ইরান যুদ্ধে অসহযোগিতা: ন্যাটো মিত্রদের শাস্তির পরিকল্পনা পেন্টাগনের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ২৪
সামরিক মহড়া চলাকালে একটি যানবাহনের ওপর পতাকা স্থাপন করছেন স্প্যানিশ সৈন্যরা। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ন্যাটো মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের একটি গোপন অভ্যন্তরীণ ই-মেইলে এ নিয়ে একাধিক কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব আলোচনা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবগুলোর উদ্দেশ্য শুধু তাৎক্ষণিক সামরিক সুবিধা আদায় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ন্যাটো মিত্রদের আচরণে পরিবর্তন আনা। বিশেষ করে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ঘাঁটি ব্যবহার, আকাশসীমা অতিক্রম কিংবা অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতীকী ও বাস্তব পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আলোচিত ও কঠোর প্রস্তাবগুলোর একটি স্পেনকে ন্যাটো জোট থেকে বহিষ্কার করা বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

স্পেন ইরানবিরোধী অভিযানে নিজেদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়। অথচ দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। যেগুলো ইউরোপ ও আফ্রিকা অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থানকে ওয়াশিংটন ‘অসহযোগিতা’ হিসেবে দেখছে।

পেন্টাগনের ওই ই-মেইলে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা। বর্তমানে দ্বীপগুলোর ওপর ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে লন্ডনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চিন্তাও আলোচনায় এসেছে।

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ানোয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প স্টারমারকে ‘কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেন এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সক্ষমতাকেও তুচ্ছ করে মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ন্যাটো একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে থাকতে পারে না। তাদের ভাষায়, মিত্রদের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতা’ বন্ধ করতে হলে কঠোর বার্তা দেওয়া জরুরি। এ কারণে যারা সহযোগিতা করছে না, তাদের ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও ই-মেইলে রয়েছে।

এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান ভিন্ন। ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধে যোগ দেওয়া মানে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। যা করতে তারা এ মুহূর্তে রাজি নয়। তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে আগ্রহী তারা।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতি ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ৭৬ বছরের পুরোনো এই জোটের মূল ভিত্তি ছিল পারস্পরিক আস্থা ও সমষ্টিগত নিরাপত্তা। কিন্তু বর্তমান সংকটে সেই আস্থার ভিত দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ, ভবিষ্যতে কোনো সদস্য দেশ হামলার শিকার হলে যুক্তরাষ্ট্র আগের মতো পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে না পৌঁছালেও ইউরোপে পৌঁছাতে সক্ষম। যারা বিপদের সময় পাশে দাঁড়ায় না, তাদের নিয়ে কোনো জোট টিকে থাকতে পারে না।

সম্পর্কিত