লেখা:

ইরানে গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর লক্ষ্যে কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্র দেওয়ার কাজ করছে সিআইএ। এই পরিকল্পনার ব্যাপারে জানেন পরিচিত একাধিক ব্যক্তি সিএনএন-কে এই তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বিরোধী দল ও ইরাকের কুর্দি নেতাদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সক্রিয় আলোচনা করছে। বর্তমানে হাজার হাজার ইরানি কুর্দি যোদ্ধা ইরাক-ইরান সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এই গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন বিবৃতিতে ইরানি সেনাদের দলত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুর্দিদের ওপর ড্রোন হামলা শুরু করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার কুর্দি দল কেডিপিআই-এর নেতা মুস্তফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন। একজন শীর্ষ কুর্দি কর্মকর্তা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পশ্চিম ইরানে একটি স্থল অভিযান শুরু হতে পারে। তাদের বিশ্বাস, এখনই বড় কোনো পরিবর্তনের সুযোগ। তাই তারা আমেরিকা ও ইসরায়েলের সহায়তা আশা করছেন।
রোববার ট্রাম্পও ইরাকি কুর্দি নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তখন ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। মূলত ইরাকি কুর্দিদের সহায়তা ছাড়া এই অস্ত্র সরবরাহ বা অভিযান পরিচালনা সম্ভব নয়।
এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হল—কুর্দি যোদ্ধারা ইরানি বাহিনীকে ব্যস্ত রাখবে। এই বিশৃঙ্খলা ইরানি সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করে দেবে। এমনকি উত্তর ইরানে একটি বিশেষ অঞ্চল বা ‘বাফার জোন’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। আর তা করতে পারলে ইসরায়েল সেখানে সুরক্ষা পাবে।
তবে সিআইএ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
সিএনএন-এর জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং ওবামা প্রশাসনের সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা অ্যালেক্স প্লিটাস। প্লিটাস বলেন, কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই ইরানি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি ‘ত্বরান্বিত করার চেষ্টা’ করছে। কুর্দিরা এই অঞ্চলে আমেরিকার ঐতিহাসিক মিত্র।
প্লিটাস সিএনএন-কে বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে ইরানের সাধারণ মানুষ মূলত নিরস্ত্র। যদি তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর পতন না ঘটে, তাহলে কেউ তাদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য না করলে ক্ষমতা দখল করা তাদের জন্য কঠিন হবে। যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী যে, এটি ইরানের ভেতর অন্যদেরও একই কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।’
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন জেন গ্যাভিটো। গ্যাভিটো বলেন, কুর্দিদের সশস্ত্র করার পরিণাম পুরোপুরি বিবেচনা করা হয়েছে কি না তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন—‘আমরা ইতিমধ্যে সীমান্তের উভয় পাশে এক অস্থির পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি। এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে দিতে পারে। এর ফলে জবাবদিহিতাহীন সব সশস্ত্র মিলিশিয়াদের শক্তিশালী করতে পারে।’
সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরাক সীমান্তের পাশে ইরানের সামরিক এবং পুলিশ আউটপোস্টগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। একটি সূত্রের মতে, উত্তর-পশ্চিম ইরানে সশস্ত্র কুর্দি বাহিনীর প্রবেশের পথ তৈরি করতেই এই আক্রমণ। এক ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, এই হামলাগুলো আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে।
তবুও, ইরান সরকারকে হটানোর কাজে নিয়োজিত কুর্দি স্থল বাহিনীকে দেওয়া যেকোনো মার্কিন ও ইসরায়েলি সমর্থন ব্যাপক আকারে হতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দারা বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানি কুর্দিদের বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে সফল বিদ্রোহ গড়ে তোলার মতো প্রভাব বা সম্পদ নেই। এছাড়া, এই প্রতিরোধের লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ইরানি কুর্দি দলগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে রাজনৈতিক নিশ্চয়তা খুঁজছে।
কুর্দিদের বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোও নিজেদের মধ্যে বিভক্ত। তাদের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা দীর্ঘদিনের, আদর্শ ও লক্ষ্য ভিন্ন। এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করার আলোচনার সঙ্গে জড়িত ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই ধরণের সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় আস্থার অভাব কি মার্কিন-কুর্দি সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলবে? ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কুর্দিদের এই কাজে রাজি করানো আমেরিকানদের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য কোন প্রক্সি বাহিনীকে রাজি করানোর মতো সহজ নাও হতে পারে। এখানে এমন একদল লোক আছে যারা তাদের নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবছে। প্রশ্ন হলো, তাদের জড়িত করা আমাদের স্বার্থের সঙ্গে কতটা মেলে?’
কুর্দিরা রাষত্রহীন এক জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী। বর্তমানে তাদের সংখ্যা প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কোটি। এদের বড় অংশটি তুরস্ক, ইরাক, ইরান, সিরিয়া এবং আর্মেনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে। কুর্দিদের অধিকাংশ সুন্নি মুসলিম হলেও তাদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র্য রয়েছে। এমনকি তাদের উপভাষাও ভিন্ন ভিন্ন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা একটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কুর্দিরা বারবার হতাশ হয়েছে। তাদের অভিযোগ যে, কাজ শেষে মার্কিনীরা তাদের বিপদের মুখে একা ফেলে চলে যায়। বিশ্লেষক প্লিটাস বলেন, ‘যদি এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র তার সমর্থন সরিয়ে নেয়, তবে কুর্দিদের আবারও বিপদে ফেলে যাওয়ার পুরনো দুর্নামটিই সত্যি হবে।’ উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি একে কুর্দি মিত্রদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেছিলেন।
ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সিআইএ-র কাজ করার ইতিহাস কয়েক দশকের পুরনো। ইরাক যুদ্ধের সময় থেকেই এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে ইরান সীমান্তের কাছে ইরাকি কুর্দিস্তানে সিআইএ-র একটি ঘাঁটি রয়েছে। এছাড়া ইরাকি কুর্দিস্তানের রাজধানী ইরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেট আছে। আইএস-বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে মার্কিন ও যৌথ বাহিনীর সেনারা অবস্থান করছে। অনেক কুর্দি আশা করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার বিনিময়ে ইরাকের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন কখনোই সত্যি হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনেও যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপকভাবে কুর্দিদের ওপর নির্ভর করেছে। সিরিয়ার উত্তরে অস্থায়ী বন্দীশিবিরগুলোতে হাজার হাজার আইএস সদস্যকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্বও ছিল কুর্দিদের ওপর। তবে এই বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র নতুন সিরীয় সরকার দেশটির উত্তরাঞ্চল দখলে নিতে দ্রুত সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস’ (এসডিএফ)-এর ওপর হামলা চালানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনারা দেশ ছাড়লে কুর্দিরাও আইএস কারাগারগুলোর পাহারা ছেড়ে দিয়ে সরে যায়। গত জানুয়ারিতে সিরিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক বলেছিলেন, এসডিএফ-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জোটের প্রয়োজনীয়তা ‘মূলত ফুরিয়ে এসেছে’।
সিএনএন থেকে অনুদিত

ইরানে গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর লক্ষ্যে কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্র দেওয়ার কাজ করছে সিআইএ। এই পরিকল্পনার ব্যাপারে জানেন পরিচিত একাধিক ব্যক্তি সিএনএন-কে এই তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বিরোধী দল ও ইরাকের কুর্দি নেতাদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সক্রিয় আলোচনা করছে। বর্তমানে হাজার হাজার ইরানি কুর্দি যোদ্ধা ইরাক-ইরান সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এই গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন বিবৃতিতে ইরানি সেনাদের দলত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুর্দিদের ওপর ড্রোন হামলা শুরু করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার কুর্দি দল কেডিপিআই-এর নেতা মুস্তফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন। একজন শীর্ষ কুর্দি কর্মকর্তা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পশ্চিম ইরানে একটি স্থল অভিযান শুরু হতে পারে। তাদের বিশ্বাস, এখনই বড় কোনো পরিবর্তনের সুযোগ। তাই তারা আমেরিকা ও ইসরায়েলের সহায়তা আশা করছেন।
রোববার ট্রাম্পও ইরাকি কুর্দি নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তখন ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। মূলত ইরাকি কুর্দিদের সহায়তা ছাড়া এই অস্ত্র সরবরাহ বা অভিযান পরিচালনা সম্ভব নয়।
এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হল—কুর্দি যোদ্ধারা ইরানি বাহিনীকে ব্যস্ত রাখবে। এই বিশৃঙ্খলা ইরানি সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করে দেবে। এমনকি উত্তর ইরানে একটি বিশেষ অঞ্চল বা ‘বাফার জোন’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। আর তা করতে পারলে ইসরায়েল সেখানে সুরক্ষা পাবে।
তবে সিআইএ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
সিএনএন-এর জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং ওবামা প্রশাসনের সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা অ্যালেক্স প্লিটাস। প্লিটাস বলেন, কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই ইরানি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি ‘ত্বরান্বিত করার চেষ্টা’ করছে। কুর্দিরা এই অঞ্চলে আমেরিকার ঐতিহাসিক মিত্র।
প্লিটাস সিএনএন-কে বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে ইরানের সাধারণ মানুষ মূলত নিরস্ত্র। যদি তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর পতন না ঘটে, তাহলে কেউ তাদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য না করলে ক্ষমতা দখল করা তাদের জন্য কঠিন হবে। যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী যে, এটি ইরানের ভেতর অন্যদেরও একই কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।’
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন জেন গ্যাভিটো। গ্যাভিটো বলেন, কুর্দিদের সশস্ত্র করার পরিণাম পুরোপুরি বিবেচনা করা হয়েছে কি না তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন—‘আমরা ইতিমধ্যে সীমান্তের উভয় পাশে এক অস্থির পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি। এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে দিতে পারে। এর ফলে জবাবদিহিতাহীন সব সশস্ত্র মিলিশিয়াদের শক্তিশালী করতে পারে।’
সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরাক সীমান্তের পাশে ইরানের সামরিক এবং পুলিশ আউটপোস্টগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। একটি সূত্রের মতে, উত্তর-পশ্চিম ইরানে সশস্ত্র কুর্দি বাহিনীর প্রবেশের পথ তৈরি করতেই এই আক্রমণ। এক ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, এই হামলাগুলো আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে।
তবুও, ইরান সরকারকে হটানোর কাজে নিয়োজিত কুর্দি স্থল বাহিনীকে দেওয়া যেকোনো মার্কিন ও ইসরায়েলি সমর্থন ব্যাপক আকারে হতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দারা বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানি কুর্দিদের বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে সফল বিদ্রোহ গড়ে তোলার মতো প্রভাব বা সম্পদ নেই। এছাড়া, এই প্রতিরোধের লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ইরানি কুর্দি দলগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে রাজনৈতিক নিশ্চয়তা খুঁজছে।
কুর্দিদের বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোও নিজেদের মধ্যে বিভক্ত। তাদের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা দীর্ঘদিনের, আদর্শ ও লক্ষ্য ভিন্ন। এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করার আলোচনার সঙ্গে জড়িত ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই ধরণের সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় আস্থার অভাব কি মার্কিন-কুর্দি সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলবে? ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কুর্দিদের এই কাজে রাজি করানো আমেরিকানদের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য কোন প্রক্সি বাহিনীকে রাজি করানোর মতো সহজ নাও হতে পারে। এখানে এমন একদল লোক আছে যারা তাদের নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবছে। প্রশ্ন হলো, তাদের জড়িত করা আমাদের স্বার্থের সঙ্গে কতটা মেলে?’
কুর্দিরা রাষত্রহীন এক জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী। বর্তমানে তাদের সংখ্যা প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কোটি। এদের বড় অংশটি তুরস্ক, ইরাক, ইরান, সিরিয়া এবং আর্মেনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে। কুর্দিদের অধিকাংশ সুন্নি মুসলিম হলেও তাদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র্য রয়েছে। এমনকি তাদের উপভাষাও ভিন্ন ভিন্ন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা একটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কুর্দিরা বারবার হতাশ হয়েছে। তাদের অভিযোগ যে, কাজ শেষে মার্কিনীরা তাদের বিপদের মুখে একা ফেলে চলে যায়। বিশ্লেষক প্লিটাস বলেন, ‘যদি এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র তার সমর্থন সরিয়ে নেয়, তবে কুর্দিদের আবারও বিপদে ফেলে যাওয়ার পুরনো দুর্নামটিই সত্যি হবে।’ উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি একে কুর্দি মিত্রদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেছিলেন।
ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সিআইএ-র কাজ করার ইতিহাস কয়েক দশকের পুরনো। ইরাক যুদ্ধের সময় থেকেই এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে ইরান সীমান্তের কাছে ইরাকি কুর্দিস্তানে সিআইএ-র একটি ঘাঁটি রয়েছে। এছাড়া ইরাকি কুর্দিস্তানের রাজধানী ইরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেট আছে। আইএস-বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে মার্কিন ও যৌথ বাহিনীর সেনারা অবস্থান করছে। অনেক কুর্দি আশা করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার বিনিময়ে ইরাকের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন কখনোই সত্যি হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনেও যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপকভাবে কুর্দিদের ওপর নির্ভর করেছে। সিরিয়ার উত্তরে অস্থায়ী বন্দীশিবিরগুলোতে হাজার হাজার আইএস সদস্যকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্বও ছিল কুর্দিদের ওপর। তবে এই বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র নতুন সিরীয় সরকার দেশটির উত্তরাঞ্চল দখলে নিতে দ্রুত সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস’ (এসডিএফ)-এর ওপর হামলা চালানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনারা দেশ ছাড়লে কুর্দিরাও আইএস কারাগারগুলোর পাহারা ছেড়ে দিয়ে সরে যায়। গত জানুয়ারিতে সিরিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক বলেছিলেন, এসডিএফ-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জোটের প্রয়োজনীয়তা ‘মূলত ফুরিয়ে এসেছে’।
সিএনএন থেকে অনুদিত

তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন যৌথ বিমান হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইরান। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের হাল ধরতে এবং ইসলামি বিপ্লবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের বিমান হামলার সময় তেহরানের গোলেস্তান প্রাসাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতাব্দীপ্রাচীন এই প্রাসাদটি কাজার রাজাদের সরকারি আবাসস্থল ছিল। এখানেই রাজ্যাভিষেক, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং কূটনৈতিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হতো।
৬ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। সঙ্গে তেহরানের মিত্র লেবালনেও হামলা চালাচ্ছে। প্রতিরোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি এবং স্থাপনায় হামলা করে চলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের খবর বাংলা স্ট্রিম লাইভে...
১০ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ লেবাননের ভেতরে প্রবেশ করে আরও ভূমি ‘দখল’ (সিজ) করতে তাদের বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
১ দিন আগে