leadT1ad

খামেনিকে ১০০ দিনেও দাফন করা যায়নি যে কারণে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১৬: ১৪
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনই প্রাণ হারান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পরের মাসে তাঁকে দাফনে কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তন করে দেশটি। এরপর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ১০০ দিন পার হলেও দাফন আর করা হয়নি। খবর আল-জাজিরার।

এর মধ্যে গত শনিবার খামেনির জানাজা ও দাফনের তারিখ ঘোষণা করে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৬, ৭ ও ৯ জুলাই যথাক্রমে তেহরান, কোম ও মাশহাদে খামেনিকে দাফনের আগের আনুষ্ঠানিকতা হবে। এরপর ৯ জুলাই জন্মস্থান মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হবে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের এই রাষ্ট্রীয় আয়োজন করা হয়েছে শিয়া মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী শোকের মাস মুহাররম মাসে।

দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা প্রথমে ৪ মার্চ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তা স্থগিত করা হয়। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন সম্পন্ন করতে হয়। তবে যুদ্ধের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে বিলম্বের অনুমতি রয়েছে।

পরে ইরান জানায়, ইসলামি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস মুহাররমের শুরুতে তিন দিনের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, সেই সময়টি জুনের শুরুর দিকে পড়ত।

ফার্স নিউজে প্রকাশিত তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি এক বিবৃতিতে বলেন, ইমাম হুসাইনের বার্ষিক শোকপালন সম্পন্ন করতে মুহাররমের প্রথম ১০ দিন পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখা হয়েছে। রাসুল (সা.) এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) শিয়াদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এক নেতা। তিনি ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে নিহত হন।

এর ফলে খামেনির শেষকৃত্য মুহাররমের দ্বিতীয় দশকে, অর্থাৎ ২৬ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল। ইরানের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে জানায়, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শেষকৃত্য বিলম্বের অন্যতম কারণ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ করে যৌথ বিমান হামলা চালায়। হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী, আইআরজিসির প্রধানসহ প্রায় ৪০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রাণ হারান। ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি-নাতনিও নিহত হন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত