স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালদের’ হুমকি মোদির

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৫৫
ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে লাল কেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: এএফপি

ভারতে কয়েক দশক ধরে চলা মাওবাদি বিদ্রোহ অনেকটাই নির্মূল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে আন্দোলনটির আদর্শিক সমর্থকদের কাছ থেকে এখনো হুমকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে মোদি বলেন, ভারত সশস্ত্র নকশালদের থেকে মুক্তি পেয়েছে। নকশাল বলতে মাওবাদি প্রভাবিত নকশালপন্থি আন্দোলনের সদস্যদের বোঝানো হয়। মধ্য ও পূর্ব ভারতে এই আন্দোলন রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছিল।

তবে মোদি বলেন, ‘দিমাগি নকশাল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালরা সহিংসতা সৃষ্টির সুযোগ খুঁজছে। তাদের ‘শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন’ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ‘আরবান নকশাল’ শব্দটির সঙ্গে মিল রয়েছে। মোদি ও তার ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতারা এর আগে কর্মী, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও সরকারের সমালোচকদের বোঝাতে ‘আরবান নকশাল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

মোদির এই বক্তব্যের কয়েক সপ্তাহ আগে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) একটি আন্দোলন তার সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ওই আন্দোলনে তার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হয়।

মোদি তার ভাষণে ওই আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেননি। তবে তরুণ ভারতীয়দের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তিনি বারবার তুলে ধরেন। এসব উদ্যোগের মধ্যে এআই দক্ষতার প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিনা মূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের কথা বলেন তিনি।

মোদি বলেন, গত এক দশকে ভারত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

ভারতের নকশালপন্থি আন্দোলনের শুরু ১৯৬৭ সালে পূর্ব ভারতের নকশালবাড়ি গ্রামে এক বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে। পরে এটি কয়েক দশক ধরে চলা সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়। ভূমিহীন কৃষক, গ্রামীণ দরিদ্র ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে আন্দোলনটি এগিয়ে যায়। সংঘাতে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক, বিদ্রোহী ও নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।

মোদি বলেন, মাওবাদি আন্দোলন তরুণদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নীতির কারণে মাওবাদি সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলো বহু বছর ধরে অভিযোগ করে আসছে, ভারত সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন, রাষ্ট্রদ্রোহ-সংক্রান্ত বিধান এবং বিদেশি অর্থায়নবিষয়ক নিয়ম ব্যবহার করে নাগরিক সমাজকে চাপে রাখছে। এসব আইন ও বিধানের মাধ্যমে সরকারের নীতির সমালোচনাকারী কর্মী, সাংবাদিক ও সংগঠনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালদের’ হুমকি মোদির