ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে কর্মকর্তাদের তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ ট্রাম্পের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৯: ৪১
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করতে মার্কিন কর্মকর্তাদের তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। যদিও এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় মূলত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্রুথ সোশ্যালে রোববার দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘গঠনমূলক’ আলোচনা এগিয়ে চলছে, তবে উভয় পক্ষকেই পর্যাপ্ত সময় নিতে হবে এবং বিষয়টি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, একটি চুক্তি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘চূড়ান্ত’ হয়ে গেছে, যা দেখে ধারণা করা হয়েছিল যে যেকোনো মুহূর্তে এর ঘোষণা আসতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তারাও আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, দুই পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একই সঙ্গে ‘খুব কাছে এবং খুব দূরে’ অবস্থান করছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়। বরং এটি কিছু অত্যন্ত জটিল বিষয়কে পরবর্তীতে আলোচনার জন্য তুলে রাখছে, যার মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইরানের দাবি, ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানি তহবিল ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান এবং ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের দাবি।

এই সম্ভাব্য চুক্তিটি রিপাবলিকানদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে যুক্তি দিচ্ছেন, এটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নরম বা শিথিল আচরণ।

সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, এটি হবে একটি ‘বিপর্যয়কর ভুল’। সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির অর্থ হবে অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে অর্জিত সবকিছুই বৃথা যাওয়া!

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত করে বেড়ে যায়।

এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অবরোধ ‘একটি চুক্তি সম্পন্ন, প্রত্যয়িত এবং স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে’।

রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে অবশ্যই ‘বুঝতে হবে’ তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। যদিও তেহরান বারবার বলে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে সম্মত হতে পারে।

ধারণা করা হয়, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি (৯৭০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম রয়েছে। এটিকে অস্ত্র তৈরির উপযোগী ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধিতে নিয়ে যাওয়া স্বল্প সময়ের ব্যাপার, যা ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা এনে দিতে পারে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, ইরান বিশ্বকে এই নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত যে আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছুটছি না।

শনিবার বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ইরান একটি এমওইউ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, যা একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তি’র জন্য অতিরিক্ত আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে। ট্রাম্পও শনিবার তার এক ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে এই চুক্তিটিকে একটি সমঝোতা হিসেবে বর্ণনা করেন।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার বলেছেন, সাম্প্রতিক আলোচনা একটি ইতিবাচক ফলাফল নাগালের মধ্যে আসার ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার মতো ভিত্তি তৈরি করেছে।

সম্পর্কিত