ভেনেজুয়েলায় নিহত ১,৪৫০ ছাড়াল, ক্ষীণ হচ্ছে আশার আলো

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১২: ২৬
ভেনেজুয়েলার লা গুইরায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবনের ড্রোনচিত্র। ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের খোঁজ চলছে। যদিও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন করে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা দ্রুত ক্ষীণ হয়ে আসছে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৪৫০।

ভূমিকম্পের প্রায় ৮৬ ঘণ্টা পর রোববার ৬০ বছর বয়সী এক নারী, এক বাবা ও তাঁর কিশোর ছেলেসহ অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববারের উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে উপকূলীয় কারাবাইদা এলাকায়। সেখানে ৮৬ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ৬০ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করে এল সালভাদর ও পেরুর যৌথ উদ্ধারকারী দল। এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে জানান, টানা ১১ ঘণ্টার অভিযানের পর তাঁকে বের করে আনা সম্ভব হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

এ ছাড়া কারাবালেদায় ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক বাবা ও তাঁর কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে। এর আগে পৃথক দুটি অভিযানে ১১ বছর বয়সী দুই শিশুকেও জীবিত বের করে আনা হয়। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, শুধু সপ্তাহান্তেই ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবু উদ্ধারকারীরা বলছেন, সময় যত যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুইরাসহ কয়েকটি এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভও বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকর্মী পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। কোথাও কোথাও স্বজনদের খুঁজতে মানুষকে খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখা গেছে। কয়েকটি এলাকায় লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্বের ২৪টি দেশ ভেনেজুয়েলায় ৫২১ টন ত্রাণসামগ্রী, অনুসন্ধানী কুকুর এবং ২ হাজার ৭০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ২৫০ সদস্যের উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি ১৫ কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৫০ লাখ ইউরো সহায়তা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার আশঙ্কা, এই দুর্যোগে ৬৭ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

এদিকে নির্বাসনে থাকা ভেনেজুয়েলার নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো রোববার জানিয়েছেন, তিনি খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। তাঁর ভাষায়, ‘এখন সময় একসঙ্গে শোক ভাগ করে নেওয়ার এবং মানুষকে সাহস জোগানোর।’

গত বুধবার (২৪ জুন) দেশটির উপকূলীয় লা গুইরা এলাকায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প হয়। এতে ৭৭৪টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ১৮৯টি পুরোপুরি ধসে পড়ে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ১৫০ জন। বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।

তথ্যসূত্র : এএফপি, রয়টার্স ও আলজাজিরা

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত