ন্যায়বিচার পাননি আফগান যুদ্ধের অধিকাংশ ভুক্তভোগী: জাতিসংঘ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৩১
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতদের অধিকাংশই ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ কিংবা তাঁদের দুর্ভোগের স্বীকৃতি পাননি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ভুক্তভোগীদের অনেকেই প্রতিশোধের ভয় ও বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থার অভাবে প্রতিকার চাওয়ার চেষ্টা করেননি। যারা প্রতিকার চেয়েছেন তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের শিকার ব্যক্তিরা এখনো শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বোঝা বহন করে চলেছেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে আল-কায়েদার হামলার জেরে ওই বছরের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট। এরপর শুরু হয় প্রায় দুই দশকের যুদ্ধ। প্রায় দুই দশক ধরে চলা এই যুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হন বেসামরিক আফগানরা।

ইউএনএএমএ জানিয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তালেবান, জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এবং আফগান প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের অভিযানে ৪০ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ৭৭ হাজার আহত হয়েছেন।

২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুদ্ধের ভুক্তভোগীদের অধিকার নিয়ে জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনের জন্য ১৯৫ জন ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।

সাক্ষাৎকারদাতাদের ৯৫ শতাংশই স্মৃতিশক্তি হ্রাস, হতাশা ও আত্মহত্যার চিন্তাসহ বিভিন্ন ধরনের মানসিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। যুদ্ধের কারণে শারীরিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কথাও উঠে এসেছে তাঁদের সাক্ষাৎকারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যায়বিচার বা প্রতিকার পাওয়ার চেষ্টা করা ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই সফল হননি। প্রতিশোধের ভয়, অভিযোগ গুরুত্ব না পাওয়ার আশঙ্কা এবং বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থার অভাবে অনেকেই প্রতিকার চাওয়ার উদ্যোগও নেননি।

ভুক্তভোগীদের সবচেয়ে বড় চাহিদা ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহায়তা। অনেকেই জানিয়েছেন, যুদ্ধের পর চিকিৎসার খরচ, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামত কিংবা পরিবারের ভরণপোষণের সামর্থ্যও নেই তাঁদের।

আফগানিস্তানে ‘শান্তি, পুনর্মিলন ও ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠায় ২০০৬ সালে একটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা কখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে হওয়া শান্তিচুক্তিতে আফগানদের নিজেদের মধ্যে আলোচনার কথা থাকলেও ভুক্তভোগীদের অধিকার, ন্যায়বিচার বা জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়নি।

ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান কর্তৃপক্ষ সাধারণ ক্ষমার আইন প্রণয়ন করে। যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের বিষয়ে তাদের কোনো প্রকাশ্য উদ্যোগ দেখা যায়নি বলেও জানিয়েছে ইউএনএএমএ।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, যুদ্ধকালীন অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছিল নিতান্তই সীমিত। এই সীমিত প্রচেষ্টাও নানা বাধার মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্র, তালেবানসহ সব পক্ষকে যুদ্ধের এই ভুক্তভোগীদের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত