জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইরানের সব ড্রোন প্রতিহতের সক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন কর্মকর্তা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৩: ১৪
ইরানের সব ড্রোন প্রতিহতের ক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ইরান প্রতিশোধমূলক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন হামলা করে, তবে সেগুলোর সবগুলো ভূপাতিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে।

দ্যা গার্ডিয়ান বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা গোপন এই বৈঠকে বলেছেন, ইরান এমন কৌশল নিচ্ছে যেন যুক্তরাষ্ট্র তার অস্ত্রভাণ্ডারের গোলাবারুদ দ্রুত শেষ করতে বাধ্য হয়।

জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা বলেন, ইরান হাজার হাজার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন মোতায়েন করছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এসব ড্রোনের বেশিরভাগই ভূপাতিত করতে সক্ষম, তবে সবগুলো নয়।

ফলে কংগ্রেসে দেওয়া ওই গোপন ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ড্রোন ও প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল ধ্বংস করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সংবেদনশীল তথ্য হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কথা বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান তাদের কম খরচের একমুখী আক্রমণাত্মক শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করছে। ধীরে এবং নিচু দিয়ে উড়তে পারায় এসব ড্রোনকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর বলে মনে করা হয়।

একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের এই ড্রোন কৌশল—যার উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে তার অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য করা—ভুল এবং সফল হয়নি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পদ্ধতিতে এসব ড্রোন ধ্বংস করছে।

তবুও কংগ্রেসের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুতগতিতে প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা জেনারেল কেইনও স্বীকার করেছেন বলে একজন অবগত ব্যক্তি জানান, যদিও তিনি প্রকাশ্যে অস্ত্রভাণ্ডারের মজুদ নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বুধবার পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে কেইন বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা, উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের পর্যাপ্ত নির্ভুল গোলাবারুদ রয়েছে।’

হামলার উচ্চমাত্রার কারণে খরচও অনেক বেড়েছে। যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। তবে পরে তা কমে প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে এবং সংঘাত চলতে থাকলে ব্যয় আরও কমতে পারে বলে প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক বিশ্লেষণ সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন।

তবে হোয়াইট হাউস নিরাপত্তাজনিত কারণে এবিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত এই যুদ্ধ চালাতে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘মাঝারি ও উচ্চ-মাঝারি মানের’ গোলাবারুদের মজুদ অসীম।

বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘আমাদের অস্ত্রভাণ্ডার এমন সব জায়গায় রয়েছে, যার অনেকগুলো সম্পর্কে পৃথিবীর অনেকেই জানে না।’ ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত