অধিকৃত পশ্চিম তীর

ইসরায়েলি বাহিনী ব্যস্ত ধরপাকড়ে, বসতি স্থাপনকারীরা ঘরে আগুন দিতে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরের টেল শহরে অভিযানের সময় আটক এক ফিলিস্তিনি তরুণকে নিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। ছবি : সংগৃহীত

দুই সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অধিকৃত পশ্চিম তীরে ব্যাপক মাত্রায় অভিযান শুরু করেছে। আর এর আড়ালে ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালাচ্ছে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা।

মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা সমন্বিতভাবে এসব অভিযান ও হামলা চালাচ্ছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর পর্যন্ত অভিযানে অন্তত ৪৮ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এর আগে শুক্রবার অবৈধ হাভাত গিলাদ বসতির কাছে হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরজুড়ে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

একই দিন নাবলুসের টেল শহরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, আইডিএফের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও অন্যান্য সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ফিলিস্তিনের সরকারি বেতার ‘ভয়েস অব প্যালেস্টাইন’ জানিয়েছে, নাবলুসের পশ্চিমে টেল শহরে অভিযান চালিয়ে ৪০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি তরুণকে আটক করেছে ইসরায়েলি সেনারা। অভিযানের সময় একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি দখল করে সেটিকে অস্থায়ী জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে পরিণত করা হয়। পরে পুরো শহর ঘিরে রেখে বাড়ি বাড়ি তল্লাশিও চালায় তারা।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, জেনিন গভর্নরেটে পাঁচজন এবং বেথলেহেমে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেরিকোর আকাবাত জাবর শরণার্থী শিবির, কালকিলিয়া, রামাল্লার কোবার, পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরের কাফর আকাব, জেনিনের ইয়াবাদ, জাবাবদেহ ও বুরকিন এবং তুলকারেমের দক্ষিণের ফারাউন গ্রামেও অভিযান চালিয়েছে আইডিএফ।

নাবলুসের বেইত ফুরিকে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। কারইউত গ্রামে সেনারা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একই সময়ে নাবলুসের দক্ষিণের উরিফ গ্রামে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে।

রামাল্লাভিত্তিক মানবাধিকারকর্মী উবাই আল আবুদি আল জাজিরাকে বলেন, পশ্চিম তীরে যা ঘটছে তা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা’।

তাঁর ভাষ্য, গত ১৮ জুলাইও টেল শহরে হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনি একটি পরিবারকে ভেতরে আটকে রেখেই তাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। স্থানীয়রা শেষ মুহূর্তে পরিবারটিকে উদ্ধার করেন।

আবুদি বলেন, ফিলিস্তিনিরা আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেই ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায়, কারফিউ জারি করে এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করে। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হলেও কোনো ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তারা পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধ, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত