জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬, ০১: ০৪
অপারেশন এপিক ফিউরিতে অংশ নেওয়া মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের তিন সপ্তাহ পেরোনোর পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার অতিরিক্ত মেরিন ও নৌসেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২০ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিন মার্কিন কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তাদের দুজন রয়টার্সকে জানান, সরাসরি ইরানের ভেতরে সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে এই অঞ্চলে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য যেকোনো অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, ইউএসএস বক্সার নামের উভচর আক্রমণকারী জাহাজ (অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসাল্ট শিপ), এর মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট (এমইইউ) এবং আনুষঙ্গিক যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে।

নতুন করে এই সেনা মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ৫০ হাজার মার্কিন সেনার শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ওই অঞ্চলে মোট দুটি মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট অবস্থান করবে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে পাঠানো প্রথম ইউনিট আগামী সপ্তাহেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ইউনিটগুলোকে বহুমুখী সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা যেতে পারে, যার মধ্যে জাহাজে থাকা উড়োজাহাজ ব্যবহার করে হামলা চালানো থেকে শুরু করে স্থলে সেনা মোতায়েনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি ‘কোথাও’ সেনা পাঠাচ্ছেন না। তবে পাঠালেও তিনি সাংবাদিকদের সেটি জানাবেন না।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানের পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এসব বিকল্পের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েন এবং ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশের কেন্দ্রবিন্দু খার্গ দ্বীপে স্থলবাহিনী পাঠানোর মতো বিষয়গুলো ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনায় রয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার সমাপ্ত রয়টার্স/ইপসসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প ইরানে বড় পরিসরে স্থলযুদ্ধের নির্দেশ দেবেন এবং মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ এই ধারণাকে সমর্থন করেন।

পেন্টাগনের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইরানের ভেতরে ৭ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং ৪০টির বেশি ইরানি মাইন স্থাপনকারী নৌযান ও ১১টি সাবমেরিন ধ্বংস করেছে। যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই সংঘাতের ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ অনুমোদনের জন্য হোয়াইট হাউসকে প্রস্তাব দিয়েছে পেন্টাগন।

সম্পর্কিত