হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতানৈক্য

হামলা থামিয়ে ফের আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

মঙ্গলবার কাতারে নতুন বৈঠক

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ০৯: ০১
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক দিনের হামলা-পাল্টা হামলার পর আপাতত সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় আবারও আলোচনায় বসবে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফা অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সব বিষয় নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু হবে। একই সঙ্গে আপাতত দুই পক্ষ সামরিক তৎপরতা থেকে সরে দাঁড়াবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। এর আগে একই তথ্য প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটন বা তেহরান।

নতুন এই উদ্যোগের আগে কয়েক দিন ধরেই উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার দুটি হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলার ড্রোন হামলার জেরে আবারও সরাসরি সংঘাতে জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। ইরানের বেশ কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে ইরান।

হামলার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে বলেন, ইরান সমঝোতা না মানলে যুক্তরাষ্ট্র ‘সামরিকভাবে কাজ শেষ’ করতে পারে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এমন হামলা অব্যাহত থাকলে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় বাহিনীটি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাহরাইন জানিয়েছে, একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হয়নি। কুয়েতের সেনাবাহিনীর দাবি, তারা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

কমেছে জাহাজ চলাচল

সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আল জাজিরার ওপেন সোর্স ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত ৪৮টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ২৩টি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার, সাতটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১৯টি কার্গো বা কনটেইনারবাহী জাহাজ ছিল।

তবে সংঘাত তীব্র হওয়ার আগে বুধবার প্রণালিটি দিয়ে ৭০টি এবং বৃহস্পতিবার ৫৪টি জাহাজ চলাচল করেছিল। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।

লেবাননেও উত্তেজনা

এদিকে লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, রোববার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালানো হয়েছে। ইরান বলছে, বৃহত্তর সমঝোতা কার্যকর রাখতে হলে লেবাননের সংঘাতও বন্ধ করতে হবে।

বাহরাইনকে হুঁশিয়ারি

বাহরাইনকে ‘সীমা মেনে চলার’ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি বলেছেন, বাহরাইন যদি যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে বা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তেহরান আরও কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হবে। তার ভাষায়,‘বাহরাইনকে তাদের সীমা জানা উচিত। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন খেলা না করে ইরানকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না করাই ভালো।’

এর আগে শুক্রবার ও শনিবার বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি করে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকেই তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাহরাইন। দেশটি বলেছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলা তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও সমালোচনা

ইরানকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি। ইরানি-আমেরিকান এই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য ‘বিপজ্জনক’ এবং ‘ভারসাম্যহীন’। তিনি বলেন, ‘হাজারো নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে, পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং আমাদের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই যুদ্ধ এখনই শেষ হওয়া উচিত।’

তথ্যসূত্র : রয়টার্স, আল জাজিরা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত