সিএনএনের বিশ্লেষণ
স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চুক্তির সম্ভাবনা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশল ও ইমেজকে হুমকিতে ফেলেছে। এত দিন ধরে তিল তিল করে গড়া তাঁর রাজনীতি এই চুক্তির মাধ্যমেই শেষ হয়ে যেতে পারে।
অথচ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু একে অপরের ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে’ স্বাগত জানিয়ে উল্লাস করেছিলেন। নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের আশ্বস্ত করেছিলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ আগে কখনোই হয়নি।
তিন মাস পর, এখন সেই যৌথ সামরিক অভিযান মার্কিনিদের নেতৃত্বে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিয়েছে। এই পদক্ষেপে নেতানিয়াহু নিজেকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা অবস্থানে আবিষ্কার করছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে ট্রাম্পের কোনো সমালোচনা না করলেও বন্ধ দরজার আড়ালে দৃশ্যপট অনেকটাই ভিন্ন।
দেশটির সূত্রগুলো সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসান আলোচনা নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা ইসরায়েলের নেই।
গত এপ্রিল মাসে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই নেতানিয়াহু ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর। তাঁর যুক্তি ছিল, ইরানের ওপর ধারাবাহিক সামরিক চাপ বজায় রাখলে দেশটির বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে। কিন্তু হোয়াইট হাউস সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে হাঁটা শুরু করেছে।
সূত্রগুলো বলেছে, নেতানিয়াহু চিন্তিত। এই চুক্তিতে ইসরায়েলের মূল উদ্বেগের জায়গাগুলো পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে যাবেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং প্রক্সি নেটওয়ার্কগুলো নিয়ে স্থায়ী ফয়সালা না করেই দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েলের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, ‘আমাদের চিন্তার বিষয় হল, ট্রাম্প অত্যন্ত খারাপ অন্তর্বর্তী চুক্তিতে সম্মতি দেবেন। চুক্তিতে যদি ইরানকে বাধ্য করা হত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ফিরিয়ে দিতে, তবে তা মানা যেত। কিন্তু পরিস্থিতি বলছে, ইরানিরা আবারও আমেরিকানদের বোকা বানাবে এবং ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছেই রেখে দেবে।’
ইরান অবশ্য শুরু থেকেই পরিষ্কার করেছে, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাগ্য এই অন্তর্বর্তী আলোচনার অংশ নয়। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সমস্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইরান থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হবে। তবে সম্প্রতি তিনি এ বিষয়ে নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই নমনীয়তা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ তৈরি করে দেবে।
নেতানিয়াহু প্রশাসন মনে করে, ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে দেশটির তেল ক্ষেত্র ও অবকাঠামোগুলোতে বড় ধরনের আঘাত জরুরি ছিল।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘চুক্তি মেনে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নিলে আমাদের মারাত্মক ক্ষতি হবে এবং এর ফলে ইরানি শাসন আরও শক্তিশালী হবে। যুদ্ধের কারণে ইরানের এখন সৈন্য ও পুলিশদের বেতন দেওয়ার পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এই অবস্থায় তাদের অবরুদ্ধ অর্থ ফেরত দিলে ইরানের শাসনের পতন আর হবে না।’
অন্য একটি ইসরায়েলি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, ‘আমেরিকা যখন কাউকে বলিদান করে তখন কেমন অনুভূতি হয়—আজ আমরা সেটাই উপলব্ধি করছি।’
আরেকটি বড় বিরোধের জায়গা হলো লেবানন। ইরান চাচ্ছে এই চুক্তিতে লেবাননের যুদ্ধবিরতিও অন্তর্ভুক্ত হোক। সম্প্রতি নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে লেবাননে অভিযান সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা ইসরায়েলের রয়েছে।
এই চুক্তি নিয়ে চরম অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া অনেক মার্জিত। নেতানিয়াহু তাঁর রাজনৈতিক পুঁজির বড় অংশই ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে বিনিয়োগ করেছেন। তাই প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করা রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিল। বিশেষ করে যখন ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে।
এ কারণে নেতানিয়াহু ও তাঁর অনুসারী গণমাধ্যমগুলো এই ব্যর্থতার দায় ট্রাম্পের ওপর না চাপিয়ে প্রধান দুই উপদেষ্টা ও আলোচক—জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের ওপর চাপাচ্ছে।
সম্প্রতি নেতানিয়াহু ঘনিষ্ঠ চ্যানেল-১৪-এর উপস্থাপক ইয়াকভ বারদুগো বলেছেন, ‘কুশনার, উইটকফ এবং জে ডি ভ্যান্স অস্তিত্বের লড়াইয়ের চেয়ে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক লাভকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা যে চুক্তিই করুন না কেন, দিনশেষে আমাদের এই মাটিতেই বেঁচে থাকতে হবে।’
তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলিদের এই ক্ষোভ আসলে তাদের নিজস্ব হিসাবের বড় ধরনের ভুলের ফসল। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা ইরানের শাসন পরিবর্তনের (রেজিম চেঞ্জ) আশায় এতটাই বুঁদ হয়েছিল যে তারা বুঝতে পারেনি—এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধীদের “নেতানিয়াহু মার্কিন কুকুরকে লেজে খেলাচ্ছেন”—এমন প্রচারণা মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তাই ট্রাম্পকে দেখাতে হতো সিদ্ধান্ত কেবল তিনিই নেন।’
ট্রাম্প নিজেই গত সপ্তাহে বলেছেন, ‘নেতানিয়াহু একজন ভালো মানুষ, আমি যা বলব ও সেটাই করবে।’
নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা কর্মকর্তারা তার অনমনীয় জেদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। একজন সাবেক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘নেতানিয়াহু জানেন না কখন থামতে হয় এবং ক্ষতি কমিয়ে রফা করতে হয়।’
সমালোচকদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু সামরিক সাফল্যকে কৌশলগত অর্জনে রূপান্তর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। আরেক সাবেক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেতানিয়াহুর নেই। সে কারণেই ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান উন্নত তো হয়নি, বরং আরও খারাপ হয়েছে। ইরানের শাসন টিকে আছে, তাদের পরমাণু প্রকল্প অমীমাংসিত রয়েছে এবং হিজবুল্লাহ ও হামাস এখনো সক্রিয়।’
এই ব্যর্থতা ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনেও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বয়ানকে বড় সংকটে ফেলবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের কাছে পর্যুদস্ত হওয়ার পর ইরান সংঘাতকে নিজের রাজনৈতিক ঐতিহ্য পুনর্নির্মাণের হাতিয়ার করেছিলেন নেতানিয়াহু।
সম্প্রতি ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) জরিপে দেখা গেছে, ৪৫ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন ইরানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি ৭ অক্টোবরের আগের চেয়েও খারাপ হয়েছে। প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন ইসরায়েল এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে না বা ইতিমধ্যে হেরে গেছে।
ইসরায়েলি সূত্রমতে, সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডে সই করতে বলে ট্রাম্প আসলে নেতানিয়াহুকে সান্ত্বনা পুরস্কার দিচ্ছেন। তার ওপর এই প্রক্রিয়া সফল হওয়া কঠিন, কারণ সৌদি ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট রূপরেখা চেয়েছে। তাদের এই দাবি নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থী মন্ত্রিসভার জন্য মানা অসম্ভব।
আইএনএসএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ এক বিশ্লেষণে লিখেছেন, ‘নেতানিয়াহু তার পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার জুড়ে নিজেকে ‘মিস্টার ইরান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার দাবি ছিল, কেবল পেশিশক্তি দিয়েই ইরানকে প্রতিহত করা সম্ভব। কিন্তু একের পর এক চোখধাঁধানো সামরিক সাফল্যের পরেও কৌশলগত পরাজয় বরণ করতে হচ্ছে ইসরায়েলকে।’
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প চুক্তির মাধ্যমে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকেই বৈধতা দেবেন। এই ইসলামি শাসকদের ধ্বংস করতে চাওয়ার রাজনীতি করে এসেছেন নেতানিয়াহু। এই চুক্তি তার আজীবনের ইরান-তত্ত্বের পতনকে বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চুক্তির সম্ভাবনা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশল ও ইমেজকে হুমকিতে ফেলেছে। এত দিন ধরে তিল তিল করে গড়া তাঁর রাজনীতি এই চুক্তির মাধ্যমেই শেষ হয়ে যেতে পারে।
অথচ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু একে অপরের ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে’ স্বাগত জানিয়ে উল্লাস করেছিলেন। নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের আশ্বস্ত করেছিলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ আগে কখনোই হয়নি।
তিন মাস পর, এখন সেই যৌথ সামরিক অভিযান মার্কিনিদের নেতৃত্বে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিয়েছে। এই পদক্ষেপে নেতানিয়াহু নিজেকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা অবস্থানে আবিষ্কার করছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে ট্রাম্পের কোনো সমালোচনা না করলেও বন্ধ দরজার আড়ালে দৃশ্যপট অনেকটাই ভিন্ন।
দেশটির সূত্রগুলো সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসান আলোচনা নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা ইসরায়েলের নেই।
গত এপ্রিল মাসে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই নেতানিয়াহু ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর। তাঁর যুক্তি ছিল, ইরানের ওপর ধারাবাহিক সামরিক চাপ বজায় রাখলে দেশটির বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে। কিন্তু হোয়াইট হাউস সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে হাঁটা শুরু করেছে।
সূত্রগুলো বলেছে, নেতানিয়াহু চিন্তিত। এই চুক্তিতে ইসরায়েলের মূল উদ্বেগের জায়গাগুলো পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে যাবেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং প্রক্সি নেটওয়ার্কগুলো নিয়ে স্থায়ী ফয়সালা না করেই দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েলের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, ‘আমাদের চিন্তার বিষয় হল, ট্রাম্প অত্যন্ত খারাপ অন্তর্বর্তী চুক্তিতে সম্মতি দেবেন। চুক্তিতে যদি ইরানকে বাধ্য করা হত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ফিরিয়ে দিতে, তবে তা মানা যেত। কিন্তু পরিস্থিতি বলছে, ইরানিরা আবারও আমেরিকানদের বোকা বানাবে এবং ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছেই রেখে দেবে।’
ইরান অবশ্য শুরু থেকেই পরিষ্কার করেছে, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাগ্য এই অন্তর্বর্তী আলোচনার অংশ নয়। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সমস্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইরান থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হবে। তবে সম্প্রতি তিনি এ বিষয়ে নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই নমনীয়তা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ তৈরি করে দেবে।
নেতানিয়াহু প্রশাসন মনে করে, ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে দেশটির তেল ক্ষেত্র ও অবকাঠামোগুলোতে বড় ধরনের আঘাত জরুরি ছিল।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘চুক্তি মেনে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নিলে আমাদের মারাত্মক ক্ষতি হবে এবং এর ফলে ইরানি শাসন আরও শক্তিশালী হবে। যুদ্ধের কারণে ইরানের এখন সৈন্য ও পুলিশদের বেতন দেওয়ার পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এই অবস্থায় তাদের অবরুদ্ধ অর্থ ফেরত দিলে ইরানের শাসনের পতন আর হবে না।’
অন্য একটি ইসরায়েলি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, ‘আমেরিকা যখন কাউকে বলিদান করে তখন কেমন অনুভূতি হয়—আজ আমরা সেটাই উপলব্ধি করছি।’
আরেকটি বড় বিরোধের জায়গা হলো লেবানন। ইরান চাচ্ছে এই চুক্তিতে লেবাননের যুদ্ধবিরতিও অন্তর্ভুক্ত হোক। সম্প্রতি নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে লেবাননে অভিযান সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা ইসরায়েলের রয়েছে।
এই চুক্তি নিয়ে চরম অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া অনেক মার্জিত। নেতানিয়াহু তাঁর রাজনৈতিক পুঁজির বড় অংশই ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে বিনিয়োগ করেছেন। তাই প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করা রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিল। বিশেষ করে যখন ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে।
এ কারণে নেতানিয়াহু ও তাঁর অনুসারী গণমাধ্যমগুলো এই ব্যর্থতার দায় ট্রাম্পের ওপর না চাপিয়ে প্রধান দুই উপদেষ্টা ও আলোচক—জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের ওপর চাপাচ্ছে।
সম্প্রতি নেতানিয়াহু ঘনিষ্ঠ চ্যানেল-১৪-এর উপস্থাপক ইয়াকভ বারদুগো বলেছেন, ‘কুশনার, উইটকফ এবং জে ডি ভ্যান্স অস্তিত্বের লড়াইয়ের চেয়ে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক লাভকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা যে চুক্তিই করুন না কেন, দিনশেষে আমাদের এই মাটিতেই বেঁচে থাকতে হবে।’
তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলিদের এই ক্ষোভ আসলে তাদের নিজস্ব হিসাবের বড় ধরনের ভুলের ফসল। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা ইরানের শাসন পরিবর্তনের (রেজিম চেঞ্জ) আশায় এতটাই বুঁদ হয়েছিল যে তারা বুঝতে পারেনি—এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধীদের “নেতানিয়াহু মার্কিন কুকুরকে লেজে খেলাচ্ছেন”—এমন প্রচারণা মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তাই ট্রাম্পকে দেখাতে হতো সিদ্ধান্ত কেবল তিনিই নেন।’
ট্রাম্প নিজেই গত সপ্তাহে বলেছেন, ‘নেতানিয়াহু একজন ভালো মানুষ, আমি যা বলব ও সেটাই করবে।’
নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা কর্মকর্তারা তার অনমনীয় জেদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। একজন সাবেক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘নেতানিয়াহু জানেন না কখন থামতে হয় এবং ক্ষতি কমিয়ে রফা করতে হয়।’
সমালোচকদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু সামরিক সাফল্যকে কৌশলগত অর্জনে রূপান্তর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। আরেক সাবেক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেতানিয়াহুর নেই। সে কারণেই ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান উন্নত তো হয়নি, বরং আরও খারাপ হয়েছে। ইরানের শাসন টিকে আছে, তাদের পরমাণু প্রকল্প অমীমাংসিত রয়েছে এবং হিজবুল্লাহ ও হামাস এখনো সক্রিয়।’
এই ব্যর্থতা ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনেও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বয়ানকে বড় সংকটে ফেলবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের কাছে পর্যুদস্ত হওয়ার পর ইরান সংঘাতকে নিজের রাজনৈতিক ঐতিহ্য পুনর্নির্মাণের হাতিয়ার করেছিলেন নেতানিয়াহু।
সম্প্রতি ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) জরিপে দেখা গেছে, ৪৫ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন ইরানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি ৭ অক্টোবরের আগের চেয়েও খারাপ হয়েছে। প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন ইসরায়েল এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে না বা ইতিমধ্যে হেরে গেছে।
ইসরায়েলি সূত্রমতে, সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডে সই করতে বলে ট্রাম্প আসলে নেতানিয়াহুকে সান্ত্বনা পুরস্কার দিচ্ছেন। তার ওপর এই প্রক্রিয়া সফল হওয়া কঠিন, কারণ সৌদি ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট রূপরেখা চেয়েছে। তাদের এই দাবি নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থী মন্ত্রিসভার জন্য মানা অসম্ভব।
আইএনএসএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ এক বিশ্লেষণে লিখেছেন, ‘নেতানিয়াহু তার পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার জুড়ে নিজেকে ‘মিস্টার ইরান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার দাবি ছিল, কেবল পেশিশক্তি দিয়েই ইরানকে প্রতিহত করা সম্ভব। কিন্তু একের পর এক চোখধাঁধানো সামরিক সাফল্যের পরেও কৌশলগত পরাজয় বরণ করতে হচ্ছে ইসরায়েলকে।’
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প চুক্তির মাধ্যমে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকেই বৈধতা দেবেন। এই ইসলামি শাসকদের ধ্বংস করতে চাওয়ার রাজনীতি করে এসেছেন নেতানিয়াহু। এই চুক্তি তার আজীবনের ইরান-তত্ত্বের পতনকে বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করবে।

ফুটবল মাঠে গতির ঝলক আর পায়ের কারুকাজ সব সময়ই দর্শকদের মুগ্ধ করে। উইং দিয়ে ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বক্সে ঢুকে পড়ার দৃশ্য গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়ায়। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে এই জাদুকরী দক্ষতার কথা উঠলে উসমান দেম্বেলের নাম প্রথম সারিতে চলে আসে। তাঁকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ‘উইং উইজার্ড’ বলা হয়।
১১ মিনিট আগে
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে প্রথমে দেশটির অবরুদ্ধ ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের দাবি জানিয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
ভারতের দক্ষিণ দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে পাঁচতলা ভবন ধসে চারজন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছেন আরও অনেকে। তাদের উদ্ধারে ১৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। খবর এনডিটিভির।
৬ ঘণ্টা আগে
ভেনেজুয়েলায় নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা এডমান্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়া। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিপক্ষে হারার পর নিজেকে প্রকৃত বিজয়ী বলে দাবি করেন তিনি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি
৮ ঘণ্টা আগে