে বিকৃত ও অসুস্থ মনে হয়েছিল। সত্যি বলতে যাদের মানসিক হাসপাতালে রাখা উচিত তেমন আচরণ করছিলেন তাঁরা।

ট্রাম্প বলেন, এরকম আচরণের পরও তাঁরা যেহেতু দেশের জন্য ক্ষতিকর ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত, তখন যত দ্রুত সম্ভব তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া উচিত। তাঁরা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করতে পারে, সাহায্য করার সামর্থ্য তাঁদের নেই।’

ট্রাম্পের প্রায় দুই ঘণ্টার ওই ভাষণে ওমর ও তালেবসহ মুষ্টিমেয় কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা প্রতিবাদ করেন।

ট্রাম্পের এই আক্রমণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলহান ওমর লিখেন, আমি যা বলার বলেছি। ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার ছিল যে তাঁর প্রশাসন আমার দুজন ভোটার নিহতের জন্য দায়ী।

ওমর মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন। এখানকার মিনিয়াপলিস শহরেই গত বছর ট্রাম্প ব্যাপক অভিবাসন অভিযান পরিচালনা করেন। জানুয়ারিতে আইসিই ও কাস্টমস এজেন্টদের অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মিনেসোটায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের হাতে দুইজন নিহত হন।

ওমর মিনেসোটার সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়েরও সদস্য। সোমালি আমেরিকানরা বারবার ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। ট্রাম্প আগেও বলেছেন, তাঁদের ‘যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাওয়া উচিত।’

অন্যদিকে, মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী তালেব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দুজন মুসলিম নারী পাল্টা কথা বললে আর ভুল ধরিয়ে দিলে সহ্য করতে পারছেন না, তাই এখন ক্র্যাশ আউট করছেন। একই পোস্টে তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশে হ্যাশট্যাগ #প্রেসিডেন্টমাজনুন ব্যবহার করেন । উল্লেখ্য, আরবি শব্দ ‘মাজনুন’ অর্থ পাগল বা উন্মাদ।

প্রসঙ্গত, ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে তালেব ও ওমরকে বিশেষভাবে উল্লেখ করলেও ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকব্রাইডের নাম নেননি ট্রাম্প। অথচ তিনিও ভাষণ চলাকালীন প্রতিবাদে চিৎকার করেছিলেন। ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আল গ্রিনের কথাও উল্লেখ করেননি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত