leadT1ad

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ

প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১: ১৩
কম্বোডিয়ার বান্তে মিনচে প্রদেশের পোইপেট শহরে থাই বিমান হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি গ্যারেজ পরিদর্শন করছেন প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম পরিহিত এক ব্যক্তি। ছবি: এএফপি

আসিয়ান শান্তি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সোমবার ভোরে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি হয়। এদিন মালয়েশিয়ায় আসিয়ান জোটের তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসার কথা ছিল।

বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সংঘাতের সমাধান খোঁজা। কিন্তু নতুন সংঘর্ষে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আসিয়ান জুলাই মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করিয়েছিল। এই উদ্যোগে মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভূমিকা রাখেন।

পরে ডিসেম্বরের ৮ তারিখ থেকে সংঘাত আবার শুরু হয়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, থাইল্যান্ড এফ–১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে। এই বিমান থেকে চারটি বোমা ফেলা হয়েছে বান্টেয় মিয়ানচে প্রদেশে। এ ছাড়া প্রেই চান গ্রামে ‘বিষাক্ত গ্যাস’ ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।

কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, দেশটির সেনারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা দেশের ভূখণ্ড রক্ষায় সতর্ক ও দৃঢ় রয়েছে।

সোমবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। এর মধ্যে শিশুদেরও দেখা যায়। অনেক শিশু আতঙ্কে কান্না করছিল। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

থাইল্যান্ডের একটি টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। কম্বোডিয়ার বাহিনী ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হয়। এতে আগুন লাগে এবং কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

থাই সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ আগ্রাসন চালায়নি। তিনি দাবি করেন, দখল হওয়া অধিকাংশ এলাকা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে আসিয়ান বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই বৈঠকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সংঘাত শুরুর পর এটিই তাদের প্রথম সরাসরি বৈঠক।

মালয়েশিয়া জানিয়েছে, উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া স্যাটেলাইট তথ্যও উপস্থাপন করা হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি চান, আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী ও ন্যায্য সমাধান আসুক।

যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ, ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার এবং শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। জুলাই ও অক্টোবরের চুক্তি নিয়েও বিরোধ রয়ে গেছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত