leadT1ad

কঠোরতার মধ্যেই ইরানে বিক্ষোভ চলছে, রাতভর সংঘর্ষ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৫৯
ইরানে বিক্ষোভ চলছে। ছবি: বিবিসি

ইরানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাতেও নিরাপত্তা বাহিনীর ‘ক্র্যাকডাউন’ উপেক্ষা করে দেশটির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। রাতভর চলে সংঘর্ষ। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বিবিসি জানিয়েছে, ইরানজুড়ে ইন্টারনেট যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে। এজন্য বিক্ষোভের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে বেগ পেতে হচ্ছে গণমাধ্যমগুলোকে। এরপরও তারা কিছু ভিডিও যাচাই করে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দেখেছে, সরকার দমননীতি আরও জোরদার করেছে।

ইরানের সরকারি ভাষ্যেও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। শনিবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বলেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেবে, তাদের ‘খোদাদ্রোহী’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরানের আইনে এটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।

ইরানের সেনাবাহিনীও ‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষার অঙ্গীকার করেছে। সেনাবাহিনীর দাবি, ইসরায়েল ও শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও নিরাপত্তা প্রশ্নে ‘লাল রেখা’ অতিক্রম না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

তীব্র মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদ থেকে দুই সপ্তাহ আগে ইরানে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। তবে গত কয়েক দিনে এটি সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে দেশটির শতাধিক শহর ও জনপদে বিক্ষোভ চলছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হলেও এখন বিক্ষোভকারীরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ধর্মতাত্ত্বিক শাসনের অবসান দাবি করছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, ইরান সরকার শক্ত হাতে এ আন্দোলন থামানোর পথ বেছে নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ২০০ ছাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সদস্যও নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া অনেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

বিবিসি ইরানের এক হাসপাতালকর্মীদের বরাতে জানিয়েছে, আহত ও নিহতের চাপে হাসপাতালগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে শুধু রাশত শহরের একটি হাসপাতালেই এক রাতে অন্তত ৭০টি মরদেহ আনা হয়, যাদের মধ্যে ছয়জন ছিল শিশু।

এদিকে, বিক্ষোভ ঠেকাতে ইরান সরকার ইন্টারনেট ‘শাটডাউন’ জারি রেখেছে। বৈশ্বিক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রাখার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কও কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে।

ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান শাটডাউন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর। একজন গবেষক বিবিসিকে জানান, দেশে কার্যত সব ধরনের ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ। বাইরে যোগাযোগের একমাত্র সম্ভাব্য উপায় হিসেবে স্টার লিংকের কথা বলা হলেও সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ইরানে প্রবেশ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা কঠিন হয়ে উঠেছে। এরপরও কিছু ভিডিও সামনে এসেছে।

বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের গিশা এলাকায় বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন। ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদের ভাকিল আবাদ বুলেভার্ডে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের দৃশ্যও ধরা পড়েছে। সেখানে আগুন, গুলির শব্দ এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা যায়।

তেহরানের পুনাক স্কয়ার ও হেরাভি এলাকাতেও বিক্ষোভের ভিডিও পাওয়া গেছে। এসব ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ধর্মীয় নেতাদের শাসনের অবসান দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

‘সহায়তায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’

চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানে ইসলামি সরকারের পতনে সহায়তার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ইরান হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বাধীনতার কাছাকাছি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এতে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা বিস্তারিত বলেননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানে এখনই হামলা চালানোর কোনো হুমকি নেই।

এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল।

এদিকে, রোববার ভোরে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের আগের শেষ শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহর ছেলে রেজা পাহলভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণ একা নয়। বিশ্বজুড়ে থাকা স্বদেশিরা তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরছে।

রেজা পাহলভি ইরানের বিরোধী দলের একাংশের নেতৃত্ব দেন। এই অংশটি রাজতন্ত্রের সমর্থক। পাহলভির সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্টতাও রয়েছে।

ইরানে এবারের বিক্ষোভ ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সময় কয়েক মাসে পাঁচ শতাধিক ইরানি নিহত এবং প্রায় ২০ হাজার জনকে আটক করা হয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত