ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

কারাকাসে ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের মাঝে লোকজন। ছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ এবং আহত ৯৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) রাতে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় লাতিন আমেরিকার দেশটিতে ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির একাধিক রাজ্যে অনেক ভবন ধসে যায়। বহুতল ভবন ধসে নিচে আটকা পড়েন অনেকে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা–ইউএসজিএসের তথ্যমতে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.২। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ইয়ারাকুই রাজ্যের সান ফেলিপে এলাকায়। প্রথম ঝাঁকুনির রেশ না কাটতেই মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আঘাত হানে দ্বিতীয়টি। এবারেরটি আরও শক্তিশালী–৭.৫ মাত্রার। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এ কারণে এই আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপকূলীয় শহর কাটিয়া লা মার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন। বহু বাসিন্দা রাত পার করেছেন রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে অথবা ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের পাশে। ধসে পড়া আবাসিক ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ল্যারি রোহাস (৪৯) জানান, তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। রোহাস বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের কাছে কিছুই নেই, এমনকি ভেতরে ঢোকার মতো শক্তি বা সাহসটুকুও অবশিষ্ট নেই।’

ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়া মেয়ের অপেক্ষায় থাকা এক মা বলেন, ‘ভেতরে মানুষ এখনো জীবিত আছে, কিন্তু উদ্ধার করতে কেউ আসছে না।’

বুধবার ভেনেজুয়েলায় সরকারি ছুটি থাকায় ভূমিকম্প আঘাতের সময় অধিকাংশ মানুষই নিজ বাসস্থানে ছিলেন। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউএসজিএস তাদের ‘প্যাজার’ সিস্টেমের বিশ্লেষণ দিয়ে জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত