যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতি: এখন পর্যন্ত যা যা হলো

তথ্যসূত্র:
তথ্যসূত্র:
সিএনএন এবং আল-জাজিরা

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ২০
এআই জেনারেটেড ছবি

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব, আর অন্যদিকে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ট্রাম্পের মঙ্গলবার পর্যন্ত দেওয়া সময়সীমা—এই তিন-এ টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে আছে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য।্ট নয়’। অন্যদিকে, ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের জবাবে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধসহ ১০ দফার পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।প্রস্তাবকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলছেন, এই প্রস্তাব ‘যথেষ্ট নয়’। অন্যদিকে, ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের জবাবে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধসহ ১০ দফার পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার সমান্তরালে বারবার ট্রাম্পের ‘ইরানকে ধ্বংস’ করার হুমকি শান্তি আলোচনায় বাধার সৃষ্টি করছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, একমাত্র তিনিই এই যুদ্ধবিরতির শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনীতি নানা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছিলেন, ট্রাম্প নিজেই ‘আলোচনার টেবিল বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন’। তবে গত মাসের শেষের দিকে ট্রাম্পের সুর কিছুটা নরম হতে শুরু করে।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

শুরুতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করার পর গত ২৩ মার্চ ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘খুবই ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা’ করেছে। তিনি জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ইতিবাচক সাড়া না মেলায় ২৬ মার্চ ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘খুব দেরি হওয়ার আগেই সিরিয়াস হও।’ এরপর গত কয়েক দিনে ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের (মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল) মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে ইরান ‘নরক’ দেখতে পাবে।

ইরানের অনড় অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনার দাবিকে বারবারই অস্বীকার করে আসছে ইরান। সোমবার (৬ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ৪৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, অস্থায়ী বিরতির সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরবর্তী হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে। বাঘাই বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চাই এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে চাই।’

এর আগে বাঘাই প্রশ্ন তুলেছিলেন, যারা যুদ্ধ শুরু করেছে এবং নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে, তাদের আলোচনার প্রস্তাব কতটা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে? পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিও জানিয়েছেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চললেও একে প্রথাগত ‘আলোচনা’ বলা চলে না।

তবে সোমবার রাতে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ১০ দফার প্রতিক্রিয়া জমা দিয়েছে ইরান। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা, আঞ্চলিক শত্রুতা বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ প্রোটোকল তৈরি করা, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পুনর্গঠন সহায়তা এবং ইরানের ওপর থেকে সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

পাকিস্তান অন্যান্য দেশের ভূমিকা

এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৩ মার্চ ট্রাম্প আলোচনার কথা বলার পরপরই ইসলামাবাদ জানিয়েছিল, তারা আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত। পেন্টাগন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠকের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।

ওয়াশিংটনের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমেই ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। এই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে শর্ত দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্ক, মিসর এবং সৌদি আরবও এই যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব, আর অন্যদিকে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ট্রাম্পের মঙ্গলবার পর্যন্ত দেওয়া সময়সীমা—এই তিন-এর টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে আছে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য।

সম্পর্কিত