বৈঠক নিয়ে ইরানের স্বীকার-অস্বীকারকে ‘পারস্যের কৌশল’ বললেন ভ্যান্স

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯: ২৬
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা নিয়ে তেহরানের প্রকাশ্য অস্বীকার আসলে পারস্যের আলোচনার কৌশল। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই চলছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত ‘দ্য মাইকেল নোলস শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, আগেই নির্ধারিত কারিগরি আলোচনা বুধবার হওয়ার কথা। তার ভাষ্য, এসব আলোচনা আগের কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা।

ইরানের অবস্থানকে ‘আকর্ষণীয়, তবে হতাশাজনক’ উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, একদিকে তেহরান শান্তি আলোচনা অস্বীকার করছে, অন্যদিকে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নসংক্রান্ত কারিগরি আলোচনা চলার কথা স্বীকার করছে।

ভ্যান্স বলেন, তারা বলে, শান্তি আলোচনা চলছে না। আবার একই সঙ্গে বলে, শান্তিচুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি আলোচনা চলছে। এটি পারস্যের আলোচনার কৌশল এবং এমন এক ধরনের বক্তব্য, যা আমি বুঝি না।

ইরান নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনার জবাবও দেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারে প্রস্তুত, তবে সেটি কেবল নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য।

সমালোচকদের উদ্দেশে ভ্যান্স বলেন, তাদের অবস্থান হলো শুধু বোমা ফেলতে হবে। কিন্তু কেন বা কী লক্ষ্য অর্জনের জন্য তা করতে হবে, সেটি তারা ব্যাখ্যা করতে পারে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেখিয়েছেন, তিনি প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, তবে তা তখনই, যখন সেটি কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণ করবে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের বক্তব্যের চেয়ে তাদের কর্মকাণ্ডকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আলোচনায় অগ্রগতি আনতে তেহরানকে ‘বাস্তবসম্মত ছাড়’ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভ্যান্স বলেন, ইরান কী বলছে, তার চেয়ে তারা কী করছে, সেটিই আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের ইঙ্গিতই দেখছি। প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছেন, আলোচনা চালিয়ে যেতে এবং দেখতে যে কূটনৈতিকভাবে সমাধান সম্ভব কি না। তা না হলে আমাদের সামনে আরও বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে।

এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার জানান, ইরান কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকের অনুরোধ করেছে। এর পরই হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার দোহায় যান।

তবে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের সূচি থাকার কথা অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, বুধবার দোহায় কাতারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টিও রয়েছে।

এদিকে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, উইটকফ ও কুশনার মঙ্গলবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল-থানি এবং অন্য মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে চুক্তি–সংক্রান্ত আঞ্চলিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি গত ১৮ জুন কার্যকর হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইলেকট্রনিকভাবে এতে সই করেন।

সমঝোতার আওতায় ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান, যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত