বালেন্দ্র শাহর সমালোচনা করে সাংবাদিক গ্রেপ্তার

তথ্যসূত্র:
তথ্যসূত্র:
দ্য হিন্দু

বালেন্দ্র শাহ। সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর সমালোচনা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছিল নেপাল পুলিশ। তবে রোববার (১২ এপ্রিল) জেন-জি অধিকারকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে সাংবাদিক রোশন পোখরেলকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

রোশন ইউটিউবে ‘হেডিস’ নামে চ্যানেল পরিচালনা করেন। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পূর্ব নেপালের পাঁচথর জেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচথর জেলা পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, চার দিন পুলিশ হেফাজতে ছিলেন রোশন। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ ডাকলে হাজিরা দেবেন—এমন শর্তে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

রোশনের গ্রেপ্তারের পরপরই সমালোচনা ও প্রতিবাদে সোচ্চার হন নেপালের তরুণ প্রজন্মের অধিকারকর্মীরা। জেন-জি আন্দোলনের মুখপাত্র বিজয় শাহ এবং অধিকারকর্মী তনুজা পাণ্ডেসহ আরও অনেকে এই গ্রেপ্তারকে ‘আপত্তিকর’ হিসেবে অভিহিত করে রোশনের তাৎক্ষণিক মুক্তি দাবি করেন।

এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, শুধুমাত্র মতপ্রকাশের কারণে কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী। তাঁরা সরকারকে বাকস্বাধীনতা রক্ষা করার এবং কর্তৃত্ববাদী পথে না হাঁটার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ রাজনীতিতে আসার আগে নিজেও একজন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও র‍্যাপার ছিলেন। কাঠমান্ডুর সাবেক এই মেয়র তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে নেপালের প্রচলিত ব্যবস্থার অসঙ্গতি, রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া সমালোচনা ও র‍্যাপ সংগীত প্রচার করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালে ‘জেন-জি’ গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন কেপি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। ওই সময় অলির সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ বন্ধ করার পর তরুণরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে। অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে গত মার্চ মাসে ক্ষমতায় আসেন বালেন্দ্র শাহ ও তাঁর দল আরএসপি। এমন প্রেক্ষাপটে ইউটিউবে সমালোচনার দায়ে সাংবাদিক গ্রেপ্তারের এই ঘটনা বালেন প্রশাসনের জন্য বেশ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্পর্কিত