leadT1ad

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা

বন্দরের বাইরে অপেক্ষায় ইরানের কয়েক ডজন জাহাজ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ৪৭
ইরানের অন্যতম প্রধান বন্দর ইমাম খোমেনির অদূরে অন্তত ২৫টি পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করে আছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে নিজেদের সমুদ্রবন্দর সীমার বাইরে ইরানের কয়েক ডজন বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করে আছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জাহাজ চলাচল সূত্র এবং পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্যের বরাতে এই খবর দিয়ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

জাহাজ চলাচলের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের শঙ্কায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে জাহাজগুলো বন্দর থেকে বাইরে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়েছে। সাধারণত বন্দরের ভেতরে বা কাছাকাছি থাকলে বিমান হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি জাহাজেরও বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। আর তা এড়াতেই এই কৌশল নিয়েছে জাহাজগুলো।

এর আগে বুধবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু সেনাসদস্য ও কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে। ইরানের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন যদি কোনো হামলা চালায়, তবে তেহরান ওই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে। এরপরই সেনাসদস্য ও কর্মী সরানোর উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের তেল বাণিজ্য সমুদ্রপথের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা ‘পোল স্টার গ্লোবাল’-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে ইরানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইইজেড) তেলের ট্যাংকারের সংখ্যা ১টি থেকে বেড়ে ৩৬টিতে দাঁড়িয়েছে। পারস্য উপসাগর ও ক্যাস্পিয়ান উপকূলের ১২ নটিক্যাল মাইলের আঞ্চলিক জলসীমার ২৪ মাইল পর্যন্ত ইরানের ইইজেড অঞ্চলটি বিস্তৃত।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম প্রধান বন্দর ইমাম খোমেনির অদূরে অন্তত ২৫টি বাল্ক ক্যারিয়ার (পণ্যবাহী জাহাজ) নোঙর করে আছে। এছাড়া বন্দর আব্বাস উপকূলের কাছে আরও ২৫টি কন্টেইনার ও কার্গো জাহাজ নোঙর করে আছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে বন্দর আব্বাসকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এছাড়া গত বছরের এপ্রিলে সেখানে এক রহস্যজনক বিস্ফোরণে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ অবশ্য ওই বিস্ফোরণকে নাশকতামূলক হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল।

বর্তমানে ইরান সরকার ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ দমনে ব্যস্ত। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কম্বাইন্ড মেরিটাইম ফোর্স এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালী এলাকায় জিপিএস (জিপিএস) বা জিএনএসএস (জিএনএসএস) কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ বা বিঘ্ন ঘটার হার অনেক বেড়েছে।

ওই বার্তায় আরও বলা হয়েছে, চলমান রাজনৈতিক উত্তজনা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এমনটি হতে পারে। ফলে এই রুটে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর তা প্রভাব ফেলতে পারে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত