নির্বাচনী প্রচারে মোদির হুমকি, ফলের পর তৃণমূলের ‘পাপের হিসাব’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ০৯
কোচবিহারে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

বিধান সভার নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে মমতা ব্যানাজির তৃণমূলকে হুমকি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির এই নেতা বলেছেন, আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল সরকারকে তাদের ‘পাপের’ হিসাব দিতে হবে।

রোববার (৫ এপ্রিল) কোচবিহার জেলার রাসমেলা ময়দানে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় মোদি অনুপ্রবেশ, জঙ্গলরাজ, দুর্নীতি, নারীর ওপর অত্যাচার, সিন্ডিকেট, তোলাবাজিসহ একাধিক ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন।

একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন করা হবে। মোদির দাবি, জঙ্গলরাজ ঠেকাতে যখন রাশ টেনে ধরা হচ্ছে, তখন সাংবিধানিক সংস্থার গলা টিপে ধরছে তৃণমূল।

তফসিল অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গসহ চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে দুদফায়। পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোট হবে। গণনা শেষে ফলাফল দেওয়া হবে ৪ মে।

বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর আজ ছিল পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম নির্বাচনী জনসভা। এর আগে ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জনসভা করেছিলেন তিনি।

ভাষণে নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল কংগ্রেসকে উদ্দেশ্য করে তীব্র আক্রমণ করেন। বলেন, ‘বাংলায় এসেই বুঝে গেছি– তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গেছে। মানুষ এখন শুধুই পরিবর্তন চাইছে। আর তারপর তৃণমূলের পাপের হিসাব করা হবে। বেছে বেছে হিসাব নেওয়া হবে।’

নির্বাচনী প্রচারে উপস্থিত জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের বিশাল জনসমাগম স্পষ্ট করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সময় শেষ। ভোটের দিন তৃণমূলের গুণ্ডারা যতই ভয় দেখানোর চেষ্টা করুক, আপনাদের আইনের ওপর আস্থা রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, এই নির্বাচনে বাংলা থেকে ভয় দূর হবে। বিজেপির বিশাল জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত হবে। নির্বাচনের পর তৃণমূলের পাপের সম্পূর্ণ হিসাব নেওয়া হবে। ৪ মের পর আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। যত বড়ই গুণ্ডা হোক না কেন, একে একে সব মিটিয়ে দেওয়া হবে। এবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, তৃণমূল সরকার কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে গুরুত্ব দেয় না। মাত্র দুই-তিন দিন আগেই আপনারা তা দেখেছেন। মালদায় কীভাবে বিচারকদের জিম্মি করা হয়েছিল, তা দেখে দেশের বিচারক ও সাধারণ মানুষ হতবাক। এ কেমন সরকার? এ কেমন ব্যবস্থা? যেখানে বিচারক এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও নিরাপদ নয়। তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আমরা এদের কাছ থেকে কীভাবে আশা করতে পারি?

রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হেলিকপ্টারে কোচবিহার বিমানবন্দরে পৌঁছান মোদি। সেখান থেকে গাড়িতে রাসমেলার মাঠে সভায় যান। বিমানবন্দর থেকে রাসমেলার মাঠ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটারের রাস্তায় অসংখ্য মানুষ দুইপাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

সমাবেশ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে মোদি বলেন, ভয়াবহভাবে বদলেছে জনবিন্যাস। বাংলার নিরাপত্তা বিঘ্নিত। তাই ভারত সরকার অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে। ভারতই নয়, দুনিয়ার সমস্ত বড় বড় দেশ তাই করছে। শুধু বাংলার তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব হচ্ছে। কিন্তু আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি– বিজেপি সরকার আসার পর এই অনুপ্রবেশ ঠেকানো হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, শরণার্থী হিন্দুদের নাগরিকত্ব কেড়ে অনুপ্রবেশকারীদের দেবে তৃণমূল। কারণ এদের ভোটব্যাংক মনে করে তারা। তুষ্টিকরণের খেলায় বাংলার ছবি পাল্টে দিচ্ছে। ইশতেহার বাংলা শব্দ নয়। লাল ইশতেহার ছিল ব্রিটিশ-ভারতের ধর্মবিদ্বেষী সরকারের। এরা সেটাই বের করেছে। এরা বাংলার পরিচয় বদলে দিচ্ছে। বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ হিন্দুদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে।

এদিন সংসদে নারীদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, দেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে নারীদের ভূমিকা আরও বাড়বে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার লোকসভা এবং বিধানসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার জন্য আইন তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশের নারীদের ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচন থেকে এর সুবিধা মিলবে।

সম্পর্কিত