বাড়ল করমুক্ত আয়সীমা, বছর ধরে রিটার্ন দাখিল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১৯: ১৫
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর ঘোষণায় সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারে স্বস্তি আসবে। স্ট্রিম গ্রাফিক

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বেড়েছে। সাড়ে তিন থেকে করা হয়েছে পৌনে চার লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, শুধু আগামী অর্থবছরে নয়; ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও করমুক্ত আয়সীমা পৌনে ৪ লাখ টাকা অব্যাহত থাকবে।

অবশ্য গত বছর বাজেটেই করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন অন্তবর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার তা অব্যাহত রাখল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘোষণায় সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারে স্বস্তি আসবে।

বাজেটে অন্যবারের মতো এবারো কিছু বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমায় বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি নারী করদাতা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতার জন্য সোয়া চার লাখ টাকা; তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য পাঁচ লাখ; গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা ও গেজেটভুক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর আহত জুলাই যোদ্ধা করদাতাদের জন্য সোয়া ৫ লাখ টাকা করমুক্ত আয়সীমাও বাড়বে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মা-বাবা বা আইনানুগ অভিভাবকের প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে ৫০ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১ কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রতিবছর ৪০ থেকে ৪২ লাখ করদাতা রিটার্ন দেন। এসব করদাতাকে রিটার্ন দাখিলের সময় করমুক্ত আয়সীমা হিসাব করে কর দিতে হয়।

সারা বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল

আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছর রিটার্ন দেওয়া যাবে। আগে দিলে বেশি করছাড় পাবেন করদাতারা। বাজেট প্রস্তাব অনুসারে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা, যা কম তাই ছাড় পাবেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন যা কর তাই দিলেই হবে। কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।

জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।

প্রকৃত আয় কমেছে

সর্বশেষ ২০২৩ সালের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছিল। এরপর আর করমুক্ত আয়সীমা বাড়েনি; কিন্তু গত তিন বছরে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে। এতে যেসব করদাতা করমুক্ত সীমার একটু ওপরে ছিলেন, তাদের কর দিতে হচ্ছে। আবার উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের জীবনযাত্রার খরচও বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, সর্বশেষ গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

৫ শতাংশ কর হার নেই

এবার আয়করের কর হার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। যেমন– এবার করমুক্ত আয়সীমার পরের প্রথম এক লাখ টাকার জন্য যে ৫ শতাংশ কর আছে, তা বাদ দেওয়া হেয়েছে। যাদের বার্ষিক আয় পৌনে চার লাখ টাকার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা পরবর্তী প্রথম ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, ৪ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ, ৫ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের জন্য ৩০ শতাংশ হারে করারোপ করা হয়েছে। এতে করদাতাদের ওপর করের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে।

ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক

বাজেটে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার সময় কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এখন থেকে যেকোনো ব্যক্তি ব্যাংক হিসাব খুলতে চাইলে তাঁকে টিআইএন (ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিটিফিকেশন নাম্বার) সনদ দেখাতে হবে। মূলত করের জাল বাড়াতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

যদিও সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন লাগবে না। এছাড়া ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব বা নো ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারি ভাতা পাওয়ার জন্য হিসাব এবং পেনশনভোগীদের ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রেও টিআইএন দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

বর্তমানে দেশে ১৭ কোটির বেশি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে করদাতার সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

সম্পর্কিত