ইরানের বন্দরমুখী জাহাজে মার্কিন হামলা, আলোচনাও চলছে বললেন ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯: ৩৮
মার্কিন হামলার শিকার হওয়া জাহাজ এম/টি লেভিন। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধ ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ওমান উপসাগরে সতর্কবার্তা অমান্য করায় জাহাজটির ইঞ্জিন লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, এম/টি ল্যাভিন নামের জাহাজটি অন্তত চারবার অবরোধ অতিক্রম করে ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। ক্রুদের সতর্ক করার পর তারা নির্দেশ না মানায় শেষ পর্যন্ত জাহাজটির ইঞ্জিনে গুলি চালানো হয়। ইরানের ওপর পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপের পর এটি মার্কিন বাহিনীর বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর দ্বিতীয় ঘটনা।

পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। পারস্য উপসাগরজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। আর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার রাতে উত্তর ইরানে আইআরজিসির একটি নৌঘাঁটি, কেশম দ্বীপ, ইসফাহান, খুজেস্তান ও ফার্স প্রদেশে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম বলেছে, আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ইরানের হুমকি মোকাবিলা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতের উদাইরি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তিনটি গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম গুদাম ধ্বংসের দাবি করেছে আইআরজিসি। এ ছাড়া বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারেও হামলার দাবি করেছে তারা। যদিও এসব দাবির বিষয়ে সেন্টকম কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরান এখন খুব গুরুত্ব দিলেও যুদ্ধ বন্ধে আমার তাড়া নেই: ট্রাম্প

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান সামরিক অভিযান নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

পরে ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তবে যুদ্ধ শেষ করতে তাঁর কোনো তাড়াহুড়া নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। ইরান এখন বিষয়টিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে, আর নেওয়াই উচিত।’ ট্রাম্প জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এসব আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এখনও যুদ্ধ চালাতে ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ অবস্থায় রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা হুমকির কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না। তাঁর ভাষায়, ‘ইরান হুমকিতে ভয় পায় না। চাপের কাছেও মাথা নত করবে না।’

পরে কাজাখস্তানে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালির চলমান উত্তেজনার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন তিনি। আরাগচির দাবি, ইসলামাবাদ চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় হরমুজ প্রণালি ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

ইয়েমেনে হুতিদের ওপর বিমান হামলা সৌদি আরবের

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে শনিবার ভোরে ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হুথি নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, সৌদি হামলায় ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ সংস্থার স্থাপনা ও কামারান দ্বীপ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।

হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জাহাজে হামলা বন্ধ না হলে হুথিদের বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের সামরিক শাস্তির’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের নতুন করে হামলা শুরুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘের আশঙ্কা, এসব হামলা ইয়েমেনকে আরও গভীরভাবে আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে গুতেরেস সব পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ৪০০টির বেশি জাহাজে অন্তত ৬ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের অভিযোগ, তাঁদের অনেককে জাহাজের মালিকরা কার্যত পরিত্যাগ করেছেন। ফলে এসব নাবিকরা খাবার, পানি, জ্বালানি, চিকিৎসাসেবা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ ছাড়াই মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত