যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, শান্তির কী হবে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ১৯: ২১
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত। স্ট্রিম গ্রাফিক

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে ইরানের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরান। উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।

গত ১৫ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে প্রাথমিক চুক্তি সই হয়েছিল। এই পাল্টাপাল্টি হামলা সেই সমঝোতাকে বিপদের মুখে ফেলেছে। নতুন করে উত্তেজনার মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ।

প্রশ্ন উঠছে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা কি দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে দিল?

চুক্তি কি ভেস্তে যাচ্ছে?

কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্র্যাফ্টের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি আল জাজিরাকে বলেন, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো ‘সমঝোতা স্মারককে নিশ্চিতভাবেই চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে একে অপরের ওপর গুলি চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল-লেবানন চুক্তিও সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থী বলে মনে হচ্ছে। সব মিলিয়ে চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

গত সোমবার সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার আলোচনা শেষে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে এবং লেবাননে যুদ্ধ থামাতে ওয়াশিংটন ও তেহরান নতুন যোগাযোগের চ্যানেল খুলতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু তা সামরিক সংঘাত এড়াতে পারেনি।

সামাজিকমাধ্যমে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকের প্রয়োগ নিয়ে কোনো মতবিরোধ থাকলে তারা ফোন করে কথা বলতে পারে। কিন্তু সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।’

আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব রোমের আন্দ্রেয়া দেসি মনে করেন, ‘সমঝোতা স্মারক অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে তা ভেস্তে যেতে পারে।’

তবে তিনি আরও বলেন, ‘এই সংঘাত বড় কোনো যুদ্ধে রূপ নিতে না দেওয়াই দুই দেশের স্বার্থের পক্ষে।’

আন্দ্রেয়া দেসির মতে, ‘উভয় পক্ষই দেখাতে চায় যে প্রণালি নিয়ন্ত্রণ বা আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা তাদের হাতেই রয়েছে। এর ফলে এমন সম্ভাব্য সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ভয় রয়েছে।’

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

ইরানের দাবি, তারা এই জলপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রাখে। এই প্রণালিতে জাহাজগুলোর ওপর টোল বা ফি আরোপের চেষ্টা করছে দেশটি। তাদের নেতারা পরিষ্কার জানিয়েছেন, হরমুজ কখনোই আর যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে টাকা দেওয়ার এই ধারণা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

গত এপ্রিলে ইরান প্রথমবারের মতো তাদের অনুমোদিত নৌপথের মানচিত্র প্রকাশ করে। সেখানে জাহাজগুলোকে আগের চেয়ে ইরানের উপকূলের অনেক কাছ দিয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন সংস্থাও গঠন করে ইরান।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, ‘যেকোনো বিশ্বাসযোগ্য কাঠামো অবশ্যই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় এবং সমঝোতা স্মারকের পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে হবে।’

ওই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান ৬০ দিনের জন্য পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং বিপরীত দিকে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও বিনা খরচে চলাচলে সম্মত হয়েছে।

এছাড়া, নৌচলাচল ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা নিয়ে ইরান, ওমান এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার বিধানও চুক্তিতে রয়েছে, যা ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ হতে হবে।

তবে ৬০ দিন পার হওয়ার পর কী হবে, সে বিষয়ে চুক্তিতে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।

গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল বা ফি আদায়ের কোনো অধিকার ইরানকে দেওয়া হবে না।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক রেসুল সেরদার আতাস জানান, সাম্প্রতিক উত্তেজনা চলমান আলোচনার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তিনি বলেন, ‘ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণের ওপর এত জোর দিচ্ছে কারণ এটাই তাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তারা মনে করে, যদি এই চাপের অস্ত্র হাতছাড়া হয়ে যায়, তবে আলোচনার টেবিলে তাদের অবস্থান একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়বে।’

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

Ad 300x250

সম্পর্কিত