এক বৈঠকেই চুক্তি হওয়ার আশা কেউ করেনি: ইরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ১৪
রয়টার্সের ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হলেও কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, দুই দেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে, তবে দুই থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে। খবর আলজাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানি গণমাধ্যমকে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘এই আলোচনা ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর হয়েছে এবং অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশে হয়েছে। তাই এক বৈঠকেই চুক্তি হবে– এমনটা কেউ আশা করেনি।’

তিনি আরও বলেন, আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা, সদিচ্ছা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর।

যোগাযোগ চলমান রাখার চেষ্টা পাকিস্তানের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ভেস্তে গেলেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ধরে রাখতে চায় পাকিস্তান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে একই টেবিলে বসাতে ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ভূমিকা রেখেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলজাজিরাকে জানান, আলোচনা শেষ হয়ে গেলেও যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়নি, বরং এটি একটি সুযোগ। পাকিস্তান চায় যুদ্ধে আক্রান্ত আঞ্চলিক দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসিয়ে মতপার্থক্য কমাতে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক শেষে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টা ধরে দু’পক্ষের মধ্যে চলা কয়েক দফার নিবিড় ও গঠনমূলক আলোচনায় আমি নিজে এবং চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মধ্যস্থতা করেছি।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আগামীতেও ‘ইতিবাচক মনোভাব’ বজায় রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের অভিযোগ– ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের বৈরুতে নির্বিচারে বোমা হামলা চালিয়ে এই সংবেদনশীল আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করেছেন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা ও নিন্দা তৈরি হয়েছে।

এর আগে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার কথা জানানোর পরপরই পাকিস্তান ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল।

পাকিস্তান ছাড়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ২১ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালিয়েছি। তবে খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।’

যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নিয়েই আলোচনায় যোগ দিয়েছিল দাবি করে ভ্যান্স বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দু’পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে একটা সাধারণ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি এবং এটিই আমাদের চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব। এখন দেখা যাক ইরানিরা তা গ্রহণ করে কিনা।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভ্যান্স বলেন, ‘আলোচনার ফলাফল যাই হোক না কেন, পাকিস্তানিরা অসাধারণ কাজ করেছে।’

সম্পর্কিত