সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী/ব্যাটারিচালিত রিকশার লাগবে লাইসেন্স, চলবে নির্ধারিত রুটে, শনাক্তে কিউআর কোড

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংসদে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংসদ বাংলাদেশ টিভির সৌজন্যে
সংসদে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংসদ বাংলাদেশ টিভির সৌজন্যে

সারা দেশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলরত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে অনুমোদিত বৈধ অটোরিকশাগুলোকে নম্বর প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। পাশাপাশি নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে চালকদের।

আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

একটি নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রেশন) বিপরীতে যেন একাধিক অটোরিকশা চলতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার কঠোর হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে ১০ থেকে ২০টি যান চালানো হয়। এই জালিয়াতি রোধে আমরা কিউআর কোডসহ ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা করছি। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ হয়েছে। ইতোমধ্যে বিধিবিধান ও নীতিমালা প্রণয়নের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।’ কর্মসংস্থানের ক্ষতি না করে, রুট নির্ধারণ এবং পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত যুক্ত করে এই খাতকে শৃঙ্খলায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।

এর আগে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত নারী আসন-৪ এর সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। তিনি বলেন, রাজধানীর সড়কগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পন্ন ট্র্যাফিক ক্যামেরা বসানোর পর কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও নম্বর প্লেট না থাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে জরিমানা করা যাচ্ছে না।

রেহানা আক্তার রানু উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন ঢাকায় প্রায় ৩০০ নতুন অটোরিকশা নামছে। অবৈধভাবে চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুতের ব্যাপক অপচয় হচ্ছে, যার কারণে লোডশেডিং বাড়ছে।’ তিনি অটোরিকশাগুলোকে প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট জোনে চলাচলের ব্যবস্থা করা, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া এবং বিআরটিএর নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রস্তাব করেন।

সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বল্প ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে এই যানটি সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ভূমিকা রাখছে এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের কারণে এটি এখন যানজট, সড়ক নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

বিদ্যুৎ চুরির চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট মাত্র ৩ হাজার ৩০০টি। অথচ শুধু ঢাকা শহরেই ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এসব অবৈধ সংযোগের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিয়ন্ত্রিত রিসাইক্লিংয়ের কারণে মারাত্মক বায়ু ও পানিদূষণ হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান টেনে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালে সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে একটি বড় অংশের পেছনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দায় ছিল। দুর্বল ব্রেক, অতিরিক্ত গতি এবং অদক্ষ চালকের কারণে মহাসড়কগুলোতেও চরম ঝুঁকি তৈরি করছে এই যান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, যানজট ও বিশৃঙ্খলা নিরসনে ইতোমধ্যে ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ যান আটক, ডাম্পিং করার পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। তবে লাখ লাখ মানুষের জীবিকার কথা বিবেচনায় নিয়ে, কাউকে বেকার না করে একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত