leadT1ad

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ৩৯

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনা। ছবি: রয়টার্স

স্পেনে হঠাৎ লাইনচ্যুত একটি ট্রেনের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও অন্তত ১২২ জন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর। রোববার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কর্দোবা প্রদেশের আদামুজের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, দেশটির মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি দ্রুতগতির আইরিও ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক মাদ্রিদ থেকে আসা হুয়েলভাগামী রেনফে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দ্বিতীয় ট্রেনটি লাইনের পাশে ছিটকে পড়ে।

দুর্ঘটনাস্থল মাদ্রিদ থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ানমা মোরেনো সোমবার ভোরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্ঘটনার অভিঘাত খুবই শক্তিশালী ছিল… দিনের আলো হলে আরও মরদেহ পাওয়া যেতে পারে।’

তিনি জানান, বিধ্বস্ত ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে এবং তাতে আরও হতাহত পাওয়া যেতে পারে।

স্থানীয় এল পাইস পত্রিকা জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় মাদ্রিদ-হুয়েলভাগামী ট্রেনটির ২৭ বছর বয়সী চালক নিহত হয়েছেন। দুটি ট্রেনে মিলিয়ে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগই সাপ্তাহিক ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। তবে হতাহতদের মধ্যে বিদেশি কোনো পর্যটক আছেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী ট্রেনের যাত্রী মারিয়া সান হোসে (৩৩) এল পাইসকে বলেন, ‘অনেকে আহত হয়েছেন। আমি এখনও কাঁপছি।’

অপর ট্রেনের এক যাত্রী স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইকে বলেন, ‘মানুষ চিৎকার করছিল, তাক থেকে ব্যাগ পড়ে যাচ্ছিল। আমি শেষ দিকের বগিতে ছিলাম—ভাগ্য ভালো।’

এল পাইসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় হুয়েলভাগামী রেনফে ট্রেনটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার। আর প্রথম ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার সময় কত গতিতে ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেন, দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। তিনি এটিকে ‘খুবই অদ্ভুত’ ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। কারণ সোজা লাইনে এ ধরনের লাইনচ্যুতি হওয়ার কথা নয়। তিনি আরও জানান, ওই অংশের রেললাইন গত মে মাসে নবায়ন করা হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে, কর্দোবা ছাড়ার প্রায় ১০ মিনিট পর। রেল নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আদিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ‘আইরিও ৬১৮৯ মালাগা-মাদ্রিদ ট্রেনটি আদামুজে লাইনচ্যুত হয়ে পাশের লাইনে গিয়ে পড়ে। পাশের লাইনে চলা মাদ্রিদ-হুয়েলভা ট্রেনটিও এতে লাইনচ্যুত হয়।’

পরিবহনমন্ত্রী বলেন, নিহত ও আহতদের বেশির ভাগই ছিলেন রেনফে আলভিয়া ট্রেনটির প্রথম দুই বগিতে। প্রথম বগিতে ৩৭ জন এবং দ্বিতীয় বগিতে ১৬ জন ছিলেন।

আইরিও ট্রেনে ৩০০–এর বেশি যাত্রী ছিলেন, আর রেনফে ট্রেনে ছিলেন প্রায় ১০০ জন। কর্দোবার দমকলপ্রধান প্যাকো কারমোনা টিভিইকে বলেন, আইরিও ট্রেনটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খালি করা গেলেও রেনফে ট্রেনের বগিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—লোহার কাঠামো ও আসনগুলো পেঁচিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এখনও কিছু মানুষ আটকে আছেন। খুব সংকীর্ণ জায়গা থেকে তাঁদের বের করার চেষ্টা চলছে। জীবিত কাউকে পেতে হলে আগে মরদেহ সরাতে হচ্ছে। কাজটা খুবই জটিল।’

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সোমবারের সব কর্মসূচি বাতিল করে এই ট্র্যাজেডি নিয়ে কাজ করছেন। দেশটির রাজা ও রানিও পরিস্থিতি নজরে রাখছেন বলে জানানো হয়েছে। আদামুজের মেয়র রাফায়েল মোরেনো এল পাইসকে বলেন, ‘দৃশ্যটা ভয়াবহ।’

স্থানীয় টেলিভিশনে দেখা যায়, ৫ হাজার জনসংখ্যার আদামুজ শহরে যাত্রীদের জন্য একটি অভ্যর্থনাকেন্দ্র খোলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে খাবার ও কম্বল নিয়ে এসেছেন। রাতে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আইরিও একটি বেসরকারি রেল অপারেটর, যার মালিকানার বড় অংশ ইতালির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ফেরোভিয়ে দেলো স্তাতোর হাতে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখিত এবং সব জরুরি প্রোটোকল চালু করেছে।

রেনফে জানিয়েছে, তাদের ট্রেনটি আইরিও ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে পথে এসে পড়ায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। আদিফ মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব রেল চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত