সফল চন্দ্রাভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করছে আর্টেমিস–২ ক্রু ক্যাপসুল। ছবি নাসার ফেসবুক পেজ থেকে

অর্ধশতক পর প্রথম মনুষ্যবাহী মিশন হিসেবে চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়ন মহাকাশযানটি অবতরণ করে। উদ্ধারকারী দলগুলো আগে থেকেই নির্দিষ্ট স্থানে প্রস্তুত থাকায় দ্রুত ক্যাপসুলটি উদ্ধার করা এবং নভোচারীদের জাহাজে তোলা সম্ভব হয়।

ওরিয়ন মহাকাশযানে ছিলেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের কয়েক মিনিট আগে মিশন কমান্ডার ওয়াইজম্যান কন্ট্রোল রুমকে জানান, ‘জানালা দিয়ে চাঁদকে চমৎকার দেখাচ্ছে, তবে গতকালের চেয়ে আজ কিছুটা ছোট মনে হচ্ছে।’ এর জবাবে হিউস্টন থেকে বলা হয়, ‘মনে হচ্ছে আমাদের আবারও সেখানে যেতে হবে।’

আর্টেমিস–২ মিশনের চার নভোচারীর প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখছেন নাসার মিশন কন্ট্রোলের শতাধিক কর্মী। নাসার ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া ছবি
আর্টেমিস–২ মিশনের চার নভোচারীর প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখছেন নাসার মিশন কন্ট্রোলের শতাধিক কর্মী। নাসার ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া ছবি

লকহিড মার্টিনের তৈরি ওরিয়ন মহাকাশযানের জন্য এই ফিরে আসা ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। ক্যাপসুলটি তীব্র গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় প্রায় ২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করেছে। এই প্রচণ্ড উত্তাপে ‘প্লাজমা স্তর’ তৈরি হওয়ায় নভোচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে প্যারাসুট খোলার মাধ্যমে গতি কমিয়ে ওরিয়ন আলতোভাবে সাগরে আছড়ে পড়লে আবার যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

উদ্ধারকারী জাহাজ থেকে নাসা প্রধান জারড আইজ্যাকম্যান বলেন, ‘আমরা আবারও নভোচারীদের চাঁদে পাঠানো এবং তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমে ফিরলাম।’ ১০ দিনের এই মিশনে নভোচারীরা অ্যাপোলো যুগের পর পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী পথ পাড়ি দিয়েছেন। তাঁরা চাঁদের দূরবর্তী অংশ (ফার সাইড) প্রদক্ষিণ করে ভবিষ্যতের অবতরণ মিশনের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করেছেন।

আর্টেমিস-২ মিশনকে ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষ নামানোর (আর্টেমিস-৪) লক্ষ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এবারের মিশনটি বেশ কিছু ইতিহাসেরও সাক্ষী হয়েছে। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য দেশের নাগরিক হিসেবে চাঁদ ভ্রমণের ইতিহাস গড়লেন। মিশন কমান্ডার ওয়াইজম্যান এক আবেগঘন বার্তায় বলেন, ‘মহাবিশ্বের এই বিশেষ স্থানে আমাদের এই সুন্দর গ্রহটিকে সবার আগলে রাখা উচিত।’

সূত্র: আল-জাজিরা

সম্পর্কিত