যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা

তেলের দাম কমে ৮০ ডলার, বিশ্ববাজারে স্বস্তি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম জলপথ হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি রেকর্ড ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। শেয়ারবাজারে তৈরি হয় অস্থিরতা, দেখা দেয় বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। কমেছে জ্বালানির দাম, ফিরছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা।

বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট প্রশমনের পথে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর এই জলপথ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকে।

এরই প্রভাবে গত এপ্রিলের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু সমঝোতা স্মারক ঘোষণার পর সেই চাপ দ্রুত কমতে শুরু করে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮০ ডলারের আশপাশে নেমে এসেছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ৮০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে।

জ্বালানির দাম কমতে শুরু করায় বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও স্বস্তির বার্তা এসেছে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। যুদ্ধ চলাকালে অর্থনীতিবিদেরা আশঙ্কা করেছিলেন, সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হলে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপে পড়তে পারে। সমঝোতার পর সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে।

এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা আবারও উৎপাদন ও ভোক্তানির্ভর খাতে অর্থ বিনিয়োগ শুরু করেছেন। কারণ, জ্বালানির দাম কমলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমে এবং মুনাফার সম্ভাবনা বাড়ে।

শুধু শেয়ারবাজার নয়, অন্যান্য আর্থিক সম্পদেও এর প্রভাব পড়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে বিটকয়েনসহ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও কিছুটা কমেছে, যা বাজারে স্বস্তি ফেরার আরেকটি ইঙ্গিত।

তবে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। সমঝোতা স্মারকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত