ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৫৮৯, খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছে স্বজন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় গত বুধবার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো শত শত মানুষ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের উদ্ধারে বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করেছে। খবর আল জাজিরার।

২৪ জুন ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে অনুভূত অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। কম্পন পাশের দেশগুলোতে অনুভূত হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে, নিহত বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত তিন হাজার মানুষ। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ। এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, সেখানে ১০০টির বেশি ভবন ধসে পড়েছে এবং অন্তত ৭০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও বন্ধ রাখা হয়েছে।

লা গুয়াইরা শহরে স্বেচ্ছাসেবকেরা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ চালাচ্ছেন। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন অনেক পরিবার। একইসঙ্গে কারাকাস-লা গুয়াইরা মহাসড়ক ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা পানি, খাবার ও ওষুধ নিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

ভূমিকম্পে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের একজন, ৬৪ বছর বয়সী পেদ্রো পেরেজ। তিনি জানান, তাঁর বাড়ি ও ব্যবসা—দুটিই হারিয়েছেন। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে এখন রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। দ্রুত ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি।

রাজধানী কারাকাসেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় অনেক মানুষ রাত কাটাচ্ছেন রাস্তায়। স্থানীয় সাংবাদিক মারিয়া এমিলিয়া মিরো কেসাদা বলেন, ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা, যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ব্রাজিল একটি ফিল্ড হাসপাতাল, দমকলকর্মী ও সহয়তাকর্মী পাঠাচ্ছে।

এল সালভাদর ৩০০ উদ্ধারকর্মী, প্যারামেডিক এবং ৫০ টন ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রেখেছে। কিউবার চিকিৎসকেরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। মেক্সিকো উদ্ধারকারী ও চিকিৎসক দল পাঠাচ্ছে। কলম্বিয়াও ৬০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১২ টন মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

এ ছাড়া স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, চীন, ভারত, ইরান, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্ধার তৎপরতা ও মানবিক সহায়তায় অংশ নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস ফেডারেশন (আইএফআরসি) পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ২৫ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে। ভ্যাটিকান জানিয়েছে, পোপ লিও চতুর্দশ প্রাথমিক জরুরি সহায়তা হিসেবে ১ লাখ ইউরো পাঠিয়েছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত